রাষ্ট্রীয় রিরংসা

রাষ্ট্র, 
তুমি ততটাই মেরো যতটা সহ্যের ক্ষমতা রাখো। আজ যারা উল্লাস করছে পৈশাচিক আনন্দে, কাল তাদের রক্তে রাজপথ রাঙা হলে তখনও আমি ততটাই কষ্ট পাবো যতটা আজ পাচ্ছি এদের দেখে। পুঁজি বলতে এই একটা বেয়াহা প্রতিক্রিয়াশীল মনন, যৎসামান্য ভাবনা ভাবতে পারার ক্ষমতা, আর কিছুটা সৎ সাহস। এই দিয়ে এমন শুকনো কিছু প্রতিবাদমূলক(!) লেখা ছাড়া আর কিছুই পারিনা, মোদ্দাকথা মুরোদ নেই।

বিপ্লব করতে গেলে যে কলজের দম লাগে, পরিবার ও সামাজিক দায়ে তা কবেই অ্যাপেন্ডিক্স এর মত বাদ দিয়ে দিয়েছি, আমি একা নই আমরা। আজকাল স্বপ্নেও বিপ্লবের কথায় ত্রিপুরার বেশি নজর ডিঙোয়না। তবুও, বিকলাঙ্গ ভাবনার ঘূর্ণিপাকে দৈনন্দিন শিখে চলার প্রবাহতে ভাসতে ভাসতে একটা মিথোজীবীয় সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায় বর্তমানের সাথে চোখ-কান-নাক বুজে থাকার অনুশীলনের। তখনই মনে হয় যেটা পড়ছি সেই নীতিজ্ঞান সত্য নাকি যা প্রয়োগ দেখছি সেটা সত্য। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ নয়, অবচেতন মনের সাথে ঝিমিয়ে যাওয়া মস্তিষ্কের আঁশটে প্রলাপ। এ বড় প্রহসন।

আরোপিত দেশভক্তির আরক খাইয়ে সাময়িক বুঁদ করে রাখা যায় এটা সত্য, ইতিহাস সাক্ষী- ক্রোধের দাবানল ছাড়খার করে দেয় স্বৈরাচারী শাসককে। মানচিত্র বদলে যায়, সময়ের সাথে। ইতরেরা কুলটাচরণে নিয়োজিত হয় সমবেতভাবে, নির্দিষ্ট বাক্যবাণে যা আরশির প্রতিবিম্বে প্রত্যহ দেখতে অভ্যস্ত।

নিপিড়নের খুনে হাতে সভ্যতা আজ কলুষিত, চেঙ্গিসেরা শুধু নাম বদলায়। শক, হুন, মোগলেরা এদেশের মাটিতেই বিলীন হয়ে গেছে। লুটেরা নাদির দীর্ঘজীবী হয়নি, লুটেরা ইংরেজ শিখিয়েছে কিভাবে নিয়ে পালাতে হয়। তাদের বংশবদেরা আজও দিকে দিকে লুঠের রাজত্ব কায়েম করেছে। পেশী শক্তির আস্ফালনে স্বাধীনতা হরন করার মাঝে এরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে, অদৃষ্ট বিদ্রুপ হেসে মিলনান্ত নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটায় বিবশ করে দিয়ে। সমদোষে দুষ্ট কে আজ আঙুল তুলে বলতে পারার সৎ সাহস রাখে- ‘তুমি ভুল করছ’। ক্ষমতার অহঙ্কার যখন স্তাবকের লালায় পিচ্ছিল তখন অক্ষমের মুহুর্মুহু রাসভে ভক্তেরা শিৎকার করে অভ্যাসে।

রাষ্ট্রীয় রিরংসা দুর্লঙ্ঘ দুস্তর তা অনেকের নিকট ঋষিকল্পও বটে, যাকে সহ্য করতে হয়নি। পদলেহনকারী কীটের দল গর্ত থেকে পিলপিল করে বেরিয়ে এসে তাদের ক্লীবত্বের প্রদর্শনী করে। দুষিত বীর্যের পঙ্কিল আবর্তে প্রজন্ম অন্ধ বধির, অজ্ঞানতাকেই অলঙ্কার হিসাবে জাহির করে গর্বে। ইতিহাস এরা পড়েনা, তাই ইতিহাস এদেরও সময়ের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে সানন্দে। অর্থ, বৈভব, বিত্ত, নারী ক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য ভোগ, ত্যাগের জন্য বজ্রমুষ্ঠি উদ্ধত হয়না। ধর্ম শান্তির বানী শেখায়, ধার্মিক শান্তি খুঁজে বেড়ায়, অতিধার্মিক ধর্মের আড়ালে স্বার্থসাধন করে, ব্যবসায়ী ধর্মকে আপন অনুকুলে ব্যাখ্যা করে মুনাফা কামাই করে। ধর্ম, ফন্দি ফিকির, অভিসন্ধির ফাঁসজালে সভ্যতা আরো একটি সমাপনের দোরপ্রান্তে। আপনি কোন দলে? শিক্ষাই আপনাকে মানুষ করতে পারে।

হৃদয়ের ধুকপুকানি বন্ধ হবার পর কতজন বেঁচে থাকে? কথা বলছি মানেই কি বেঁচে আছি? যেটা বলতে চাইছি সেটা বলতে না পারলে কিসের বেঁচে থাকা? সরিসৃপেরাও বাঁচে খাদ্য আর জৈবিক ক্রিয়া সাধনের জন্য। হয় প্রকাশ্যে শিড়দাঁড়া বেঁকিয়ে বশ্যতা স্বীকার নতুবা সাধ্যের মধ্যে স্বাধীনতার প্রকাশ করা- “আমি রাষ্ট্রের শাষানিতে বা অসদ প্রাপ্তির লোভে বিকিয়ে যাবনা”। আমি বা আমরা, দুর্বলেরাই রাষ্ট্রেই সহজ লক্ষ্য ও প্রতিপক্ষ।

স্মার্ত জানে মহানিশার পাটনিকে মহানাদ দিতে নেই। আনীল তামসীতর কবোষ্ণতে ওম নেওয়া নগরকুলপতিদল- ‘নগর পুড়লে দেবালয় বাঁচেনা’ প্রবাদটি ভুলে গেছে প্রজ্ঞাপনের ঢক্কানিনাদে।

তুরগে অনুপান অসিদ্ধ, তথাপি প্রতীক্ষা শুভবুদ্ধির, চরম প্রত্যাঘাতের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত। যে অনলের পরবর্তী শিকার হয়ত আমি, আপনি ও আমাদের পড়শীরা। রাষ্ট্র হোক বা বীতস্পৃহ অত্যাচারিত, আন্দু ছিঁড়তে শক্তি লাগেনা, শুধু সাহস লাগে।

লেখাঃ তন্ময় হক।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *