মোদী সরকার

স্লোগান ছিল “এক ভারত শ্রেষ্ট ভারত”।

আজকের ভারতে সংখ্যালঘুরা আতঙ্কগ্রস্থ, দলিতেরা নিপীড়িত, তফশিলীরা লাঞ্চিত, যুবকেরা বিভ্রান্ত, নারীরা পদে পদে নিগৃহিতা। প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে যন্ত্রণাক্লিষ্ট, জানিনা এই ভারত শ্রেষ্ট ভারত কোন যুক্তিতে।

এমনটা কি হওয়ার কথা ছিল?

কথা থিল সবকা সাথ সবকা বিকাশ।

কিন্তু হলটা কি? আসামে চল্লিশ লক্ষ মানুষ নিজভূমে পরবাসী হয়ে গেছে আপাতত। অজুহাতে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের রক্ষাকবজ শেয়ালের বাচ্চা দেখাবার মত দেখালেও, রাষ্ট্র জানে ৪০ লক্ষ সংখ্যাটা ঠিক কতজনে হয়। কারন ভারতরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে সর্বমোট সেনা, আধাসেনা ও তাদের অফিসার-কেরানি মিলিয়ে ১৪ লক্ষের সামান্য বেশি। কার দোষে অভিবাসীরা এদেশে এসেছিল সে প্রশ্নের জবাব সেনা কখনই দেবেনা সেটা আমরা প্রত্যেকেই জানি, যেটা জানিনা সেটা হল এদের ভোটে নির্বাচিত সরকার কেন এখনও ক্ষমতাতে রয়েছে। যেমন জানিনা “Actual Inhabitants” তকমাটিকে সরিয়ে দিলে ঠিক কতজন ভারতীয় ১৩০ কোটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে?

ওহ, আপনি তো আবার এই AI এই গল্পটা জানেননা, জানেন আপনার মত ওই ২৫ লক্ষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষও জানতনা। তারা বিকাশপুরুষের মন কি বাতে বিভোর ছিলেন, নিজেদের শরনার্থী ভেবে সুরক্ষিত রয়েছিলেন। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শরনার্থীর ধর্মীয় পরিচয় কোনখানে উল্লেখ রয়েছে সেটাও জানেননা। তাজ তারা ভাবছেন নিশ্চই কিছু একটা ম্যাজিক হবে, আর সব মেঘ কেটে যাবে। মজা হল ভক্তি বাস্তবতার ধার ধারেননা, সুপারহিরোর কনসেপ্টে ৫৬ ইঞ্চি এতোটাই প্রতাপশালী যে আজ পর্যন্ত সাড়ে চার বছরের ক্ষমতাকালে কখনো একটি সাংবাদিক সম্মেলন করার সাহসটুকু জোটাতে পারেননি। অবশ্য “দেশে কতক্ষণই বা ছিলেন তিনি” এই নিষ্পাপ যুক্তি খাঁড়া করতেই পারেন ভক্তোবৃন্দ। কিন্তু সবকা সাথ বিকাশ কিন্তু হলনা।

জানিনা শেষ পর্যন্ত ঠিক কতজন অভিবাসীকে দেশ থেকে তাড়াতে পারবে এই বিজেপি শাসিত রাষ্ট্র যন্ত্র, কিন্তু সুপরিকল্পিত একটা প্রোপ্যাগান্ডা যে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে এনারা সেটা বলাই বাহুল্য। যেমন কেউ প্রশ্ন করেনি কালো টাকা তাড়াতে গোটা অর্থ ব্যবস্থার ৮০% টাকাই বাতিল ঘোষণা করে দিয়েছিল, ভাগ্য ভাল অভিবাসী তাড়াতে গোটা পূর্ব ভারতকেই অবৈধ হিসাবে ঘোষণা করেনি। করলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কোনো বৈধ কাগজপত্র পেশ করতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। আর যার জন্যই ওই AI ধন্বন্তরীর অবতারণা।

প্রতিশ্রুতিপত্রে মোটা মোটা অক্ষরে কি লেখা ছিল পাকিস্থানের সাথে ছায়া যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে বিদেশী বাবাদের থেকে কোটিকোটিটাকার অস্ত্রশস্ত্র কেনার?

না ছিলনা, দেশ জুড়ে আজ আলোচনার কথা ছিল করাচীতে ভারতীয় দূতাবাস দখল করে নিয়ে বৃহত্তর ভারতের অঙ্গরাজ্য করাচীতে নাগপুর মনোনীত কোনো রাজ্যপাল অভিষিক্ত হবে। পাকিস্থানকে সমুচিত জবাব তো ম্লেচ্ছ বিরোধিরাও দিত, মোদী ক্ষমতায় এসে পাকিস্থানটিকেই প্রায় দখল করে নেবে। ও মা কোথায় কি, ওদিকে ক্রিকেটের মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে ইমরান খান পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আর ডোকালাম চিনের কাছে হাতছাড়া। অবশ্য তার বিনিময়ে সবরমতীর ধারে চীনা দোল দুলেছিলেন দুজনে কুজনে।

কথা কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের, অধিকৃত কাশ্মীরকে ছিনিয়ে আনা হবে। সন্ত্রাসবাদীরা যোগচর্চার স্কুল খুলবে গোটা বিশ্বজুড়ে। সেখানে কোথায় কি, মেহেবুবার সাথে এক থালায় কয়েকটা বছর লুটে খেয়ে আবার সন্ত সেজে গেছে। নোটবন্দীর সময় বলা হয়েছিল, এর পর জঙ্গিরা ঘটিগরম বেচবে রথের মেলাতে। রাষ্ট্রেরি হুসাব বলছে শেষ তিন বছরে ১৮৫ জন সেনা শহীদ হয়েছেন বর্ডারে, তার মধ্যে ২০১৬ সালে ৭৪ জন ও ২০১৮ সালে ৭৮ জন। এছাড়া ৩০ জন পুলিস ও ১১৭ জন স্থানীয় বাসিন্দাও হত্যাতালিকাতে রয়েছেন। এই লিঙ্কে বিশদে বিবরন পেয়ে যাবেন http://www.satp.org/satporgtp/countries/india/states/jandk/data_sheets/index.html

দুঃখের বিষয় হল জঙ্গিরা মোদীজির এই যোগা প্রকল্পে তেমন ইন্টারেস্ট না পেলেও, মোদীজি যোগব্যায়াম থেকে মোটেই সরেননি, কোটি টাকা খরচা করে তিনি তার ভিডিও প্রকাশ করেছেন। শুধু স্মৃতি ইরানীটাই বুঝলনা, অহেতুক মুটিয়ে গেলেন।

কথাছিল ১০০ নতুন উন্নত শহর তৈরির, হয়ত ওগুলো স্বয়ং বিশ্বকর্মাদেবের স্বর্গের ওয়ার্কসপে তৈরি হচ্ছে। টুক করে যে কোনো দিন আকাশ থেকে ঝরে পড়ল বলে। পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন মহামানবের নামের সাথে নানান উপনাম বা কোনো বস্তু জুড়ে যায়, যেমন লৌহ মানব আদবানী, মিসাইল ম্যান ডাঃ কালাম, তেমনই শৌচালয় শব্দটির সাথে মোদীজির নাম অঙ্গাগিভাবে জুড়ে গেছে। এদের কাজই হচ্ছে সকল সময় জনগনকে একটা অহেতুক প্যানিকগ্রস্থ করে রাখা। যেমন আসামে ৪০ লক্ষ সগ গোটা বাঙালী জাতিকে আতঙ্কিত করে রেখেছে। অথচ মাত্র একটা অসমিয়ার ঠিকানা মঙ্গলগ্রহে সেট করতে পারলেই আম ভারতীর মনোরঞ্জন জীবন অনেক সুখের হত, আর আপনাকে বলে দিতে হবে না যে সেই নামটা অর্নব (পোষ্য) গোস্বামী।

কংগ্রেস সরকার কতটা করেছেন আরো কতটা করতে পারতেন সেটা নিয়ে আলচোনার প্রচুর অবকাশ রয়েছে, পূর্বতন বাজপেয়ী সরকারেরও প্রচুর দুরদর্শী কাজ ছিল যা রাষ্ট্রের পরিকাঠামোকেই খোলনাচলে বদলে দিয়েছিল, তার সাথে ছিল পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ। RSS এর নানান ফন্দিফিকির তখনও ছিল, বেশ কিছু রক্তক্ষয়ী দাঙ্গাহাঙ্গামাও হয়েছিল। কিন্তু মোদী সরকারের মত কর্পোরেটদের সর্বগ্রাসী অন্তঃসারশূন্য সরকার আগে কখনো ভারতে আসেনি আর সম্ভবত আসবেও না। 

চলুন কি ছিল আর কি হল সেটা একটু মিলিয়ে নিই।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু হৃদয় সম্রাট দশাশ্বমেধ যজ্ঞ সেরে ভারত বিজয়ে বেড়িয়েছিলেন। অবশ্য তারও আগে ২০১৩ সালে গড়করি, শিবরাজ শিং, রামলাল, জেটলি, অনন্তকুমার সহ মুরলী জোশী ও গুরুদেব আদবানীকে লেঙ্গী মেরে দলীয় শীর্ষপদে আসিন হয়েছিলেন RSS এর অনুকুল্যে।

আচ্ছা , কথা তো ছিল মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে। কারন দেশের সাচ্চা হিন্দু শাসক এসেছে সেই ঈশ্বর শ্রী রামের পর। তার সাথে রামরাজ্যেও রামানুজ যোগী অধিষ্ঠিত বিপুল জনাদেশে ভর করে। তাহলে আজও কি কথা ছিল যে  “মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে” শ্লোগানেই?

আমরা অনেকেই যেটা জানিনা সেটা হল, বিজেপি দলটির যে সংবিধান সেই অনুযায়ী এরা কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ  

আপনি ভাবছেন এগুলো আমি কোত্থেকে দিলাম? এই নিন এটা বিজেপির ওয়েবসাইটেই পাওয়া যাচ্ছে। নিজেই পড়ে নিন আর বলুন আবকিবার ফিরসে মোদী সরকার।
http://www.bjp.org/images/pdf_2014/bengali_final_highlights_april_22_04_2014.pdf

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *