প্রতিবাদের আপেক্ষিকতা

ফ্রান্সে জঙ্গীহানার জন্য যেকোন ধরনের প্রতিবাদ অবশ্যই কম। কারন এই নৃসংসতা অমানবিক। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করন করে, তাদের খুঁজে বার করে, কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি থেকে শুরুকরে ভবিষ্যতে এধরনের বর্বরতা থেকে সভ্যতাকে বাঁচাতে জোটবেধে সিদ্ধান্ত সবই নেবার প্রয়োজন। শুধু শুধু হাম মারেঙ্গা তাম মারেঙ্গা, লম্ফ মারেঙ্গা ঝম্প মারেঙ্গা বলে মুখে তরপিয়ে লাভ নেই। ওই জন্যই এই নরপশুরা ফাঁক পেয়ে যায়। সমাজকে দুষিত করে তোলে।

কিন্তু আনন্দবাজারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কিছু ছবি দেখে আবার শিউড়ে উঠলাম।

“কে জঙ্গী?
সিরিয়া এই মুহূর্তে একের পর এক বোমারু বিমান হানায় বিধ্বস্ত। রাশিয়া সহ অনান্য প্রথম বিশ্বের দেশের দাবি হামলা চলছে শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই। কিন্তু ঠিক এর উল্টো কথা বলছেন সিরিয়ার সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি একের পর এক হামলায় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সিরিয়ানদের পোস্ট করা একের পর এর ছবি বলছে মিসাইলে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে ইমারত। ভেঙে পড়ছে বসত বাড়ি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে অসহায় শিশুদের রক্তাক্ত মুখের সারি”।

জঙ্গী নির্মূলের নামে এ কি চলছে? কালকে যদি এই বাচ্চাগুলো এই আবহে বড় হয়ে প্রতিশোধের জিগাংঘায় নিজেই মারন বোমা বনে যায়? এই অদক্ষ রাষ্ট্রনায়ক দের দোষেই জন্ম নিচ্ছে এমন কত শত সহস্র জঙ্গী জেহাদী। তেলের লোভে আমেরিকা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে জঙ্গী বানিয়ে ছেরেছে। ইরাক যুদ্ধ যে স্রেফ একটা ধাপ্পা ছিল সেটা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে সম্প্রতি। আসলে এই বর্তমান পশ্চিমি সভ্যতা তেলের জন্য এই ধাপ্পাবাজি দীর্ঘ দিনই খেলে যাচ্ছে। মুষিকের মুষিকই প্রসবই বারবার হচ্ছে, অথচ বাকি বিশ্ব সার্কাসের জোকারের মত মাঝেমাঝে হাততালি দেওয়া বা উচ্চস্বরে বিলাপের বাইরে কিছুই করতে পারেনি। মিডিয়াকে দিয়ে নিজেদের মত খবর বানিয়ে বাজারে পেস করছে। প্রসঙ্গত মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চলের সংখ্যগুরু বাসিন্দাই ইসলাম সম্প্রদায় ভুক্ত। যার অতিসরলীকরণে আমরাও মানে প্রতিটি মুসলমানই আজ প্রায় জঙ্গী। অন্তত সন্দেহ টা আছেই।

আমেরিকায় বন্দুকবাজের ঝামেলা হলে সেটা মানসিক বিকারগ্রস্থের হামলা, আমাদের দেশের মধ্যপ্রদেশে বিস্ফোরণ হলে সেটা গ্যাস বষ্ফোরন, সংবাদ পত্রে খুজেই পাওয়া যাবে না ওই খবর। দুষ্কৃতি তো সকল ধর্ম সকল জাতীদের মধ্যেই বিদ্যমান। কিন্তু মুসলমান হলেই সে জঙ্গী। দেখা যাবে কোন একটা সংগঠন দায় ও স্বীকার করে নিয়েছে। কার কাছে কে দায় স্বীকার করে, এ কথা অবশ্য কখনই জানা যায়না। তাছারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নীতিই হল, নিজের পাদে গন্ধ নেই। কিন্তু অপর কে খুচিয়ে ঘা করে দিয়ে, সেখান থেকে পচা গন্ধ বেড়লেই, ফায়ারিং স্কোয়াড।

এ এক যুগসন্ধিক্ষন সন্দেহ নাই। যে ক্ষমতাবান, সে আজ তার ক্ষমতা দেখাচ্ছে। কাল কালের নিয়মেই আজকের এই পশ্চিমি সাম্রাজ্য অস্ত যাবে। যাবেই। আগেও গেছে। রোমান রা গেছে, মুঘলরা গেছে, ব্রিটিশরা গেছে, সম্প্রতি আমাদের রাজ্যে বামেরাও গেছে। মার্কিনরাও যাবে।

প্রশ্ন হল, রেখে কি যাবে? পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কি থাকবে কিছু অবশিষ্ট?

ধরুন ওই মানব বোমারা নিজে বোমা হয়ে না মরলেও , দেখা যাবে পশ্চিমি বিশ্বের মিসাইলের শিকারে মরবে। যেকোন মুহুর্তে, যে কোন সময়। এর উপর গোদের উপর বিষফোঁড়া উগ্রবাদী ধর্মগুরুরা, অপব্যাখ্যা করে তীব্র মগজ ধোলাই যন্ত্রে পেষণ করে যতক্ষনে বাজারে আসবে, ততক্ষনে তারা আর মানুষ নেই, একটা যন্ত্র। ভয় নেই , বিকার নেই, আর মানবিকতাও নেই। তাই তীব্র একটা ঘৃনা নিয়ে হয়ত সে ফাটবে কোন পশ্চিমি দুনিয়াতে। কোন কারন ছারাই। কিছু নিরীহ মানুষের প্রান বলি হবে। যেমন এদের আত্মীয় স্বজনেরা হচ্ছে আজকের মধ্যপ্রাচ্যে, ইরাকে সিরিয়া গাজায়। তখন তো বাকি অবশিষ্ট দুনিয়া বুক ফাটানো বাপ-মা মরা কান্না জুরবে। সাদা চামরার মৃত্যুই একমাত্র শোকের, বাকিরা তো মড়ার জন্যই জন্মেছে। মালিতে জঙ্গী হামলায় মৃত্যুতে কোন নিউজ কভারেজই নেই। কেন দেবে? ওরা তো কালো চামরার। তাদের মৃত্যু আবার মৃত্য? ছোঃ…

এবার আবার ভাবার সময় হয়েছে বোধহয় বন্ধু।
তাই প্রতিবাদ করতে হলে তার পাল্লাটা টা সমান সমান রাখুন। সকল মৃত্যুই বেদনাদায়ক। কারন পাসের বাড়ি পুরে খাক হয়েগেলে আমার বাড়িতেও যথেষ্ট আঁচ লাগবেই।

ভালবাসারর যেমন কোন ধর্ম থাকেনা, ঘৃনার ও কোন ধর্ম থাকে না।

#তন্ময়

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *