ভারতে ইসলামের ইতিহাস

সাহাবী ‘মালিক ইবনে দিনার’ সাহেব সেই ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম ভারতবর্ষের মালাবার প্রদেশের চেরমানে আধুনা কেরালায় সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম নিয়ে আসেন, ও সেখানেই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। নবী-এ-করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখনও জীবিত। এরপর শত শত সাহাবী, গৌজ, কুতুব, পীর, ফকীর, ওলি, আউলিয়া, দরবেশ, সুফী, তনজীম, মৌলভী, জ্ঞানী, গুনী ইসলামের স্কলারদের আগমন ঘটতে থাকে এই পবিত্র ভারতভূমে, যা পরবর্তীতে ভারতের মাটিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে ইসলাম ধর্মালম্বী সুলতান, সম্রাট, নবাব, রাজা, উজিরদের বিরচরণভূমি হয়ে উঠে।

৭১০ খ্রীষ্টাব্দের আশেপাশে তৎকালীন ইরাকের গভর্নর ইউসুফ বিন হাজ্জাজের নির্দেশে, মুহাম্মদ ‘বিন কাশিম’ নামের এক সদ্য যুবককে এদেশ জয়ের জন্য পাঠান, তিনি যথারীতি সিন্ধু ও মুলতান অঞ্চল জয়ও করেন দেশে ফিরে যাবার আগে। সাম্রাজ্যবাদী ‘মোচোলমানেদের’ অগ্রাসনের সেই শুরু।

শাসক হিসাবে দিল্লির তখতের হিসাব মহম্মদ ঘোরীকে দিয়েই শুধু ধরা যেতে পারে। যদিও চেঙ্গিস, তৈমুর, হলাগু খানেরা এসেছিল তথাপি তারা ওই সিন্ধুনদের ওপাড় পর্যন্তই এসে পাঠন ঠেঙিয়ে দেশে ফিরেছিল। নাদির শাহ তো কেবল লুঠ করেই ক্ষ্যান্ত দিয়েছিল। ঘোরী ডাইনেষ্টির কুতুবুদ্দিন আইবেক, আরাম শাহ, ইলতুৎমিস, ফিরোজ শাহ হয়ে সুলতানা রাজিয়াতে খানিকটা থমকে বৈরাম শাহ হয়ে শমুউদ্দিন শাহ পর্যন্ত টেনে খিলজীদের হাতে সমর্পন করে দেয় সেই সাম্রাজ্য। জালালউদ্দিন খিলজী যে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন, তা আলাউদ্দিন হয়ে নাসিরুদ্দিন খুসরো পর্যন্ত বছর ত্রিশেক টিকে ছিল, অতঃপর তুঘলকেরা সেটা ছিনিয়ে নেয়। গিয়াসুদ্দিন তুঘলক এই ডাইনেষ্টির প্রথম সুলতান, ওনার উত্তরসূরি মুহাম্মদ বিন তুঘলকের পরও ৯০ বছর দৌলত শাহ পর্যন্ত বহাল তবিয়তে এরা দেশ শাষন করেছিল।

এরপর খিজির খাঁনের হাত ধরে সৈয়দ বংশের শাসনামল আলাউদ্দিন আলম পর্যন্ত বছর চল্লিশ চলেছিল। এর পর আসেন লোধীরা। বহলোল, সিকন্দর আর ইব্রাহিম মিলেই ৭৫ বছর শাষন করে শেষমেশ মুঘলদের প্রাণপুরুষ জালালুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের হাতে সাম্রাজ্য খোয়া যায়।

‘বাবার হইল আবার জ্বর, সারিল ঔষধের’ মাঝে শুধু মাত্র বছর পনেরো মত শের শাহ সুরীর ‘সুরী বংশ’ ভারতবর্ষ শাসন করে, তাও সাত সাত জন সুলতান হয়েছিলেন এই মিউজিক্যাল চেয়ারে। ১৭০৭ সালে মোঘল বাদশা, শাহ আলম এর সময় থেকে টুকটুক করে সাম্রাজ্য আরো দেড়শো বছর ধরে চালেছিল ‘বাহাদুর শাহ জাফর’ পর্যন্ত। যাই হোক, এ তো গেল দিল্লির শাসন, এর পর বাংলার দিকে একটু চোখ রাখি।

গৌড়, বিজাপুর, গোলকুন্ডা, দাক্ষ্যিনাত্য, লৌক্ষৌ ও নিজামদের পাশে রেখে, বাংলার বখতিয়ার খিলজি থেকে সিরাজ-উদ-দৌল্লা পর্যন্ত কম বড় ইতিহাস নয়। মামলুক, বলবান, ফকুরুদ্দিন, ইলিয়াস শাহ, সিকান্দার শাহ, গিয়াসউদ্দিন আজম, সাইফুদ্দিন হামজা, সাহাবুদ্দিন বাইজিদ, রাজা গনেশের পুত্র ধর্মান্তরিত জালালুদ্দিন মুহাম্মদ, শামসুদ্দিন, নাসিরুদ্দিন, রুকুনুদ্দিন, ফতে শাহ, ও এর পর কিছুদিন হাবসী সাম্রাজ্য পেরিয়ে এসে সটান মুর্সিদকুলী খাঁ এর অধীনস্ত হওয়া। এরপর সরফরাজ খাঁ, সুজা-উদ-দৌল্লাহ, নবাব আলীবর্দীর পর ওই শেষ নবাব, আমাদের- সিরাজ। বাকিরা সব এদেরই লেজুর, নতুন করে কেউ আর এদেশে আসেনি, ওদিকে ব্রিটিশরাও তদ্দিনে জেঁকে বসেছে দেশে।

সুদীপ্ত সেন কি জানে যে, বাংলার সেন বংসীয়রা আসলে কর্ণাটকের ব্রাহ্মণ? তা সে না ই জানুক, আমার তাতে কি! আমি এ দলিল দস্তাবেজ খুঁজেই চলেছি। রামের বংশধরের খোঁজ পাওয়া গেছে, কৃষ্ণ ভগবানের বংশের খোঁজ পাওয়া গেল বলে।

আমিও তাই ইসলাম শাসনের গলিঘুঁজি খুঁজে চলেছি, কেজানে হয়ত কোনো রাজবংশের সাথে একটা ফুঁপি বেড়িয়ে গেল। তখন কী আর আপনাদের সাথে এভাবে ফেসবুকে পোষ্ট দেব? দু-চারটে ‘খাদেম-খাস চাকর’ রাখব স্ট্যাটাস লিখে দেবার জন্য, তারা শুধাবে-‘অমুকের পোষ্টে কমেন্ট করব, স্যার’?। আমিও চরম ক্রুদ্ধ হয়ে হয়ে বলব-‘বেয়াদপ, জাঁহাপনা কে বলবে’? আহা কি যে সুখময় ভাবনা- হারেমের ২৬ নং কুঠির মুজরার ঠেকে, রুপোর গড়গড়াতে ধুঁয়ার বোলবুলা, উমাদারেরা ক্যায়াবাত ক্যায়া বলে মাঝে মাঝে তন্দ্রা ছোটাবে, উপরতলার জেনানা মহল থেকে উঁকিঝুঁকি, বাবুর্চিখানার মিঠা আতরের সুবাস কানেরর লতিতে মাখা কস্তূরীর সাথে মিশে সে এক অপূর্ব মুর্চ্ছনা। এদিকে হিংসেতে জ্বলে যাওয়া কিছু মানুষের মুখদর্শন করে কয়েক পাত্র সিরাজিতে চুমুক দিয়ে জাফরান দিয়ে সের-শায়েরি লেখার কাছে কোথায় এই ফেসবুকীয় বারো ঘর এক উঠানের ম্লেচ্ছ সংস্কৃতি।  

আচ্ছা নামটা কিভাবে রাখব সেটাই ভেবে কুল পাচ্ছিনা, মুহাম্মদ তন্ময় শাহ লোধী! চলবে? নাকি তন্ময় হক মুঘল! উঁহু, খেলছেনা ঠিক। তন্ময় হক ঘোরী! অথবা তন্ময় কুলী খান! তন্ময় বিন তুঘলক বা তন্ময়উদ্দিন খিলজীটা বেশ ওজনদার মনে হচ্ছে।

ভয়ানক টেনশনে আছি, কোন সাম্রাজ্যের যে উত্তারাধিকার হব কে জানে!

______________________________________

ঝড়ের গতিতে এটা শেয়ার করুন, কোনো অনাথ হয়ত তার বংশপরিচয় খুঁজে পাবেন এই লিষ্টি দেখে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *