হ্যাপ্পি বাড্ডে অকপট

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে । #অকপট যেদিন ভার্চুয়াল ভূমিতে ভূমিষ্ঠ হয় সেদিনেই অকপটে আকস্মাত ঢুকে পড়ি অকপটগুরু তন্ময়দার হাত ধরে । প্রথমে সাধারন মেম্বার, আর তার দিন কয়েক পরেই সোজা এডমিনশিপের দায়িত্ব । সঙ্গে কো এডমিন হিসাবে সুধা দি, সন্দীপ দা, সুদীপ্তা দি, এবং অতি অবশ্যই আমাদের #ম্যাডাম_মায়া নাজদি যাকে ছাড়া অকপট ঠুঁটো জগন্নাথ । ওরা প্রত্যেকেই ছিল আমার অগ্রজ, তাদের মাঝে আমার মতো একজন অনুজ ছোকরার উপর এত বড় গুরু দায়িত্ব বাছুরের ঘাড়ে জোয়াল জুড়ে দেওয়ার সামিল …
.
জানি না কতখানি এই গুরু দায়িত্ব কতখানি সামলাতে পেরেছি, তবে সব সময় পোড় খাওয়া এডমিনদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে চলার চেষ্টা চালিয়ে গেছি । প্রথম দিন থেকেই আমাদের #অকপট ছিল পুরোপুরি ভাবে লিবারেল । মুক্তচিন্তার পীঠস্থান । কিন্তু সেই গ্রুপের লিবারেলিজমের সুযোগ নিয়ে বিতর্কিত ও অতি স্পর্শকাতর জিনিস পোষ্ট করে হালে পানি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল কেউ কেউ । কিন্ত সেই অপচেষ্টা ধোপে টেকে নি ।
.
গ্রুপের জন্ম হওয়ার মাস কয়েকের মধ্যেই এঅডমিন প্যানেলে মতিউল দা, দেবাশিষ স্যার, গোপাল দা, দেবেশ দা, হৈমন্তি, সুব্রত দা, মহাশিষ দা এবং আমাদের বাংলাদেশের বোন তনিমার আগমনে অকপট গ্রুপ পাওয়ার বুষ্টার পেয়ে গেল । মতিদা ও সুব্রতদার হৃদস্পর্শী কবিতা, দেবাশিষ স্যারের রসসিক্ত অকপট পোষ্ট, গোপালদার বিভত্স সেন্স অব হিউমর, দেবেশ দার ২৪ ঘন্টা গ্রুপে উপস্থিতিসহ নজরদারি, তনিমার ছেলেমানুষী এবং হৈমন্তির লাগামহীন আকপট্য সব মিলিয়ে গ্রুপের বিজয়রথ ততদিনে দূর্নিবার গতিতে তরতরিয়ে এগিয়ে চলতে শুরু করেছে ।
.
তবে এমন প্রতিভাবানদের মাঝেও গ্রুপের সব থেকে ইউএসবি অবশ্যই উন্মাদ হার্মাদ । এই উন্মাদ কে, কি, কোথা থেকে কিভাবে এসব নিয়ে গ্রুপের সম্মানীয় মেম্বারদের হাজারো জিজ্ঞাসা, হাজারো প্রশ্ন । কিন্তু বৌদিবাজিকে জীবনের লক্ষ্য ও পটিবাজিকে শিল্প বানিয়ে লেডি কিলার উন্মাদ উন্মাদই রয়ে গেল । উদ্ভট সব জীবন দর্শন নিয়ে বহাল তবিয়তে বিদ্যমান থাকা সবিতা ভাবীর ফ্যান উন্মাদ হার্মাদের রহস্য আজও গ্রপের অন্যতম আলোচ্য । এহেন উন্মাদ হার্মাদ কে ভার্চুয়ালী মেরে ফেলার বহু চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু উন্মাদের আত্মা যে অবিনেশ্বর, ওকে ঘ্যাচাং ফু করার চেষ্টা মুমকিনই নেহি নামুমকিন হ্যায় ।
.
অন্যদিকে প্যারাল্যালি এপ্রুভাল সিষ্টেম না থাকা অকপটের দরাজ কপাটের জন্য কিছু কিছু পোষ্ট শেষমেস এমন এসে পড়ছিল যেকোন রুচিশীল মানুষই আপত্তি জানাবেন । স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিতর্ক ব্যাক্তিগত স্তরে কাদা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে নেমে যাচ্ছিল । তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই ভোটাভুটির মাধ্যমে অকপটে এপ্রুভাল সিষ্টেম চালু করতে হয়েছিল । অকপট নামের সঙ্গে কিঞ্চিত সাযুজ্যহীন হলেও এপ্রুভাল সিষ্টেমটা একপ্রকার নেসেসিটি ছিল ।
.
যাই হোক, মাসখানেক ধরে একান্ত ব্যাক্তিগত কারনে গ্রুপে আগের মতো সক্রিয় হতে পারছি না, মোটের উপর আমার ফেবু জগতে বিচরনের সময় পরিসরটাই কমে গেছে । কিন্তু আমাদের গ্রুপের দুই প্রানভোমরা তন্ময়দা ও নাজদির ক্যারিশমাসহ গত একমাসের মধ্যেই সৌমেন দা (প্যালা দা), সোমনাথ দা, প্রবাল দা, মঞ্জুর ভাই, নাসিম দা, সৈকত দা এবং স্বভাব কবি সেলিম দা গ্রুপ এডমিন ও মডারেটরের দায়িত্ব যে দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন তাতে সত্যিই তারা প্রভূত প্রশংসার দাবি রাখে ।
.
বলাই বাহুল্য, অকপট গ্রুপের পাশাপাশি আরও দুটো সিস্টার কনসার্ণ রয়েছে অকপট পেজ এবং অকপট ব্লগ www.okopotbangla.org । সাধ হলে আমাদের এই দুই নান্দনিক ভার্চুয়াল ভূমিতে এক চক্কর ঘুরে আসতেই পারেন ।আশা করি ভাল লাগবে । তবে শেষে একটা কথা বলতেই হয় যে এঅডমিন প্যানেলে যতই এফিসিয়েন্ট পার্সোনালই থাক না কেন গ্রুপের মূল চালিকাশক্তি কিন্তু গ্রুপের মেম্বাররাই, এটা আমরা সবাই বিলক্ষন জানি । গ্রুপের প্রতিটি মেম্বারই আমাদের কাছে মূল্যবান । তাছাড়া, গ্রুপের ভবিষ্যত শ্রীবৃদ্ধি যে আপনাদেরই হাতে । মেম্বাররা আছে বলেই গ্রুপ আছে, নচেত্ আমাদের গ্রুপটাই যে ভ্যালুলেস ।।
.
গ্রুপ মেম্বার্স জয় হো ।।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *