চলুন যাই দেবভূমি

গরমে প্রান হাঁসফাঁস, রোদের তেজে চাঁদি টকবগ করে ফুটছে , গায়ে ফোষ্কা পড়ার জোগাড়। ঘনঘন ঠান্ডা জল পান করার পরেও গলা শুকিয়ে কাঠ। এরপর আছে “সবার উপরে ঘামই সত্য তাহার উপরে ডিও” । সামনেই স্কুলে স্কুলে গরমের ছুটি। ভোটের ফলাফল ও আসন্নপ্রায়। ডান-বাম-রাম যে ই আসুক অশান্ত বাংলায় উষ্ণতা যে, সেই সময় আরো বাড়বে তাতে আর আশ্চর্যের কি!

কথিত আছে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে…
কিন্তু গ্যাংটক-দীঘা-দার্জিলিং -পুরী, আর পুরী-দার্জিলিং-দীঘা- গ্যাংটক, আম বাঙালির এটাই সাধারনত ছুটির গন্তব্য। তবে আজকাল তো বাঙালী সুযোগ পেলে মঙ্গলেও যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
অতএব তাহলে আর দেরি কেন?

চলুন একটা ভ্রমন সুচী তাহলে বানিয়েই ফেলা যাক……

গরমের শান্তি শীতলতায়। আর সেটার জন্য বাতানুকুল যন্ত্র ব্যাতিরেকে একমাত্র শান্তি বরফের দেশ। আর সেই বরফের দেশের জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য কুলু উপত্যাকার মানালি শৈল শহর। শান্ত ছিমছাম আপেল আর পাম গাছের ঘেরা স্বপ্নের দেশ। স্ট্রবেরির লতার ফাঁকে স্বপ্নরা যেখানে বাসা বাধে। যদিও হিমাচল প্রদেশ রাজ্যটা গোটাটাই পোষ্টকার্ডের ছবির মত সুন্দর। ভিডিও গ্যামসের কম্পিউটারাইজড দুর্গম রাস্তা গুলো এখানে যে জ্যান্ত। দুপাশে খাড়া পাহাড় , মাঝে অতল খাদ, কচি মেঘেদের ইতিউতি ছোটাছুটি, তীক্ষ রোদ্র, মাঝে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, আর তার একপাস দিয়ে পাহাড়ের পেট চিড়ে দিয়ে ছুটে চলেছে পর্যটকদের যানবাহন। পথিমধ্যে কত শত পাহাড়ি ঝর্ণা, অজানা অচেলা লতা গুল্ম, ফুল, অর্কিড, যা প্রাথমিকভাবে নেশা ধরিয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। দিনের বেলায় এই পথের সাওয়ারি হলে তবেই পথের মজাটা উপভোগ করা যাবে।

মানালি

কথিত আছে , সনাতন ধর্মের আদি পুরুষ মনুর বাসভুমি ছিল এই মানালি। মনু আলায়া কথাটি থেকেই হয়ত মানালি শব্দটার উৎপত্তি। যার জন্য এই মানালিকে দেবভূমি রূপে চিহ্নিত করা হয় বা বলা হয়। অসংখ্য মুনি ঋষিবরেরা পুরাকালে এই সকল অঞ্চলেই নাকি ধ্যন সাধনায় বসতেন। মহাভারতের পান্ডবদের বনবাস পর্ব ও নাকি এখানেই হয়েছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৭০০ ফুট উচ্চতায় , খরস্রোতা বিপাসা নদের তীরে অবস্থিত মানালী। মুলত পর্যটন এখানকার মুল ব্যাবসা, তাই স্থানীয় মানুষেরা অত্যন্ত পর্যটক সচেতন। এদের দ্বিতীয় আয় আসে আপেল থেকে। তাই আপেল বিলাসী বাঙালীদের সেরা গন্তব্য হতে পারে এই মানালি। আপেলের সাদা ফুলে সাংসারিক জীবনের সাবতীয় দুঃখ-কষ্ট চাওয়া-পাওয়া কে ঢাকা দিতে, ক টা দিন নিশ্চিন্তে ঘুড়েই আসুন মানালি থেকে।

কিভাবে যাবেন

ট্রেনে, হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশন থেকে সোজা দিল্লি বা চন্ডীগড়। কালকা মেলে ডাইরেক্ট কালকা পর্যন্তও যেতে পারেন। ট্রেনভেদে ১৭ থেকে ২৬ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। দিল্লি পর্যন্ত ভাড়া স্লিপার ক্লাসে ৬০০-৭০০ টাকা, 3AC তে ১৫০০ থে ২১০০ টাকা পর্যন্ত।

রেস্ত বেশি থাকলে বিমানে কোলকাতা থেকে দিল্লি বা চন্ডিগড় বা মানালির নিকটবর্তী বিমানপোত, ভুন্তারে অবতরন করতে পারেন। যাকে মিনি ইজরায়েল বলা হয়ে থাকে।

দিল্লি, বা চন্ডিগড় থেকে বৈকাল চারটে থেকে ২/২ পুশব্যাক ভলভো বাস প্রতি আধাঘন্টায় পাবেন। আজমিরী গেট, পাহাড় গঞ্জ, মজনু কা টিলা ইত্যাদি বাসস্টপ থেকে বাস পেয়ে যাবেন। তবে অগ্রিম অনলাইন বুকিং করতেই পারেন। RED BUS, বা yatra.com, makemytrip ইত্যাদি সাইট গুলো থেকে বাস বুকিং করে নিতে পারেন।ভাড়া ১১০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত।

কমপক্ষে ১০ জনের গ্রুপ বা ২-৩ জন পরিবার একসাথে থাকলে , সেক্ষেত্রে AC Tempo Traveler ভাড়া করে নিতে পারেন। ৯, ১২, ১৫, ও ১৮ সিটারের পর্যন্ত টেম্পো পাওয়া যায়। ৩ রাত-৪ দিন, ৫রাত-৬ দিন, ৬রাত-৭ দিন হিসাবে ভাড়া পেতে পারেন। মোটামুটি ২০০০০/- টাকা থেকে ৫০০০০/- টাকা পর্যন্ত ভাড়া।

বাসে ৮ থেকে ১১ ঘন্টার জার্নি। সকালে চোখ খুললেই সামনে ভেষে উঠবে কবির কল্পনায় উঠে আশা সকল দৃশ্যপট। যেন কোন শিল্পীর লাইভ পেন্টিং শো দেখছেন। সামনে পাহাড়ের আড়ালে হঠাৎ করে উদয় হওয়া দিগন্ত বিস্তৃত চোখ জোড়ানো সবুজের প্রান্তে বরফের মুকুট পরে হিমালয় আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত। আরেকটু সময় এগোলেই যখন সুর্যের প্রথম কিরন ওই বরফে প্রতিফলিত হবে, সেই রূপ কল্পনারও অতীত। যেন হিরকের দ্যুতি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভীরে শহরের সৌন্দর্য খুজতে গেলে একটু কষ্টই পাবেন। অন্যান্য শৈল শহরগুলোর মতই মানালির মূল শহরতলী, রাস্তার দুধারে হোটেল, রেস্তোরা, ট্রেভেল এজেন্টদের অফিস, আর পর্যটকদের যানবাহনের ভিড়। পরিচ্ছন্নতায় মানালি শহর মধ্যম মানের। অনেক স্থানেই নর্দমার জল সোজা নদীতে গিয়েই পড়ছে। গাড়ির কালো ধোয়াতে বরফ পর্যন্ত কালো কয়লার মতন হয়ে গেছে।

এগুলো কে অবশ্যই এড়িয়ে যেতেই হবে।

কোথায় থাকবেন

ইচ্ছা তো করবে যেখানে খুশি শুয়ে পরতে। কুলকুল শব্দে বয়ে চলা নদী তীরই হোক বা সবুজ ঘাসের গালিচা বা আপেল বাগান, একরাত্রী ট্রেন জার্নির পরদিন সারারাত্রী বাসে বা গাড়িতে এসে যখন পৌছাবেন, যেখানে শোবেন সেখানেই ঘুম আসতে বাধ্য, অন্তত মানালিতে।

সরাই খানা বা মুসাফিরখানা থেকে এক্কেবারে সাততারা বিশিষ্ট হোটেল মজুদ মানালিতে। সস্তার ডর্মেটরিও পেয়ে যেতেই পারেন। উপরি পাওনা যদি ইচ্ছা হয় সেক্ষেত্রে নদীর এক্কেবারে তটে বা বরফের চাদরের উপরে টেন্ট হাউস। যা এক কথায় অনবদ্য। ওতে রেস্তটা একটু বেশিই খসবে। তবে বাচ্চা বা বয়স্কদের জন্য সম্পূর্ন নিরাপদও নয়। এর উপরে বিভিন্ন বাংলো, কটেজ, হোমস্টে ইত্যাদি তো রয়েছেই। মোটামুটি ৫০০ টাকা প্রতি রাত থেকে ২০০০০/- টাকা প্রতি রাত পর্যন্ত বাজেটের হোটেল পাওয়া যায়। হানিমুন কাপলদের জন্য এখানে সর্বত্র বিশেষ প্যাকেজ বা সুবিধা। অবিশ্যি মনের মাঝে প্রেম জ্যান্ত থাকলে যে কোন কাপলই হানিমুন করতেই পারেন। তাতে বয়স ১৮ হোক বা ৮১, মনটা যুবক থাকলেই হল। তবে কটেজে থাকার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে অনন্য। গ্রুপ ট্যুর বা ফ্যামিলি ট্যুরে ৩-৪ বেডরুম বিশিষ্ট একটা গোটা কটেজ বুক করতে পারলে কেল্লা ফতে। নিজেদের লোক ছাড়া কোন ঝঞ্ঝাট নেই। শান্ত নিস্তব্ধ নিরুপদ্রব জীবনযাপন। অবশ্য মোবাইলটা সাইলেন্ট মোডে রেখে। অন্তর্জাল দুনিয়া থেকে এই সময়টুকু দূরে থাকায় শ্রেয়। যদিও এখানে সর্বত্র মোবাইলের সিগিনাল পাওয়া যায়না।

সকল পাহাড়ি জায়গার মতন এখানেও খাবারের দাম সমতলের তুলনায় অনেকটায় বেশী। তবে নিশ্চই নাগালের মধ্যে। অবশ্য ঘুড়তে গিয়ে খাবারের পিছনে পড়েই বা থাকে কে! দিনপ্রতি মাথাপিছু ৩০০-৪০০ টাকার মধ্যে ব্রেকফাষ্ট থেকে ডিনার সম্পন্ন সম্ভব। জাঙ্কফুড বা বিরিয়ানি পোলাও এর মত ভারী খাবার না খাওয়াই ভাল। জলটা সকল সময় পাউচ বা সিল প্যাকড বোতল কিনে খাবার চেষ্টা করবেন। পাহাড়ি জল খেয়ে অনেকেই পেটের সমস্যা তৈরি করে ফেলেন।

কোথায় ঘুরবেন

গোটা হিমাচল প্রদেশটার প্রতিটা অংশই বোধহয় ভ্রমনপিপাসুদের স্বর্গ। তার মধ্যেও বিশেষ কিছু কিছু স্থানে গেলে কেকের উপরে চেরির কাজ করবে।

পাহাড়ি খরস্রোতা বিপাসা নদটিকেই দেখার মতন, যদি কষ্টকরে এই প্রানবন্ত বরফ শীতল জলে সাহষ করে পৌছাতে পারেন, তাহলে তার সুখানুভুতি অনেক সুখকে ম্লান করে দেবার ক্ষমতা রাখে। লক্ষ কোটি নুড়ি পাথরের বাঁধাকে টপকে সমতলের উদ্দেশ্যে ছুটে চলা নদীতে র্যা্ফটিং অন্যতম আকর্ষন। সাথে দুই তীরের অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

মহাভারতের একটা বড় অংশ এখানকার স্থানীয় ঘটনা। যেমন মহাবলী ভীমের ও রাক্ষসী হিড়িম্বার সাথে পরিনয় ও তাদের পুত্র ঘটোৎকচের জন্ম। সুতরাং ধর্মে বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, সুন্দর বনানীতে ঘেরা কাঠের কারুকার্য খচিত প্যাগোডা ধাচের হিডিম্বা মন্দিরটি মানালির অন্যতম আকর্ষন।

সোলাং ভ্যালি। একে আপনি বাংলায় বলতেই পারেন “ সিনেমায় যেমনটি হয়”। আসলেও তাই। শীতকালে পূরু বরফের চাদরে মোড়া, সাথে স্কি সহ নানা আইস গেম। আর বরফ না থাকলে , যেন একটুকরো সুইজারল্যান্ড। সব পেয়েছির দেশ। প্যারাগ্লাইডিং অন্যতম আকর্ষন। বহু বলিউডি বা বাংলা সিনেমায় দেখা দৃশ্য হঠাৎ নিজের চোখে আবিষ্কার করলে চমকানোর কিছু নেই। আসলে আপনিও তো ঠিক সেই খানেই আছেন, যেখানে আপনার স্বপ্নের নায়ক নায়িকারা বিচরন করেছিল।

ইয়ে ইস্ক হায়… শাহিদ কাপুর আর করিনা কাপুর অভিনিত জাব উই মেট সিনেমাটার দৃশ্যটা একবার জাষ্ট চোখবুজে কল্পনা করে নিন। ঠিক ধরেছেন, অন্তত ১৫-২০ ফুট বরফ গভীর ভাবে কেটে রাস্তা বানিয়ে নায়ক নায়িকা জিপ গাড়ি করে গান গেয়ে চলেছেন, দুপাশে বরফের দেওয়াল। আর রোটাং পাস হল সেই জাইগা। এখানে এলে মনে হবে পৃথিবিতে অদৌ মাটি আছে? নাকি সবটাই বরফ? আসলে এখানে যতদুর চোখযাবে সবটাই বরগ বরফ আর বরফ। এমন নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে পাবেন রোটাং পাসে। যেটা কেবল মাত্র গ্রীষ্মকালেই উপলব্ধ , কারন গ্রীষ্মের যেখানে এতো বরফ, শীতে যে সেই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য, তা বলাই বাহুল্য।

নাজ্ঞার ক্যাসেল, যেখানে নাজ্ঞার রাজাদের স্থাপত্য আপনাকে এক লহমায় পাচ সাতশো বছর পিছনে নিয়ে যাবেই।

মণিকরণ উষ্ণ প্রসবন। এক অপরুপ দৃশ্য। যা নিজের চোখে না দেখলে এই স্থানের বর্ননা করা মুসকিল।
এছারা বিপাসা কুন্ড, ভৃগু কুন্ড, যোগিনিপ্রপাত, ভ্যানবিহার, কলা মিউজিয়াম, গুলাবা, মনু মন্দির, ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান।

রক ক্লাইম্বিং, ট্রেকিং প্যারাগ্লাইডিং, জাম্পিং, সহ বাইক ট্যুর আপনি করতেই পারেন। এখানে প্রতি দিন হিসাবে মোটর বাইক ভাড়া পাওয়া যায়। সুতরাং শখ থাকলে একবার ট্রায় করতেই পারেন। খরচ নাগালের মধ্যেই।

কুলু উপত্যাকা, ফুলের সমারোহ। আর বহু এ্যালোপ্যাথি ওষুধের কারখানা বা রসায়নাগার এখানেই। বাহারি শীত বস্ত্রের নিজশ্ব স্থানীয় ঠিকানা। মানালী শীত প্রধান অঞ্চল, তাই এখানে বাহারী শাল- সোয়েটার টুপি মাফলার অত্যান্ত সস্তাতে পাওয়া যায়।

এছারাও অনেক ছোট ছোট স্থান পথে পরবে , যা আপনাকে বিমোহিত করার জন্য যথেষ্ট।

দৈনিক অর্ধ দিবস ও পূর্ন দিবসের ভিত্তিতে লোকাল সাইট সিয়িং এর জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। ১২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা দৈনিক ভাড়া। অল্টো থেকে ইনোভা যা খুশি আপনি ভাড়া করতে পারেন।

এবার ফেরা

ফেরার রাস্তাটা যদি মানালি থেকে ভায়া সিমলা হয়ে করতে পারেন, এবং সেটা দিনের বেলায়, তাহলে তো পয়শা উশুল ট্রিপ হতেই হবে। এক্কেবারে সোনায় সোহাগা। পৃথিবীর অন্যতম ভয়ঙ্কর দুর্গমতম সুন্দর রাস্তার শিরোপা পেয়েছে এই রাস্তাটি। সুতরাং সুযোগ না হাতছারা করাই ভাল। এর পরে সম্ভব হলে আধাবেলা চন্ডীগড় মার্কেটটা। যা আপনার ভাল লাগতে বাধ্য।

অবশ্য করনীয়

শীত পোষাক অবশ্যই সাথে রাখতে হবে, বিশেষ করে বাচ্চা আর বয়ষ্কদের জনা। পরিচয় পত্র, জলের বোতল বা ক্যান, রোদ চসমা, সানক্রিম, স্পোর্টস সু, এটি এম কার্ড আর যতটা সম্ভব কম লাগেজ। তিন রাত চারদিনের ট্যুরে কমপক্ষে মাথাপিছু ১৬- থেকে কুড়ি হাজারের মত খরচ হবে সর্বমোট।

ব্যাস আর কি তাহলে ব্যাগ প্যাক করে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করা যাক।

আর হ্যা আমি আবার সপরিবারে যাচ্ছি মানালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে আবার একবার নিজেকে হারিয়ে ফেলতে। আমাদের রওনা ২৩শে মে।

চলেই আসুন , হয়তো একসাথেই এঞ্জয় করা যাবেক্ষন।

+++++++++
তন্ময় হক।
১০/০৫/২০১৬

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *