প্রাক কথন

সপ্তাহের প্রথমার্ধেই মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট থেকে যখন চক্কোত্তি মহাশয়ের মত অভিজ্ঞ দপ্তরীর হাতে বোর্ডের যাবতীয় দায়িত্ব অর্পন করল, তখনই আমরা ভেবে নিয়েছিলুন, ভাল কিছু একটা আগামীতে ঘটতে চলেছে। কথাটা চাটুজ্জে মহাশয়ের কানে যেতে হুঁকাটা গুড়গুড় করে টেনে কিছুটা ধুম্রজাল তাচ্ছিল্যের সাথে ছেড়ে কিছুটা স্বাগোতক্তির মত বললেন; “এ পোড়ার দেশে ক্রিকেট ছাড়া আর রহিয়াছেই বা কি! সদা মুষ্ঠি ফোনযন্ত্রের বুহ্যের আবর্তে আবিষ্ট হইয়া একাকি উচ্ছুন্নে যাইবার প্রাক্কালে এই এক ক্রিকেটীয় আমোদই অনেককে একত্রে জুটাইবার সমর্থ রাখে আজও। তা যে যাহাই হউক, কমলাকান্ত বিচক্ষণ দপ্তরী, BCCI নামক দপ্তরটিকে বেশ গুছাইয়া দিতে সক্ষম তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই”।

গোবিন্দলাল তার স্রষ্টার পাশে বসে উনাকে পাখার বাতাস করছিল, সে বলল- “এইখানে বসিয়া হুঁকা টানিয়াই কি দেশজ ক্রিকেটের শ্রীবৃদ্ধি ঘটাইবেন? নাকি নিজ সৃষ্টি যখন এত বড় গুরুদায়িত্ব লব্ধ করিয়াছেন তাকে পরামর্শ দিয়া কিছু কর্ম সম্পাদনে সাহায্য করিবেন”। চাটুজ্যে মশাই যেন কিছুক্ষণ গুম মেরে ভাবলেন, অতঃপর বললেন- “প্রয়াত কৃষ্ণকান্ত যে তোমার প্রতি কেন সুবিচার করিয়াছিল তাহা আমি এখন যথেষ্ট বুঝিয়াছি। তাহলে চলো ওনাকে একটা সম্বর্ধনা প্রদান করিয়া আসা যাক”। গোবিন্দলাল পুনরায় বলল- “কিছু পুষ্পস্তবক লইয়া গেলে কি একটু বেশি ভাল দেখায়না”! বঙ্কিম বাবু হাঁ হাঁ করিয়া হাঁক পাড়িলেন মুচিরাম গুড়ের উদ্দেশ্যে। সুঠাম চেহারার মুচিরাম এসে উপস্থিত হতেই চাটুয্যে মশাই আদেশ করলেন- “যা বাবা, মাহেশে যাইয়া রাধারানির থেকে বেশ কিছু পুষ্পমালিকা নিয়ে আসিও। আর এই পাঁচ শিকে লইয়া যাও, উহাকে দিবি। আদেশ মত মুচিরাম হো হো করতে করতে দৌড়ে গেল আদেশ পালন করতে।

এদিকে আদালতের বটগাছের নিচের দপ্তরে আজ তিল ধারনের পরিস্থিতি নাই। কাঁঠালপাড়ার বসত গৃহ হইতে চাটুজ্যে মশাই যতক্ষণে পৌছালেন ততক্ষণে কমলাকান্তের দপ্তরের ক্ষুদ্র খড়ের আটচালাটি ঘিরে থিকথিকে ভিড়। দ্বারের বাহিরে রঙ্গরাজকে লাঠি হাতে উপস্থিত দেখেই ঠাওর করিলেন নিশ্চই বারেন্দ্রভুমের ভূতনাথ গ্রাম থেকে হরবল্লভ বাবু তাঁহার পুত্র ব্রজেশ্বর এসে উপস্থিত হয়েছে। চাটুয্যে মশাই মনে মনে ভাবলেন- “আজিকাল অতিদ্রুত তার পৌঁছাইয়া যায়, তদহেতু এনাদের আসিতে কোনো বিলম্ব হইবার কথা নাই। বঙ্গদেশের প্রতিটি উঠানে ক্রিকেটকে পৌঁছাইয়া দিতে কমলাকান্ত চক্কোত্তির ঘাড়ে যখন ভার সোপর্দ হইয়াছে, এনারা যে শুনিবা মাত্র আসিবেন তাহাতে আর আশ্চর্যের কি”!

  উপেন্দ্রর পিতা হরমোহন বাবু একটা কেদারাতে উপবিষ্ট, নিচের গদিআঁটা ফরাসে চাইলেও বসতে অক্ষম বাতের ব্যাথার প্রকোপে। যুবক প্রতাপ, ব্রজেশ্বর, বসন্ত, দেবেন্দ্রনারায়ন, শচীন্দ্র, নবকুমার, হেমচন্দ্র প্রমুখ সমবয়সীরা নিজেদের মধ্যে আলাপে ব্যাস্ত। বঙ্কিমবাবু পৌছাতেই বৃদ্ধ রামসদয় মিত্র মহাশয় এগিয়ে এসে বললে- আজি আমাদের কি পরম সৌভাগ্য। আমাদের স্রষ্ট্রা তথা যশোরের ডেপুটি মেজিষ্ট্রেট মহাশয় স্বয়ং আমাদের মাঝে হাজির”। বঙ্কিম বাবু একটু সলজ্জ হেসে বল্লেন- “আলোচনা যখন ক্রিকেট সম্বন্ধীয়- তখন আমি না আসিয়া কিভাবে উপেক্ষিত করি”! ওদিকে কমলাকান্ত তার মার্জ্জারের সাথে দুর্বোধ্য ভাষাতে কিছু আলোচনাতে রত। বঙ্কিম বাবুকে যষ্টি হাতে দেখে বিড়াল এ যাত্রায় পলায়ন করল, ও কমলাকান্ত শশব্যাস্ত হয়ে গদগদ মুখে  ওনাকে অভ্যর্থনা করল।

সর্বসম্মত সিদ্ধানে চ্যাটুজ্যে মশাই এর সভাপতিত্বে সভার কার্য শুরু হতেই বঙ্কিম বাবু বলে উঠলেন- সকল কিছুর পূর্বে আমাদের বাংলা সাহিত্যের সমস্ত চরিত্রগুলি ও উহাদের স্রষ্টাদিগকে একছাতার তলদেশে সঙঘবদ্ধ না করিতে সক্ষম হইলে, ফিরিঙ্গিদের বিরুদ্ধে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠিতে বাধ্য”। সকলের বুঝতে বারি রইলনা যে মূল মেমোরান্ডাম ততক্ষণ গঠিত হবেনা, যতক্ষণনা অন্যান্য তাবড় তাবড় চরিত্রের আগমন ঘটবে। 

এভাবেই আলোচনার প্রাথমিক মঞ্চ গঠিত হয়ে ভবিষ্যতের রূপরেখার ক্ষীন সম্ভাবনা দেখা দিল।।

ক্রমশ…  

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *