বোকা আমি…

মানুষ কত বোকা।

অন্তত আমার মতে আমি।

কতটা পাবো, সেটা না জেনেই, অনেক টা পাবার আশা করে বসে থাকি। অলীক কল্পনা আসলে সে অশ্ব ডিম্বই প্রসব করে।নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকর্ষনের কারন কি!!! নিছক ঈ খেয়াল বসে!! নাকি ওটা নিষিদ্ধ বলেই? উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে। আর যে জানতো, তার কিছুক্ষন আগে কোমা তে আচ্ছন্ন হয়েছে। তাই এই পৃথিবীর কোলাহল থেকে নি:শব্দে সকলের চোখের আড়ালে একা একা চিকিৎসালয়ে র এই শক্ত বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
আমার প্রানাধিক প্রিয় বন্ধু। আমার বন্ধু যে বর্তমানে সম্পূর্ন রপে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছে।

যতটা না শক পেয়েছি, কোমাতে যাওয়ার জন্য, তার থেকেও বেশি আশ্চর্যের রোগের কারন। আমি একই সাথে আমোদিত, উৎফুল্লিত, ও বেদনার কষ্টে দীর্ণবিদীর্ণ। ও নিজের সাথে নিজেই তো অত্যাচার করেছে, নিজের উপর। ও বেশ কিছুদিন থেকেই জেনেবুঝে আগুনের পাহাড় দেখতে গিয়েছিল। গলিত লাভার ছাই এর উর্বরাশক্তির জোরে উৎপন্ন ঘণ সবুজ বনানি, ওর চোখ কে মোহাবিষ্ট করে দিয়েছিল।নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজে ওর গ্রহনযোগ্যতা কিছুই ওকে আঁটকাতে পারেনি। কিন্তুর প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে দ্রব্যগুন বর্তমান। লঙ্কা খেলে ঝাল লাগবেই, তেমনি তেঁতুল খেলে টক। তা আমরা জেনে খায় বা, না জেনে। এখন সেই নিষিদ্ধ সেই ফল, জেনে হোক বা না জেনে, সে খেয়ে ফেলেছিলো। তার জন্য সে আজ চরম মুল্য দিতে চলেছে।

আসুন, তার জন্য সকলে মিলে একটু পার্থনা করি। যত শিঘ্র, সম্ভব সে যেন মৃত্যু মুখের লেলিহান লকলকে জিহ্বা থেকে নিরিপদ দুরত্বে থেকে, আবার বেঁচে উঠবে। এর জন্য চাই সেবা, শুশ্রূষা, আর শুশ্রূষাকারিণী।

যদি কেও সহৃদয় ব্যাক্তি, অসহায়, সম্বলহীন প্রায় বাউন্ডুলে, চালচুলোহীন, কিন্তু আমার এই অবিচ্ছেদ্য প্রানাধিক বন্ধু কে সুস্থ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বভার নেন, তার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো। আমি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি, মানে আবার বন্ধুর জন্য।

আফিমের নেশা সর্বনাশা, তার থেকেও বড় নেশা ধর্মের নামে শুরশুরির নেশা। কিন্তু কোনোটায় এ নেশার বড় নয়। এ হোলো রাজ রোগ। ক্রমে ক্রমে মানসিক ভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, মানব কুল কে, কর্কট সম রোগ। কখন যে অজান্তে বাঁসা বেঁধে বসবে, তা তো সকলের ঈ অজ্ঞাত। এ হোলো অদৃষ্টের পরিহাসের উপর এক সম্যক নির্যাতন।

আত্মহনন বা আত্মহত্যা খুন করার ঈ সামিল। এ ও এক ধরনের অপরাধমূলক মানসিকতা। অন্যকে খুন করার বদলে, নিজেকেই নিশানা বানানো। কত বড় আঘাত পেলে তবে একজন সুস্থ মানুশ, আত্মহত্যার মত একটা ঘৃন্য পন্থা বেছে নেয়। শারিরিক আঘাতের চিহ্ন মুছে যাবে, মানে যাবেই। কিন্তু মনে যখন আঘাত লাগে, যে ব্যাথা জানানোর লোক না পেলে, উন্মাদ হয়ে যায়। আর যে ব্যাথা কমানোর জন্য আসা ডাক্তার ঈ যদি রোগের কারন হয়, আর ঔষুধ হয় রোগের বীজ, তাহলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা ছারা, রোগীর আর উপায় কি থাকে!!!!

আজ আমি রাত জেগে লিখছি, আমার হৃদয়ের অলিন্দে ঘটে চলা মুহুর্মুহু উথালিপাথালি অবস্থার বিবিরণ, আমার বন্ধুর জন্য, আমার শরীর খারাপের পোড়োয়া না করেও। হতে পারে আমি আগামিতে সারাদিন ঘুমাবো, চোখের নিচে কালি ও জমতে পারে। সমস্ত শরীরের পার্টস ঢিলা হয়ে যেতে পারে। প্রাত্যহিক তথা দৈনন্দিন জীবনে বিশৃঙ্খলা নেমে আসতে পারে।

তা বলে বন্ধুকে ছেরে যেতে পারবো না। তার সুখের দিন একসাথে, সাফল্য উদযাপন করেছি সারম্বরে। আর মৃত্যু সজ্জায় আমি তার শিয়রেই আছি, কারো প্রতিক্ষায়। বড় অসহায় আজ ও, আমার বন্ধু বেচারা।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *