দানের বিজ্ঞাপন

দানের জন্য প্রচারের প্রয়োজন হয়না। গ্রহীতারাই দাতার নামে জয়ধ্বনি দেয়। আর দানে উৎসাহ প্রদানের জন্য অনেকক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দেন সেক্ষেত্রে ধ্বনাত্বক প্রতিক্রিয়া খুবই সামান্য। যাবতীর আশ্রম, মঠ, মাদ্রাসা, হোম, দাতব্য হাসপাতাল, দাতব্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো দানের টাকাতেই চলে।

তবে এখন ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাস হল- হেগেও টয়লেট পেপারের ছবিটা ফেবুতে পোষ্ট করা। এটাও তেমনই একটা ব্যাপার।দে পোষ্ট করে দে আর কি। কিছু তো করতে হবেরে বাবা। সকলের তো আর ক্রিয়েটিভিটি থাকেনা, কিন্তু একটা এন্ড্রোয়েড ফোন যখন আছে ছবি দেবেনা কেন?

দ্বিতীয় এক শ্রেনী রীতিমত ব্যাবসা করে। বিজ্ঞাপন গুলো টোপ হিসাবে ব্যবহার করে। Bhowmick আরো ভাল বলতে পারবে। মানবিক নামের একটা সংস্থার সাথে জড়িত সে। এক মহিলা পঙ্গু সাজার ছবি দিয়ে প্রায় ৫ লাখা টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এমন আকছার আছে। গত পুজোতেই গরিবদের জামা দেব বলে টাকা তুলে একটা সংস্থা গায়েব। তার আগে এই সংস্থাটা বেশ কয়েকবার টাকা তুলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে বিলি করেছিল। বিশ্বাস অর্জন করতেই ২-১০ লাখ টাকা পেতে অসুবিধা হয়নি। এরা চিটিংবাজির জন্য বিজ্ঞাপন দেয়। বন্ধু বেশে প্রাথমিক ভরসা আদায় করে মানুষের সাথে প্রতারনার নয়া কৌশল।

আরেকটা শ্রেণী অতৃপ্ত আত্মা। তারা সব কিছুতেই ট্রাই মারে। বন্ধু প্রাতিবেশীরা যা করেন এনারাও সেটাই নকল করেন। গল্প লিখলে সে ও গল্প লেখা, ছবি তুললে তিনিও সেই অনুসারী, কবিতার খাতায় শক্তি-সুনিলের একমাত্র উত্তারাধিকার তাঁরই হাতে রছে। এমন কি দল বেঁধে চুরি বা ধর্ষন করতে গেলেও এরা চোখ বুঝে ঝাপ দেয়। আল্টেমিটলি এরা সব কিছু করেন সব কিছু। আর একটাতেও সফল না হয়ে পূর্ববর্তী সাথীদের গালিগালাজ করে বংশপরিচয়ের সাক্ষী দেন। এনারা মানসিক রোগী, এদের জন্য প্রার্থনা করুন। পারলে কনো দাতব্য চিকিতসালয়ে এদের ভালভাবে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আইডেন্টিটি ক্রাইশিসে থাকেন এনারা। এদের জীবনটাই লাইক, কমেন্ট আর তোষামোদিতে আঁটকে। রাতারাতি ফেমাস হতে হবেই এই আকাঙ্খা মারাত্বক।

জুদাই নামের একটি হিন্দি সিনেমাতে শ্রীদেবীর চরিত্র মনে করুন। প্রয়োজনে এরা স্বামী বাস্ত্রীকেও বেচে দেয় “আহা-উহু-সুন্দর’ বুলি শোনার তাগিদে। পয়সা দিয়ে সকল কিছু কিনতে চাই, যেটা অসম্ভব। ভরসা কেনা যায়না।

দান মহৎ কাজ, সেটা বিনম্রতার সাথে গোপনে করা হয়। প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে যা কিছু করা হয় সবটাই ভাঁওতাবাজি ও স্বস্তা জনপ্রিয়তাই লক্ষ্য। কারন কেউ নেশা করে মদ গাঁজা মেয়েছেলে নিয়ে ফুর্তি করে। তাতেও হাজার হাজার টাকা খরচা হয়, এটাও তেমনই “বিশেষণ- প্রসংশা” শোনার নেশা।

তবে কখনও কখনো ব্যাক্তিই প্রতিষ্ঠান হয়ে যায়।
দান হোক, দানের জন্য। বিজ্ঞাপনের জন্য নয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *