এক একটা জায়গায় আমার এক এক ধরনের পরিচয় বলতে হয়। টয়লেটে যেতে গেলে আমার লিঙ্গ পরিচয় দিতে হয় বহু জায়গায় (সব জায়গায় নয়)। চাকরির ইন্টারভিউতে দিতে হয় আমার শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার পরিচয়। মন্দিরে/মসজিদে/গির্জায় দিতে হয় ধর্ম পরিচয়।

এবার ধরুন, আমি পুরুষ হয়ে একটা লেডিস টয়লেটের দিকে গেলাম, “আমি হিন্দু – আমি হিন্দু” বলতে বলতে! বা একটা চাকরির দরখাস্তে আমার অন্য কোন পরিচয় না দিয়ে বললাম “আমি শুধু হিন্দু”! বা ধরুন, আমি এল আই সি-র এজেন্ট। কোন ক্লায়েন্টের কাছে গিয়ে আমার এই পরিচয় (এজেন্ট) না দিয়ে, বললাম – “আমি হিন্দু”! বা, মাছের দোকানে গিয়ে, আমি ক্রেতা সেই পরিচয় না দিয়ে বললাম, “আমি হিন্দু”। বা, ব্যাংককে ঢোকার সময় ইমিগ্রেশন কাউন্টারে, আমি ভারতীয় না বলে বললাম ” আমি হিন্দু”!

পাগল মনে হবে না আমাকে?

কেউ কেউ এরকম ভাবতে চাইছেন। কিন্তু, সমাজ তো শুধু “হিন্দু” হতে পারে না। তার আরও অনেক কাজ, অনেক সম্পর্ক, অনেক পরিচয় আছে। সেগুলো সব নিয়েই কালের পথে তার যাত্রা। আমাকেও সেগুলোর মধ্যেই বাঁচতে হবে। আমার শুধু একটাই পরিচয় – এটা ভেবে আমি স্বপ্ন দেখতে পারি মাত্র, কিন্তু বাস্তবে এক পাও এগোতে পারব না।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *