ভুঁড়িকাব্য #১

এটা আমার নিজের লেখা নয়, দারুণ পছন্দ বলে এটা রাখলাম

শুধু কেজি কুড়ি ছিল মোর ভুঁড়ি
আর সবই গেছে ঝরে
তুমি কয়ে দিলে এ ভুঁড়ি থাকিলে
চলিবে কেমন করে

কহিলাম আমি কোরো না আসামী
বোকো না দিবস রাতি
চেয়ে দ্যাখো মোর আছে বড় জোর
ছোটোখাটো নেয়াপাতি

সপ্ত পুরুষে gene চলে আসে
ভুঁড়ি আসা তাতে সহি
হেলথ-এর ডরে ঘোচাবো কী তারে
এত পাপিষ্ঠ নহি

আঁখি করি লাল তুমি ক্ষণকাল
বানাইলে কূট স্কিমে…
আদেশ ঘোষণা ত্বরা গেল শোনা
কাল থেকে যাবে জিমে

পরে মাস দেড়ে বিছানাটি ছেড়ে
বাহির প্রতিটি ভোরে
পাঁচ কিমিখান ছোটার বিধান
বাঁচিব কেমন করে…

পেশী-মাস-হাড়ে বিদ্রোহ করে
ফুকারিয়া ওঠে বুক
হাহাকার ওঠে শুষ্ক দুঠোঁটে
নাহি কোনোখানে সুখ

এতে নাহি ছাড় বিকালে আবার
জিমের দুয়ারে যাওয়া
মেশিনের মার খাওনি তো আর
বুঝিবে না হুঁহুঁ বাওয়া!

মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান
কষ্টই দিবে মর্ত্যে
তাই লিখি দিল রোজ ট্রেডমিল-ও
ভুঁড়িটির পরিবর্তে

অতি কায়ক্লেশে রোজ ম্লান হেসে
খেয়ে যাই নিরিমিষ্য
বিরিয়ানি মানা মিষ্টিও মানা
ছবিতেই শুধু দৃশ্য।

জিমে পথে ঘাটে এইভাবে কাটে
হপ্তা পনেরো ষোলো
একদিন শেষে এ অভাগা দেশে
অপরচুনিটি এলো

তুমি চলে গেলে ঘরদোর ফেলে
কোনো-এক শুভকাজে
অমনি আমার বুকের সেতার
খুশির ছন্দে বাজে

কিনে বিরিয়ানি মাটনের আনি
কাবাব কোর্মা আসে
হ্যামবার্গার বাদ নাহি আর
পিজ্জাও থাকে পাশে

নানান মিঠাই প্যাকেট বোঝাই
আসে ঘর আলো করে
সুগন্ধে প্রাণ করে আনচান
চোখে আসে জল ভরে।

পানীয় চষিয়া ল্যাদেতে ভাসিয়া
ঘুমাইয়া ভূরি ভূরি
শুধু সাত দিনে চেষ্টা বিহীনে
ফিরে এলো সেই ভুঁড়ি!

তুমি বাড়ি এসে কী দারুণ রোষে
কহিলে আমারে ড্যাশ
সে-সব আমার লাগে নি তো আর
ভুঁড়ি ফিরিয়াছে, ব্যাস!

~ দ্য বং ডায়েরি

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *