আমি তোমাকে ভালবাসি

পৃথিবীর প্রতিটি মুহুর্ত একটি বাস্তবতা। শুধু সময়ের অপেক্ষায় সেই সকল বাস্তবতা স্থির হয়ে থাকে। একটু সুযোগ পেলেই যেন কসাইয়ের মতো গায়ের চামড়া তুলতে শুরু করে। এটা একপক্ষে অন্যপক্ষে এমনটি নাও হতে পারে, দেখা যায় অন্যপক্ষে হাতে সেই রুপোর কাঠি আর সোনার কাঠির রাজপুত্রের মতো। রাজ সিংহাসন, রাজরানী, মাধুরীদীক্ষিত আর নামীদামি ব্যান্ডের পণ্য সামগ্রী…. কই কাউকেই তো দেখি না চেমেলীদের খবর নিতে, ভালবাসতে।

আসলে অন্ধকার জগত সৃষ্টি করা যতটা সহজ আলোকিত পৃথিবীর কথা ভাবা ততটা সহজ নয়, যেখানে আলোর কথায় উঠতে বসতে বিদ্রুপের কষাঘাত হৃদয়ে আঘাত দিতে পারে। ধবংস সেখানে খুবই সহজ ক্ষেত্র সে ভালবাসাই হোক আর বেঁচে থাকার নুন্যতম স্থান হউক আদিম জাত পারে না এমন কোন কাজ নেই।

মাঝেমাঝে মনে হয় ভালবাসা যেন সেই পুলসূরাত আবার ভুলে যাই ভাবতে থাকি ভালবাসা মানেই প্রতারণা, ভালবাসা মানে হাওয়ায় ভাসা কিছু বডি স্প্রে। ভালবাসতে পারিনি এমন কাউকে সেটা বলতে পারবো না। শত সহস্র আঘাতের পরেও ভালবাসা চেয়েছি ভালবাসা পেয়েছি ভালবাসার পিছু ছুটেছি। পরিশেষে ভালবাসা বলে কিছুই নেই। ভালবাসা মানেই সস্তা কিছু রসিকতা, ভালবাসা মানেই বিলাসীতার গোলামী, ভালবাসা মানেই দুষ্ট লোকের মিষ্টি মিষ্টি কথার প্রতারণা। অনেক গুলো বসন্ত এভাবে ঝরে পড়েছে যেখানে ভালবাসার স্পর্শের ঘাটতটি ছিলো বলে ভালবাসা দুর্বল ভেবে হারিয়ে গেছে। যখন এমনটি হয়েছে তার পরক্ষণেই মনে হয়েছে ভালবাসা মানে দুটি দেহের কিছু নোংরা ঘ্রাণের মিশ্রণ। সাদা পাউডারকে গুলিয়ে তরলে পরিণত করা। ঠিক এসিড ধর্ম।

কথায় বলে নারীর বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। আমার কথা হলো যাকে ভালবাসি তার নিকট থেকে নিজের প্রাপ্যটা কেন বুঝে নিতে চাইবো না। যদি মনের ভেতর এমন বাসনা লুকিয়ে থাকে তাহলে চাইতে সমস্যা কি, স্বল্প মূল্যে অল্প স্পর্শ। এমনটি পারিনি বলেই হয়তো আজও ভালবাসা আমার শত্রু, ভালবাসা আমার আজরাঈল।

স্বপ্নপূরণের আলোক রশ্মি দেখেই তো হাজার কিলো কয়েক মিনিটেই তোমার নিকট চলে যাওয়া। না বলা কথা, না দেখা অনুভব, না বুঝা অনুভূতি সবকুটুই বুঝি নিতে চাই আজ। আজ আমি অন্ধগলির বাসিন্দা। তোমার লুকানো ঘ্রাণ অনুভব করতে চাই। প্রতারিত হতে চাই না, তোমায় পেয়েও হারাতে চাই না। তুমি না চাইলেও আজ আমি তোমার লুকায়িত জলের ঘ্রাণ নিতে মরিয়া। হারাতে চাই না গত হয়ে যাওয়া সকল স্মৃতি। সামান্য স্পর্শটুকুও।

বৌরি আবহাওয়ায় শরীরটা বেশ শীতল হয়ে গেছে। আকাশের কান্না বেড়েই চলেছে। কেন যে আকাশের এতো কান্না আজ বুঝতে পারছি না। কল্পনার সেই রংধনুগুলো তবুও মনের আকাশটাকে সাজিয়ে রেখেছে। প্রকৃতির বেদনাময় কান্নাকে যখন অনুভব করি তখন মনে হয় বড় ভুল পথে হাটছি এই যাত্রায়। আবার মনকে সান্ত্বনা দিয়ে বলি তুমি যতই কান্না করো না কেন আজ আর আমি আমার পথ থেকে পিছু পা হবো না। হারাতে চাই না গত হয়ে যাওয়ার মতো এবারের ভালবাসা। স্মৃতি যে আমায় সৃষ্টি করতেই হবে। হারাতে চাই ভালবাসা।

কাঙ্খিত সময় শেষ, দুটি মনের দেখা, দুটি চোখের না বলা কথাগুলো মিষ্টি মিষ্টি হাসিতে হৃদয়ের বিনিময় করে নেয়া। এখনোও শরীরের শীতলা কাটেনি। আকাশের কান্নাও থামেনি। এদিক ওদিক তাকিয়ে সময়ে নৌকার সেই পঙ্খীরাজে চলে ঘুরে বেড়ানো।

কি আজব এ পৃথিবী, কি আজব আলো কিরণ নেই, অনলের কোন শিখা নেই তবুও কেন জানি একটু একটু করে শীতলতা কেটে যাচ্ছে। উষ্ণতা বেড়ে চলেছে শরীরের। অন্যদিকে আকাশের কান্না যেন বেড়েই চলে। যতই উষ্ণতা অনুভব করছি ততই আকাশ অঝরধারায় কান্না করেই চলেছে। যখন আকাশ চিৎকার দিয়ে উঠলো ততক্ষণে অনেকটা স্পর্শে স্পর্শিত ভালবাসা। আলোকিত মানুষ যখন মারা যায় তখন যেমন চারিদিক স্তব্ধ মনে হয় ঠিক তেমনটি আকাশের অবস্থা। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হলো ভালোর জন্য এখন প্রকৃতি কাঁদে। প্রকৃতি কখনোই চায় না অন্ধ গলিতে ভালোর কোন পদচিহ্ন লেগে যাক।

লুকায়িত জলের নোংরা ঘ্রাণ নেয়ার সাহস হয়নি। বাহ্যিক স্পর্শকেই মনে হয়েছে ভালবাসা সময়ে স্বর্গ অসময়ে নরক। ভালবাসা যতদিন নাটাইয়ের সুতোয় বেঁধে রাখা যায় ততদিন ভালবাসায় ভারবাসার আকাঙ্খা বিরাজ করে। যে বা যারা ভালবাসার নীলনকশা নিয়ে আমার হাত ধরেছে, সবাইকে বলেছি জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এই তিনটি সৃষ্টিকর্তার হাতে। তুমি আমি চাইলেই আমাদের মিলন হতে পারে না। তবে নষ্ট ভালবাসার মিলনে সময়ের প্রয়োজন হয় না। সেটা ভালবাসা নয় বরং প্রতারণা করা।

আজও ভালবাসার কাঙ্গাল হয়ে মুখ থুবড়ে পারে আছি। ভালবাসার স্পর্শ কেন আজও বুঝতে পারলাম না। আজও মনের তারুণ্যে মনের পছন্দ হলেই ভালবাসাতে শুরু করি। এই ভালবাসা প্রায় সময় নির্জনতায় আমার একান্ত ভালবাসা হয়েই থাকে। ভালবাসার কথা আজও চোখ তুলে বলতে পারলাম না। বন্ধু আছি বেশ তো ভালই আছি, কাছাকাছি আছি। ভালবাসা যে অনেক সময় আপনকে পর করে দেয়। সেই ভালবাসা আমি চাই না। আমার ভালবাসার কোন মূল্য নেই যদি না সে আমায় ভালবাসে। আমি তাকেই ভালবাসবো যে আমায় ভালবাসে।

লেখকঃ রুদ্র আমীন

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *