অকপটের দুনিয়াতে আপনাকে স্বাগতম

আপনি কি ঘটে চলা কোনো রাজনীতির ঘটনা পরম্পরায় খুশি? বা বিতৃষ্ণ!! বা আহ্লাদিত? ধর্মের ভারী ভারী বাণীগুলো ব্যাখ্য করতে পারছেন না? আপনার ব্যাখ্যা আর সকল কে জানাতে চান? নতুন কোনো গল্প পড়লেন? সদ্য দেখা কোনো ফিল্মের বিষয় নিয়ে আপনার মতামত ভাগ করতে চাইছেন ? সামাজিক অবক্ষয় আপনার মনে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে? কোনো একটা বিষয়কে যুক্তির জালে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে চাইছেন? বা কোনো যুক্তি কে খন্ডন করতে চাইছেন, তর্ক দিয়ে?

চেনা অচেনা গানের সুর চোখ বুজলেই শুনতে পাচ্ছেন ? একা ঘরে বসে সঙ্গী পাচ্ছেন না? আপনার মাথায় একটা গল্পের প্লট ঘুরঘুর করছে! বা মাঝরাত্রে কবিতা পেয়েছে? প্রেমে পাগল হয়ে যাচ্ছেন, আর সেই সুখের কথা বলার লোক নেই? মনের মধ্যে আদিরসের সঞ্চার হয়েছে? বৃহন্নলার রমন সুখে ঘৃতাহুতি দেওয়ার ইচ্ছা প্রবল আদিরসাত্মক ঢামালি সহকারে? নিশ্চই আপনার ভবম হাজামের মত অবস্থা? তাহলে আর ভাবনা কেন, আপনি সঠিক গন্তব্যেই তো এসেছেন। মন খুলে আপনার মনের ভালো লাগা মন্দ লাগা চিৎকার করে ব্যক্ত করুন, সাদা কালো অক্ষরে। ভালো লাগলে সুদীপ্ত থুড়ি গৌরী সেন হয়ে যান, মন খুলে প্রশংসা করুন। অপছন্দ হলে? মনের ঝাল মিটিয়ে নিন চুটিয়ে সুললিত কাব্যিক “খিস্তি” সহকারে ।

কারো কোনো পোস্টে ব্যক্তি আক্রমণ, কদর্য বা অশালীন ভাষা প্রয়োগ বা সাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম ও জাতি নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট ছাড়া যা খুশি করতে থাকুন।
আসরাফুল আমীনের সংযোজনঃ-

“এটা #অকপট কমিউনিটি, মন খুলে মনের কথা বলার জায়গা। তার মানে এখানে যে পোষ্ট গুলো থাকবে সেটা সবার মনোঃপুত নাও হতে পারে, আপনার বা আমার চিন্তাধারার সঙ্গে নাও মিলতে পারে, এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে যে আমদের সবার চিন্তাধারা কোনো না কোনো নির্দিষ্ট ভাবাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত; যেমন নিরীশ্বরবাদ বা apoliticality এর মতো চিন্তাধারাও ভাবাদর্শের উর্দ্ধে নয়, কেননা মূলধারার সামাজিক-ধর্মীয়/ রাজনৈতিক মতাদর্শর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাটাও কিন্তু ভাবাদর্শের মধ্যেই পরে! তো যাই হোক, কথা হচ্ছে, আপনার/আমার চিন্তাধারার সঙ্গে মেলে না এমন কণ্ঠস্বর গুলোর আমরা সমালোচনামূলক বিরোধিতা করবো, যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করবো; কিন্তু পোষ্ট এর পিছনে কোন “ষড়যন্ত্রের গন্ধ” শুকতে যাবো না; অর্থাৎ আমাদের মতবিরোধ- মতানৈক্য হতে পারে কিন্তু যিনি পোষ্ট করেছেন তার প্রতি আমরা কোন ব্যাক্তিগত আক্রমনের পথে হাটবো না; এখানে কোনো “আমরা-ওরা” পক্ষ নেই, সকলেই অকপট পক্ষ। তাই কোনো পোষ্ট কেই “আমরা-ওরা” দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখবো না, এটা আমাদের অঙ্গীকার। আমরা ধরে নিতেই পারি এই কমিউনিটির সবাই ‘শিক্ষিত’, রুচিশীল; তাই রুচিহীনভাবে ব্যাক্তিগত আক্রমনের পথে না গিয়ে আমরা সবাই পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের নৈতিক অবস্থানে অটল থাকবো।

অর্থ, সৌন্দর্য, বল, অহং সকল কিছু একসময় পর গত হয়। তাই রোজগার যদি কিছু করতে হয় সেটা সম্পর্ক রোজগার করা হোক। মৃত্যুর পরেও এটাই আয় দেয়। বন্ধুত্বের অমলিন সম্পর্ক। প্রচেষ্টা থাক সৃষ্টিশীল কিছু করার, একা পারিনা বা ক্ষমতা নেই যাঁদের এটা তাদের ঠেক হয়ে উঠুক। ঝগড়া করতে গেলেও সম্পর্ক প্রয়োজন, নতুবা অচেনা মানুষের সাথে কি কোনোদিন কোমর বেঁধে ঝগড়া করেছে? মনে মনে ভেবেছেন “ধুর বাল মরুকগে যাক”। রাগ একটা অপার্থিব অনুভূতি, সেটার যুক্তিগ্রাহ্য পরিমিত ব্যাবহারই প্রজ্ঞার পরিচয়। অনেকেই রাজনীতি বা ধর্ম নিয়ে মূর্খের স্বর্গে বাস করেন। অকপটে ধর্ম থেকে রাজনীতি, গোমূত্র থেকে কামসূত্র, ঝুঙ্কু মামনির বাম্প থেকে ডোনান্ড ট্রাম্প, সনাতনী-ইসলামী-আদিবাসী-খীষ্ট্রীয়-শিখ-জৈন সহ সব সব সব মতবাদের জন্য মুক্ত মঞ্চ অকপট। সকল প্রকার রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভাবপ্রকাশের পীঠস্থান। কারন আমারা সকলেই কোনো না কোনো ধর্মের অন্তর্গত। আস্তিকদের নাহয় সমস্যা মিটল এখন যদি আমরা নিজেদের নাস্তিক বলেও দাবি করি, পারতপক্ষে আমাদের নাম বা পদবী অবশ্যই নির্দিষ্ট একটি ‘ধর্ম সংস্কৃতি’র ধারক ও বাহক। ধর্মবিশ্বাসী না হয়েও ধর্ম থেকে কখনই মুক্ত নন, কারন আমাদের দেশে জন্ম থেকে মৃত্যু, আনন্দ উৎসব ছুটি ভ্রমণের অধিকাংশটাই ধর্ম কেন্দ্রিক।

তাহলে আগাগোড়া ধর্মে মোড়া হয়ে অকপটে এসে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র মত সতীপনার জাইগা নেই। তবে ধার্মিক, ধর্ম আলোচনা বা ধর্মের বাণীকে ধর্মান্ধতা বা ফতোয়ার সাথে গুলিয়ে, এক পংক্তিতে ফেলার মত নির্বুদ্ধিতা দেখাবেননা দয়াকরে।

ঠিক তেমনই রাজনীতি নিয়েও অনেকে গন্ধ শুঁকে বেড়ান। অকপটে রাজনীতি! তাহবে বাবা থাকবনা। ঠিক বলেছেন এটা আপনার সমাজ নয়, আপনি আসতে পারেন। আপনি যে “টারবিনকু গ্রহ” থেকে এসেছেন সেখানে রাজনীতির ভূমিকা কি জানিনা, কিন্তু আমাদের দেশ ভারতবর্ষ বা রাজ্য পশ্চিমবাংলাতে সকল কিছুই দিনের শেষে রাজনীতিময়। পঞ্চায়েরি রাজের মাধ্যমে জনগণের মাঝে রাজনৈতিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আপনি ব্যাক্তি মোদী-মমতা- রাহুল ভক্ত হতেই পারেন তাতে কারো ক্ষতিও নেই লজ্জাও নেই। সিপিএম-কং-বিজেপি-তৃণমূল হতেই পারেন বা নিতান্তই অরাজনৈতিক ব্যাক্তি। আমাদের সমাজ, আমাদের রুজি রোজগার, আমাদের ভবিষ্যৎ, দেশের ভবিষ্যৎ সবটাই ঠিক করে দেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতানেত্রীরাই। দেশের আমলাতন্ত্রের শীর্ষে তারাই নীতি নির্ধারন করেন, যারা রাজনীতি করেন। তাহলে গোটা দেশের কোনোকিছুই যখন রাজনীতির উর্ধে নয়, তখন অকপট কেন রাজনীতির বাইরে নির্জীব উইপোকার ঢিপী হয়ে রয়ে যাবে? শুধু কবিতা, গল্প, ট্রল, মিম, বা নীতি কথার গল্প, লতা-পাতা-ফুল-বৃষ্টির জন্য ১০১টা গ্রুপ আছে, অকপট আপনার জন্য নয়, আপনিও অকপটু নন। তবে মগজটা সাফসুতরো আর দর্শনটা বহুমাত্রিক রাখবেন সহনশীলতার সহজিয়া সহ, অকপট আর স্বেচ্ছাচার এক বস্তুর নাম নয়। জানার নাম জ্ঞান নয়, মানার নাম জ্ঞান।

আপনি আপনার ধর্মকে ভালোবাসেন, ধর্মের অপমান সহ্য করতে পারেন না, ধর্মের নামে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করেন এবং সেটা অন্য ধর্মকে খাটো করে, গালাগাল দিয়ে। খুব ভালো, আপনি সাচ্চা ধার্মিক উপাধি পেয়ে গেলেন ও জিতে গেলেন। কিন্তু মশাই, ধর্ম পালন ক’বেলা করেন? ধর্ম কী তা বোঝেন তো? আপনার ধর্ম যেভাবে জীবন যাপন করতে বলেছে সেভাবে করেন? ভাষাগত ফারাকে দান-ধ্যান-উপাসনা-জপ-তপ-প্রার্থনা-ক্ষমা মোটামুটিভাবে এগুলোই তো সব ধর্মের মূল কথা। কোনো ধর্মে অন্য ধর্মকে খাটো করা, গালাগাল দেয়া , অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষকে হেয় করার আদেশ,নির্দেশ, উপদেশ আছে? থাকলে আপনি আপনার স্বজাতীয় মানুষের গোষ্ঠী খুঁজে নিন, অকপট আপনার জন্য নয়।

ধর্ম প্রচার করছেন ! ভাল কথা কিন্তু অন্য ধর্মকে হেয় করার আগে নিজে খাঁটি ধার্মিক হয়ে নিন; বস্তু জীবনে কাজে দেবে। যদ্দিন ভিন্ন ধর্মকে, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষকে সম্মান, শ্রদ্ধা করতে পারবেন না , তদ্দিন ধর্ম নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। লেবু বেশী কচলালে তেতো হয়ে যায়। অন্য ধর্মকে আক্রমণ করে যদি নিজ ধর্মকে মহান করতে চান তবে ভুল ট্র্যাকে আছেন আপনি। বাস্তবে দেখা যায় মুসলমান বসের পা চাঁটা কেরানী বাবু মারাত্বক ফেবু হিন্দুবীর, আবার চোলাই খেয়ে মাতাল যার হিন্দুবাবুর জমি ঠিকে না করলে পেট চলেনা তিনি ইসলামের ঠিকে নিয়ে বসে আছে? ভাইসব আপনাদের ধর্মের এতই দুর্দিন যে আপনার মত গুন্তির বাইরে থাকা “__” ধর্মকে রক্ষা করতে হচ্ছে? এটা কোন ধর্ম যা আপনাদের রক্ষাকবচ দেয়না, সহনশীলতা শেখায়না, ভালবাসার কথা বলেনা, সামাজিকতা শেখায়না? পশুরাও পশুত্বটা নিষ্ঠাভরে পালন করে, আপনি তো মানুষ। আগে মনুষত্বটা শিখুন বা দেখান, পরে না হয় ধর্ম শিখবেন।

পুনশ্চঃ- ল্যাচ্ছোর

অকপট ভাষ্য সর্বদাই কঠিন পাচ্য, এবং ইহা যুগে যুগে স্বীকৃত ও প্রমানিত। তাহা না হইলে গ্যালিলিও হইতে অধুনা গৌরি লঙ্কেশ কাহাকেউ বেঘোরে প্রান হারাইতে হইত না। মনুষ্য জাতি আত্মবিশ্লেষণে বড্ড আত্মশ্লাঘা অনুভব করে। তাহাদের শুধু পছন্দ অন্যের দ্বারা স্তুতি, আত্মস্তুতি। অন্যথা হইলেই খড়গহস্ত, একা একা হইলে সামান্য অপেক্ষা, দলগঠনের তরে। কারণ বরাহের দল সর্বদায় দল বাঁধিয়া যাওয়া পছন্দ করে। প্রসঙ্গত বরাহ বিষ্ণুর অন্যতম অবতার। যদিও আমরা নিজেদের শার্দুলরুপেই দেখিয়া থাকি, আরশিতে ও ভার্যার সম্মুখে। কিন্তু একটা কথা, জলজ সর্পের বিষ থাকে না, কিন্তু সাপের যে নামেই ভয়। ওই টুকুই।
যাহাদের অম্লশূল, মশালাদার খাবার দেখে তাদেরও লোভ হয়, কিন্তু রসনাশিক্ত হবার আগেই গুহ্যদেশ শিক্ত হয়ে উঠে তাহাদের। অপকট ভাষ্যও সেইরূপ, খাইবার দরকার নেই, ঝাঁঝেই তুরুক নৃত্য শুরু হইয়া যায়। সুতরাং উপনিত ফলাফল নিখাদ বক্ষশূল। খালি পেটে বমন করিলে কি হয়? দুর্গন্ধ যুক্ত তেতো পিত্ত উদগীরণ হয়। যাহা বমনকারিও সহ্য করিতে অক্ষম। এর পর রয়েছে চক্ষুশূল ও চর্মশূল। সঠিক মলমের পর্যাপ্ত যোগান না থাকিলে, পলায়ন ব্যাতিত উপায়ন্তর থাকে না। যদিও কাহারো কাহারো চুলকাইয়া সুখানুভূতি লভিতে হয়, কারণ ঈশ্বর বৃহন্নলাদিগকে প্রকৃতিগত ভাবেই নির্বীজ করিয়া রাখিয়াছেন। ইহাতে আমি আপনি নিতান্তই অসহায়।

ঈশ্বরের কথায় স্মরণে আসলো যে, তিনি নিজেই তো ব্যাক্তি স্বাধীনতার চরম বিরোধী। না হইলে আদমকে নিষিদ্ধ ফলের শর্ত কেন দিতেন? সবই দিলেই, শুধু একটি অধিকার দিলেন না, কোন মানে হয়? যারা আদমের অভ্যন্তরে কৌতুহলের সঞ্চার ঘটাইয়াছিল, ডিনামাইটের মত কিউরিওসিটির বীজ তো ঈশ্বর নিজেই স্বহস্তে বুনিয়াছিলেন। এ তো গেল আব্রাহামীয়। সনাতনেও এই ধরনের ঘটনা আকছার। উদাহরন ভুঁড়ি ভুঁড়ি, সে না হয় আরেকদিন দেওয়া যাইবে ক্ষণ। তাই পরমেশ্বরও অকপট সহ্য করতে পারেন না।
সেখানে আমরা মনুষ্য তো …ফুহ…..

বাকি রইলো আইন। ধুশ। সে শালীও জং ধরা তলোয়ার নিয়ে চোখে কালো কাপড় বেঁধে ছিনাল পোজে দাঁড়িয়ে। উনি পটের বিবি, পটে আছেন তবে অকপটে ওনারও এলার্জি। নাহলে ২০ বছর জেল খাটার পর কেউ কেউ বেকসুর খালাস হত না। আমরাও অকপটের প্র্যােক্টিস করছি মাত্র। ডাক্তার চিকিৎসার প্র্যা ক্টিস করতে পারে স্বগর্বে, উকিলেরা পারে আইনের প্র্যােক্টিস করতে। সবই কি সফল? উত্তর না। সফল হলে নামটা কি প্র্যাবক্টিস হতো? তাহলে আমরা মানে উন্মাদের দল অকপটের প্র্যানক্টিস কেন পারবো না? আর করলেই গেল গেল রব কেন উঠে? আমাদের বিশেষ ছাপ মারা কোনো জাত নেই, লিঙ্গ নেই, আমরা কেও বিশেষ হনু নই, আমাদের তেমন বলার মত মানও নেই। আমাদের শুধু জান আছে, যাকে কলজে বলে। আমরা জানদার, অন্তত তেমনটাই মনে হয় নিজেদের। মন আছে বিলি করার মত। অনুভূতি আছে ভাগ করে নেবার মত। বাকিটা অন্যে বলবে। যদিও এও একপ্রকার আত্মস্তুতি। আমরা নিজেদের জিরাফ ভাবতেই পছন্দ করি।

পরিযায়ীর দল আসবে যাবে, এটাই নিয়ম। হয়ত আমরা ডেকে ডেকেই নিয়ে আসবো, না পোষালে চলে যাবার সম্পূর্ন অধিকার রয়েছে, অকপটে। আমরা কোন স্বজাতী স্ববর্ণ স্বধর্মের মানুষকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না জানাবোনা, আমরা মননশীলদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যারা বিনিময় করতে জানেন। মনের ভাব বিনিময় করেই দেখুন না। নিজেই দেখবেন, খাঁচার ভিতর অচিন পাখী কেমনে আসে যায়! নিজস্বতা নিয়ে স্বপ্রতিভ থাকুন। কাঠি করলে বিনিময়ে কাঠিই পাবেন। ফ্লাইং কিস দিলে এঁটো করে হামি খাবো সমবেতভাবে, তাও বিনামূল্যে। তাহলে মিছিমিছি হয়রানি কেন! কেও বলে রাম তো কেও বলে হারাম। বলুক , নিশ্চিত অধিকার তো জুকারবাবাই দিয়ে রেখেছেন। কেও বলে আইসিস তো কেও বলে নির্বিষ। যেন স্ট্যাম্প মারতে না পারলে মোক্ষ লাভ নেই। আরে বাবা লাভজিহাদ তো সকল ধর্মেই স্বীকৃত। সেটাই না হয় করুন। বেশ ভালবাসাময় ওয়েদারে। কেমন হয় এটা যদি হয়।করেই দেখুন কয়েকটা দিন। পাবলিক বাসে সাওয়ারি করলে কি অন্যের ঘামের গন্ধ সইতে হয় না? প্রাইভেট কার আর কজনের সামর্থে থাকে!! থাকি রশেবসে।

এটাই অকপট প্র্যা ক্টিস।কারো ধামাধরা নয় এই গ্রুপ। রাম- রহিমের একটাই কাঁথা, সরি ইনি ম্যাসেঞ্জার অফ গড নন।থাকুক যুক্তি থাকুক তর্ক, আর থাকুক দেদার মজা।কিছু জরুরী নিয়মাবলীর জন্য চোখ রাখুন নীচে…
এডমিন-মর্ডারেটরদের পাশাপাশি মেম্বারদের মধ্যে সচেতনতা ও সহযোগিতা না থাকলে সুষ্ঠভাবে গ্রুপ পরিচালনা করা অসম্ভব।

1. নিজের লেখা না হলে, পরিষ্কার করে লেখকের নাম লিখতে হবে, লেখকের নাম জানা না থাকলে ‘সংগৃহীত’ কথাটা লিখতেই হবে। নচেৎ যেকোনো ঝামেলাতে পোষ্ট ডিলিট হবে। আসল লেখককে খুঁজে বার করার দায় বা সম্ভব কোনোটাই গ্রুপের তথা এডমিনদের নেই ।

2. প্রত্যক্ষ ভাবে রাজনৈতিক দলের বা নেতার প্রচারমূলক পোষ্ট করা যাবেনা। এই গ্রুপ কোনো নির্দিষ্ট দলের মুখপত্র নয়, তবে মতাদর্শমূলক পোষ্ট আলোচোনার জন্য করা যেতেই পারে।

3. প্রতিটি পোষ্টের যাবতীয় দায় একমাত্র পোষ্ট কর্তা/কর্তীর। গ্রুপ বা এডমিন কোনো দায় নেবেনা।

4. কোনো সুপ্রভাত বা শুভ সন্ধ্যা বা শুভরাত্রি পোষ্ট সারাদিনে একটিই হবে, সেটা যিনি প্রথম করবেন সেটিই। বাকিগুলো বাইচান্স পোষ্ট হয়ে গেলেও দেখা মাত্র ডিলিট হবে। এছাড়া স্ন্যাপ ট্রল বা থ্রেড গুলোর মাত্রাধিক্যের ভিড়ে মৌলিক রচনা সমৃদ্ধ লেখাগুলি হারিয়ে যায়। ওই লেখকদের উৎসাহ দেওয়াটা আমাদের কর্তব্য। খারাপ হলে শালীনতার সাথে নিন্দা করুন, কোনো অসুবিধা নেই।

5. ধর্মীয় উস্কানি মূলক পোষ্ট দেখা মাত্র উড়বে। এর কোনো আমরা-ওরা বিভেদ নেই। বাকি যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শগত পোষ্টে অরুচি নেই। কারণ আমাদের জীবন জীবিকা সর্বত্রই রাজনীতি। তাই রাজনীতিকে বাদ দিয়ে অকপট হয় না।

6. নিতান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কারণ ছাড়া কোনো ধরনের ‘নিউজলিঙ্ক’ পোষ্ট হবেনা।

7. বহু গ্রুপের ভবঘুরে খাজা জোকস গ্রুপে এলাও হবেনা।

8. সদ্যসেরা একটানা পোষ্ট করবেন না, অন্যের পোষ্টকেও সুযোগদিন। নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরেই পোষ্ট করুন। বহু সদস্য আছেন যারা, প্রতি আধা ঘন্টা অন্তর অন্তর ২ লাইনের থ্রেড ছেড়ে দিচ্ছেন, এগুলোর বিষয়ে সচেতন হোন।

9. অন্য কোন গ্রুপ, পেজ বা ব্যাক্তির বিজ্ঞাপন মূলক পোষ্ট যাবেনা। সাহায্যমূলক পোষ্ট এডমিনদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তবেই অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।

10. মেম্বারদের কাছে অনুরোধ আপনারা ডাইরেক্ট থ্রেডে পোষ্ট করুন। কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটিংস এর সমস্যা থাকে, অর্ধেক সদস্য দেখতে পান, বাকিরা এটাচমেন্ট আনএভেলেবেল দেখেন। টাইমলাইনের শেয়ার পোষ্ট এলাও হবেনা কোনো ভাবেই।

11. কমেন্টে অহেতুক উল্টোপাল্টা লিখে উত্তেজনা তৈরী করলে, তিনি যে দড়ের সদস্যই হোকনা কেন তাকে মুক্ত করে দেওয়া হবে গ্রুপ থেকে।

12. গ্রুপের ঐক্যকে ভঙ্গকারি বা বন্ধুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারি বা গ্রুপের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর যেকোন পোষ্ট বা কমেন্ট বা সদস্যকে (এডমিন হলেও) বিনা সময়ব্যায়ে বহিষ্কার করা হবে। ব্যাক্তি আক্রমন করলে নজরে আসা মাত্রই হুঁশিয়ার কর হবে, তাতেও সংযত না হলে তাকে অকপট থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।

13. গ্রুপ একটা মনোজ্ঞ আড্ডার স্থান, এটাকে মহিলা বান্ধবী ধরার ফাঁদ হিসাবে দেখবেন না। আপনার পোষ্টে কেও সুন্দর কমেন্ট করেছে মানেই তার ইনবক্সে গিয়ে নিজের ক্যালমা দেখাবার ছাড়পত্র পাননি। গ্রুপের মহিলা সদস্যদের সাথে যেকোনো ধরনের অভব্যতা করলে আমরা সমবেত ভাবে আপনার প্রোফাইলকে রিপোর্ট করে আপনাকে পুরষ্কিত করবো।

14. কোন মেম্বার কোনো অ্যাডমিনকে ব্লক করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে কোন ওয়ার্নিং ছাড়াই তাকে গ্রুপ থেকে বহিষ্কৃত করা হবে।

15. আপনারা যারা নিয়মিত পাঠক, আমাদের মাননীয় লেখকদের বিভিন্ন লেখার গঠনমূলক সমালোচনা করুন, প্রয়োজনে গ্রুপেরও গঠনমূলক সমালোচনা করুন, আমরা স্বাগত জানাতে বাধ্য।

16. আপনি অন্য গ্রুপের এডমিন বা পেজের কর্তা। অকপটের সাথে কোনো বিবাদ নেই আপনার, কিন্তু অকপট থেকে খ্যাপলা জাল দিয়ে কুম্ভিলক বৃত্তি সহ, পোষ্ট-ভাবনা, সদস্য ইত্যাদি গেড়ি-গুগলি ধরার চেষ্টা করলে আপনাকে অর্ধচন্দ্র দেখাবো দায়িত্ব সহকারে।

17. অকপট গ্রুপের থেকে আমরা কয়েকজন মিলে অকপট সাহিত্য পত্রিকা, অকপট প্রকাশনী, ও অকপট ফাউন্ডেশন গঠন করে কিছু সৃজনশীল ও সামাজিক সহায়তা মূলক সেচ্ছাসেবার কর্মে নিয়োজিত। প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা আলাদা পরিচালন পর্ষদ রয়েছে, অকপট গ্রুপের মেম্বার বা এডমিন মানেই সকল কিছুর ঠিকেদারি পেয়ে যাওয়া নয়। আপনি হয়ে উঠতে পারেন এই দিলের সদস্য, নির্দিষ্ট যোগ্যোতা অর্জনের মাধ্যমে।

18. এডমিনেরা আগে ভাল সদস্য তার জন্যই এডমিন। তাই তারা নিষ্কাম সন্ত প্রজাতির সেটা ভেবে নেওয়ার কোনো কারন নেই। আমাদের মডারেটর পদটি অধিকাংশ ভাল সদস্যদের ডাইরেক্ট পোষ্ট করতে পারার জন্য সৃষ্টি। আর এডমিন বা মডারেটররা কেউ বেতনভুক কর্মচারী নন যে তাদের ডাকলেই দমকলের ইঞ্জিনের মত ঘন্টি বাজাতে বাজাতে হাজির হয়ে যাবেন। আপনি ঝামেলা তৈরি করলে বা আপনাকে নিয়ে ঝামেলা হলে সেই দায় আপনার, এডমিনেরা সত্যের পক্ষ নেবেন সম্পর্কের নয়।

19. অকপট একটা সমাজের নাম, যে সমাজে আমি আপনি সকলে বাস করি, তাই একে দূষিত করবেননা। তাই সোনার পাথরবাটি খুঁজবেন না। এটা শুধুমাত্র কোনো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা জনজাতি বা গোষ্ঠীর গ্রুপ নয়, অকপট শ্যাম-শামিম, উচ্চ-নীচ, পূর্ব-পশ্চিম, বাম-রাম (আর মাঝের সকলের) সহাবস্থান। আসুন একে লালন করি, যেন গর্ব করে বলতে পারি আমরা অকপটু সেই স্বাতন্ত্রতা তৈরি হোক।

এটা ফেসবুক, পুরাকালের চণ্ডীমণ্ডপ বা রক কালচারের এক আধুনিক রূপ; প্রতিদিন আমরা রাজনীতি-শিক্ষা-শিল্প-সমকাল-কৃষ্টি-সভ্যতা-সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ের সমালোচনা করে চলেছি। আজকের নবরত্ন সভায় রত্ন হবার সকলেই যোগ্য দাবিদার। ধার্মিক মেরুকরণের যুগে যেখানে গোটা রাষ্ট্র শক্তি ধার্মিক উন্মদদের দ্বারা পরিচালিত, সেখানে মুক্ত ভাবনারা বড়ই অনাথ। তার পরেও সমমনোভাবাপন্ন মানুষদের মিলনমেলা এই অকপট, আমি ও তুই নয় আমাদের মন্ত্র ‘আমরা’।

জ্ঞানী হলে যুক্তি দিয়ে গপ্পো বা প্রবন্ধ লিখুন, আর তার্কিক হলে আর অন্যের লেখাকে খন্ডন করুন তথ্য দিয়ে। আর জ্ঞানপাপী হলে চুলকিয়ে আমোদ করুন যতটা অন্যের আচড়ানো সইতে পারবেন। কুমড়োপটাসকে পছন্দ হলে মেঘমুলুকে ঝাপসা রাতে আবৃত্তি করতে করতে, মজারু জোকসের তালে তালে নাচতে নাচতে হাসতে থাকুন, হাসতে হাসতে তক্কো করুন, তক্কের ছলে আত্মীয়তা গড়ে উঠুক। আমরা-ওরা, এপাড়া-বেপাড়া, বেয়াড়া-আঁতেল, সক্কলের জন্য একটাই হুঁকো, দাও টান গড়গড়ায়, ভরা বাজারে না বলতে পারা কথাগুলোকে দিন প্রসব করিয়ে অকপটে। গলার থুরি পেনের জোরের পরীক্ষা করে নিন, কিসমে কিতনা হ্যায় দম। তার সাথে আপনার ধৈর্য ও সহ্য শক্তিরও পরীক্ষা হয়েই যাক।

এটা প্রাপ্তমনস্কদের ঠেক, সুতরাং ইনহিবিশন ঝেড়ে পুঁছে আসুন, সানফ্রানসিসকো থেকে সানী লিওনি সব একই ব্রহ্মে কেন্দ্রীভূত। বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানিয়ে নিন, যেখানে ক্রমশঃ মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। এখানে সকলেই পাঠক আর সকলেই সমালোচক ‘অকপটে’। সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি যেখানে ‘চাষ করি আনন্দের’ খুশিটা থাকবে। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন সমাজ, চোখে আঙুল দিয়ে ভুল গুলো ধরিয়ে দিই। ৬ ইঞ্চি লিঙ্গ থেকে ৫৬ ইঞ্চি ছাতি, সব খবরই দিন। যৌনতায় মাখামাখি হোক না, লিখতে পারলে যে গালিগালাজও সাহিত্য হয় নবারুণের ফ্যাতারু সিরিজ আমাদের কাছে পথিকৃৎ, শুধু পর্ন আর যৌনতার পার্থক্যটুকু বুঝলেই হবে।

পাতি বাংলাকথা, গ্রুপটা হচ্ছে পাড়ার ঠেকের মত বা চণ্ডীমন্ডপের আড্ডা। সেখানে কেও মাল খেয়ে এসে বাওয়ালি করলে যেমন ঘাড় ধরে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়, এখানেও ঠিক তাই হবে। নিজেদের সমৃদ্ধ করি আলাদা আলাদা পরিমণ্ডল আলাদা আলাদা প্রদেশের আলাদা মননের মানুষের ভাবনার রঙমিলান্তি; যেখানে বিরিয়ানি দেখে হামলে পরা পাবলিক থেকে ‘আমি ভীষণ একা’ বলা পাবলিক ডুগি-তবলার যুগলবন্দী সেজে সুরের মূর্চ্ছনা তোলে।

বুদ্ধির ঘরে ধোঁয়া দিয়ে বা চায়ের পেয়ালায় তুফান তুলতে তুলতে, দু’দণ্ড সুখ দুঃখের গপ্পো গাছা করতে ইচ্ছা করলে তাই ই করুন। এখানে লেখক-সাহিত্যিক-কবি বা বুদ্ধীজীবী বা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হবার দরকার নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই, মা মনে আসবে যখন মনে আসবে, সেটাই লিখুন তখনি লিখুন। শেখার চেষ্টা করুন কীভাবে লেখে, পাঠক হল সবার আগে। চপ শিল্প থেকে তোলা শিল্প, যেটা যানেন- সেই বিষয়েই জ্ঞান ঝাড়ুন। অন্যের লেখায় আপনার মতামত দিন অকপটে।

এডিটিং-এর মাতব্বরি, কেবল গালিগালাজ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়। কারো কোন পোস্টে ব্যক্তি আক্রমণ, কদর্য বা অশালীন ভাষা প্রয়োগ বা সাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম ও জাতি নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সকলের সুবুদ্ধি, সংযম ও সুবিবেচনা যুক্ত যুক্তি-তক্কের ওপর অত্যন্ত আস্থাশীল।

কাকেশ্বর কুচকুচে থেকে ফ্যাতারু হয়ে ফের মজন্তালি সরকার, অকপটে বলে ফেলুন মনের কথা।

অকপটে অকপট থাকুন। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।

অকপট ধন্যবাদ ।।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *