আয়ুর্বেদ অভিযান

“পূর্ববৎ সর্বত্রৈব নমঃশব্দ প্রয়োগোজেয়ঃ ।

পূজয়েদিতুস্তরেণ শিরআদীনং সর্বেষামন্বয়ং”।

এই কেলে, তারপর কি র‍্যা- বলেই বান্টুদা খেকিয়ে উঠল। আবার শুরু করল- ব্যাটা বামুনের পো, কোথায় চাট্টি শ্লোক শিখে বাপ-ঠাকুরদার পুরুতের পেশাতে ওনাদের নাম উজ্জ্বল করবে কিনা, খবরের কাগজে কোহলীর সেঞ্চুরি গুনছেন উনি। আগামী জন্মে তুই গোভূত হয়ে জন্মাবি হতচ্ছাড়া। এই রঞ্জা, তুই এখনও বাইক থেকে নামিসনি কেন রে গর্ধব, আচ্ছা নামিসনি যখন, তখন যা; লক্ষী ময়রার দোকান থেকে কিছু জিলাপি সিঙাড়া নিয়ে আয় দেখি, গা’টা বড্ড ম্যাজম্যাজ করছে। মনটাও জিলিপি জিলিপি চাইছে, ওটা না খাওয়া অবধি আমার সুস্থ হবার জো নেই। এবারে চোখ আমার দিকে পরতেই- এই নচ্ছার মেনিমুখো, শো’কেসের আড়াল থেকে বেড়িয়ে আয়।

রাধুর দোকান থেকে বেড়োতেই আমার বুকপকেট থেকে প্রায় ছোঁ মেরে পঞ্চাশ টাকার নোটটা বেড় করে রমজান মানে রঞ্জার হাতে দিয়ে বলল- রেশনের ‘চিনি-কেরোসিন’ ব্ল্যাকে বেচা বিগ ডিলারের কালাধনের টাকায় একটু মাখাসন্দেশ না খেলে আমার ঠাকুর পাপ দ্যায়, আমার আবার লো-কোলেস্টেরল কিনা। লো-বিপি, এমনকি লো সুগারের নাম শুনেছি, লো-কোলেস্টেরল আবার কী জনিস শুধাতেই, যাচ্ছেতাই ভাবে নাক মুখ কুঁচকিয়ে, কান থেকে সুড়সুড়ি দেবার পায়রার পালকটা বেড় করে বান্টুদা বলল- ডাক্তারেরাই যে সবটা জানবে এমনটার গ্যারান্টি কে দিয়েছে! এটা আমার আবিষ্কৃত রোগ। নেচার পত্রিকার পরবর্তী এডিশনে জানতে পারবি। আমি বলতে যাচ্ছিলাম যে নেচারে কী আর মানুষে রোগ নিয়ে কিছু…- কথাটা শেষ করতে না দিয়ে বান্টুদা বলল- বড় বিজ্ঞ হয়েছিস দেখছি ন্যাপলা, নচ্ছার বরডেটেলা পারটুসিস। মনে রাখিস আমি তোর ছোটকাকা মন্টুর চেয়েও দু’বছরের বড়, মেলা ফ্যাচফ্যাচ করবিনা। হেডমাস্টার অঘোরনাথ বাবু আমাকে ফাইভ থেকে তোদের সাথে নাইন পর্যন্ত তুলতে যে পাক্কা ষোলোটি বছর লাগিয়ে দিল, ওটা ওনার ব্যার্থতা। আমিও দত্তবাড়ির ছেলে, আমারও মানইজ্জত বলে একটা কথা আছে, খোদ মাষ্টার যখন আমাকে রেখে দিয়ে ইস্কুলের সম্মান বাড়াতে চাইছে, খামোখা আমিইবা বাখড়া দেব কেন! তবে অঘোরবাবুর আর মাত্র চার বছরের চাকরি আছে, তার পর নতুন হেডমাষ্টার এসে ঐতিহ্য ভুলে রোসের বসে যদি আমাকে মাধ্যমিক দিতে বাধ্য করে, এই ‘রায়চাঁদ গুনধর সেকেন্ডারি ইস্কুল’ সেদিন বুঝতে পারবে কোন রত্ন সে হারালো।

রত্নই বটে, পুণ্ডরীকাক্ষ দত্ত, বেগুন ক্ষেতের কাকতাড়ুয়ার মাথার উপরে একটা মাটির কুঁজো উল্টে তার মাথায় একবস্তা চুল বসিয়ে দিলে ঠিক যেমন দেখতে লাগবে, উনিও তেমনই একজন নমুনা, আমাদের ঠেকের মধ্যমণি। ডাকনাম বান্টুদাটা যে কে দিয়েছিল তার কোনো ইতিহাস না থাকলেও, অবিনাশকাকুর টু’য়ে পড়া ছোট ছেলে নান্টু থেকে পোসেনের দাঁত ফোকলা পিসেমশাই অবধি ওকে বান্টুদা বলেই ডাকে। প্রায় একই ধরনের খান তিনেক সিল্কের পাঞ্জাবী পাজামাতেই আজন্ম দেখে আসছি ওনাকে। গোটা শরীরে ২০০ গ্রামও চর্বির লেশ মাত্র নেই, একটা শক্তপোক্ত কঙ্কালের উপরে তামাটে রঙের চামড়া জড়ানো হলেও কচুরিপানার শেকড়ের মত ঝাঁকড়া চুলের দরুন বহুদুর থেকে যেমন চেনা যায়, তেমনি ভিড়ের মাঝেও ওনাকে আলাদা করা যায়। কার্তিক ঠাকুরের মত পাতলা গোঁফ আর বাহারি জুলফি নিয়ে ওনার আদিখ্যেতার শেষ নেই। খ্যাংড়া কাঠির মত আঙুলে যখন গাঁট্টা মারে বা ছোঁ মেরে কিছু কেড়ে নেয়, সেই স্পর্শেই আমাদের ত্রাহি মধুসূদন রব উঠে।

কিম জং উনের গোপন ডায়েট থেকে জারোয়াদের বিয়ের লোকাচার সম্বন্ধীয় সকল তথ্য ওনার কাছে চটজলদি পাওয়া যায়। জলজ্যান্ত গুল মারলেও ওর অবিশ্বাস্য রকমভাবে বলায় কায়দার জন্য সবটা জেনে বুঝেও কেউ কিচ্ছুটি বলতে পারেনা। ওর মা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন, বাবা বিদ্যুৎ দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। বাবার পেনশনের টাকায় সংসার কোনো রকমের চলে যায় আরকি।

শরীরের কথা এমন কেন শুধালেই বলে- এ হচ্ছে কঠিন সাধনার ফল, বড় মেহনত করে এই শরীর ধরে রেখেছি। জাপানী পাহাড়ী সন্ন্যাসীদের এক অব্যার্থ কৌশল হল ‘ইয়ামাবুশি’, সেই বিশেষ ধরনের যোগব্যায়ামের  অনুশীলন করি আমি। যদিও আমরা কখনও তাকে ওটি করতে দেখিনি, শুধালেই বলে- সাধনা কী লোকদেখানোর জিনিস, গভীর রাত্রে যে কয়েক মিনিটের জন্য গাছেরাও শুয়ে পড়ে, তখন নাকি তিনি ওটার অনুশীলন করেন। তিনি হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এসব কোনো ধর্মেরই অনুগামী নন, এসব ধর্মে বড্ড হানাহানি। তাই মধ্যযুগের জাপানী সামুরাইরা যে ধর্ম মানত সেই ‘শুগেন্দা’ ধর্মমতের অনুগামী তিনি। উনি যে উপাসনাটা করেন তার নাম ‘ইয়ামাবিতো’। সবে মিলে গোটাটা বুঝতে গেলে ওনার ভাষাতেই ‘ফুরিগান্তেচ্চিলি’ হয়ে গেছিল আমাদের। এই শব্দটার মানে আমরা হন্যে হয়ে খুঁজেও কোথাও পায়নি। যদিও রেগে গেলে বিভিন্ন জীবানুদের ইংরেজি নাম ধরে গালি দেওয়াটা তার মজ্জাগত।

গত ৭-৮ বছরে ওকে অন্তত ১০-১২ রকমের পেশা পরিবর্তন করতে দেখেছি, আজকাল ও কিছু চেষ্টা করব ভাবলেই, ওর ভাবনাতে জল ঢেলে দিতে সারা পাড়া থেকে বিশ-পঞ্চাশ টাকা করে চাঁদা তুলে ওর হাতে দেড় দু’হাজার টাকা করে দিয়ে, সে যাত্রায় ক্ষ্যান্ত করা হয়। একবার বিরিয়ানির দোকান দিয়েছিল, সেবারে ওর ‘দুবাই বিরিয়ানি’ সেন্টারের সস্তার বিরিয়ানি খেয়ে, পাড়ার ১৯ জন আন্ত্রিক বাঁধিয়ে মরতে মরতে বেঁচে ফিরলেও,  হালদার বাড়ির বুড়োটার সে ভাগ্য হয়নি, সেঞ্চুরির দোরগড়াতে দাঁড়িয়ে ‘বান্টুর বিরিয়ানি’ খেয়ে সটান স্বর্গে আরোহণ করেছিলেন। ব্যাস, দোকানের ঝাঁপ বন্ধ।

এমনই, দারোয়ান সাপ্লাই এজেন্সি, মোবাইলের টাওয়ার বসানোর দালালি, তারাপীঠের সিদ্ধ তান্ত্রিক জ্যোতিষের চেম্বার, ট্রাভেল এজেন্সির ফ্রঞ্চাইসি, জীববিজ্ঞানের ছাত্রদের ইঁদুর-ব্যাঙ সাপ্লাই, এমনকি খাসির মাংসের দোকানে ধাড়ি ছাগলের সাপ্লায়ও বেশ কিছুদিন করেছিল। কোনোটাতেই ৩ মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি, কিন্তু প্রতিবারই পাড়ার লোকের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছিল। তবুও ওর অত্যাচার সকলে সয়ে নিত, কারন রাতবিরেতে যার যখনই দরকার হোক, বান্টু বলে হাঁকলেই ওই সিল্কের পাঞ্জাবী গায়ে গলিয়ে অকুস্থলে হাজির। নতুবা আদর্শ হিন্দু হোটেল খুলে সেখানে ভাগারের পচা মাংস খাইয়েও এ পাড়াতে টিকে থাকতে পারতনা।

রঞ্জু মানে রমজান আলী সেখ আমারই সহপাঠী, ওর বাপের করাতকল আছে। পড়াশোনাতে ও কেলে মানে কালীপদর চেয়েও ভাল। কালীপদ ভট্টাচার্য স্বভাব তোতলা, ক্রিকেট অন্ত প্রাণ। বাকি অনেক কটা বিষয়ে রঞ্জুকে টেক্কা দিলেও অঙ্ক আর ইতিহাসে প্রতিবার ফেল করতে করতে সে পাশ করে। ওর দাদু, বাবা, কাকা সকলে মিলে একটা বড় ওষুধের দোকান চালায় মানিকতলায়, ভীষণ হারে রোগীর ভিড় হয় দোকানের লাগোয়া চেম্বারে ডাক্তার বসায় বলে। আমাদের দৈনিকের আড্ডাটা বসে রাধুর জেরক্স তথা মোবাইলের টপআপ ভরার দোকানের ঠিক উল্টো দিকের তপন পালের বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টুডিওর সামনেটাতে। রাধুর দোকানের পাশেই ওর ভাই সাধুর চায়ের দোকানে আমাদের মাসকাবারি খাতা চলে।

আমাদের ঠেকের মাথায় খোলার ছাউনি রয়েছে, এখানেই একপাশে সিমেন্টের শান বাঁধানো বেঞ্চে দাবা, লুডো, ষোলো গুটির ছক কাটা রয়েছে। দুহাত দূরে আমার বাবার গোডাউন থেকে আনা একটা কেরোসিনের খালি পিপের উপর ক্যারামের ম্যাচ বোর্ড, নিচে তাসের আড্ডা। এই হচ্ছে ঠেকের চালচিত্র। ওহ, আমার পরিচয়টাই দেওয়া হলনা, আমার নাম নৃপতি নারায়ণ ভাদুরী। বড় খটমট আর বানান করাও বেশ কঠিন, প্রাইমারি স্কুলে এই বানান না বলতে পারার জন্য কী কম ধোলাই খেয়েছি! বরঞ্চ ন্যাপলা ডাকনামটাই আমার ভারি পছন্দের।

রঞ্জা খানিক্ষনের মধ্যেই জিলাপি, সিঙারা আর সন্দেশ এনে হাজির করতেই চিতাবাঘের মত লাফিয়ে পরে সেগুলোকে হস্তগত করে গোগ্রাসে গিলতে লাগল বান্টুদা। বাইকের টুলবক্স থেকে গোপনে আরো একটা সিঙারার ঠোঙা বেড় করে আমাদের দুজনের হাতেও দুপিস করে গুঁজে দিল রঞ্জু, বান্টুদার চোখ এড়িয়ে। এর মাঝে একবার শকুনের দৃষ্টি হেনে বান্টুদা কালীকে বলল বটে- এই তোর মুখ নড়ছে কেন! কালী বলল- এমনি, সেই দুপুর থেকে কিছু খাইনি তো তাই দাঁত কপাটি লেগে যাচ্ছে। বান্টুদা একটা সিঙাড়ার একটা কোন থেকে একটা পুঁই মিচুরির সাইজের ভাজা ময়দা ভেঙে ওর হাতে দিয়ে বলল- নে, খেয়ে নে, নাহলে পিত্তি উঠবে। অবিশ্যি এর বেশি খেলে তোর যে আবার এ্যাসিড হয়।

আচ্ছা কেলো তোদের দোকানের চেম্বারে কোন কোন ডাক্তার বসে র‍্যা! আমার মাথায় একটা চিগিদুম্বা মার্কা আইডিয়া এসেছে। এবারে আমি নির্ঘাৎ শিল্পপতি হয়েই ছাড়ব, বান্টুদা বলল। -আবার আইডিয়া! সমস্বরে আমাদের মুখ দিয়ে বাক্যটা বেড়িয়ে আসতেই ম্যালেরিয়া জ্বরের রোগীর মত আমাদের শরীর ভাইব্রেশন মোডে চলে গেল। খানিক পর ধাতস্থ হয়ে রঞ্জা শুধালো- তোমার ধান্দাটা কী বান্টুদা! এবারে আবার কার পটল তোলার ঠিকে নিচ্ছো!

এতটুকুও না রেগে বান্টুদা বলতে শুরু করল- এই যে লোকে গান্ডেপিন্ডের মত এ্যালোপ্যেথি গিলে চলেছে মুঠোমুঠো এর প্বার্শপ্রতিক্রিয়াতেই বকুল গয়লার অমন ফুটফুটে মেয়েটির ঝাঁটার মত গোঁফ গজিয়েছে। ননী বাগদি কফ সিরাপ খেয়ে কাসতে কাসতে মুখ দিয়ে একখানা কিডনি বমি করে উগড়ে ফেলেছিল সে খেয়াল আছে! এই ন্যাপলা, বিশ্ব বিখ্যাত ডাক্তারের নাম বল দেখি। কালীপদ অমনি ফস করে বলে বসল- পুলোনো হলে বিদান চন্দলো লায়, আমাদেল তে-তে-তে তেম্বালে আতে ডাত্তাল ললিলি ললজোল দত্ত। বান্টুদা মেজাজ তিরিক্ষি করে ততোধিক ভেংচে ওকে জবাব দিল- তোতে আর বোলতে হবেনা টিনিয়া ক্ররিশ, ব্যাটা হাফব্যাটারি তোতলা ভুত। আমি তৎক্ষনাৎ বল্লাম- ডাঃ ডি কে লোধ?

বান্টুদা তড়াক করে মাদারির মর্কটের মত একটা চরকিপাক খেয়ে, সাধুর চায়ের একটা কাঁচের গ্লাস ভেঙে বলল- আজকাল তোর বুদ্ধিটা খুব খুলেছে আমার মতই, বড় হয়ে স্ট্রেপটোকক্কাস হবি। মানুষের আসল রোগ হল ওই গোপন রোগ, যেটা কাউকে বলতে পারেনা। মাঝে আমি কামাক্ষ্যাতে ছিলাম মাস সাতেক, তখন তোরা হামা কাটিস সবকটা, সাধু সেবেৎসু মহারাজের আশ্রমে, তিনিও জাপানী ছিলেন। উনার কাছেই আমি গাছগাছালি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করেছিলাম। ভাবছি ওই জ্ঞানটা আরেকটু ঝালিয়ে নিয়ে একটা আয়ুর্বেদিক ওষুদের দোকান দেব, আর গুপ্ত রোগের ডাক্তার বসাবো আমার দোকানের চেম্বারে। এর জন্য অবশ্য বেশ কিছু গাছগাছড়ার ছালমূলের স্টক চায়, মানে ঐ ঔষধী গাছের। আর একটা ইনভেষ্টর।

কোলকাতা থেকে সর্বপ্রথম পরবে বাহাদুরপুর জঙ্গল, তাপ্পর বেথুয়াডহরি, এবারে মালদার পাখির জঙ্গল ছুঁয়ে সোজা গরুমারা। ওখান থেকে পুরাতন সিল্করুট ধরে রোংলি, জুলুক হয়ে নাথাং ভ্যালি পর্যন্ত যাব। কে আমার ইনভেস্টর হবি বল, ২০% লাভ দেব, ২০% শেয়ার। আগামীর শিল্পপতির সাথে একফ্রেমে থাকতে চাস যদি, আজই সিদ্ধান্ত নিয়েনে, নতুবা পরে পস্তাতে হবে। আমরা কেউ রা কাটছিনা দেখে রঞ্জুর ঘাড়েই কোপটা পরল, কিন্তু রমজানও সেয়ানা মাল, সে তৎক্ষণাৎ বলল- শুনেছি গাঁজার না কিসের নিষিদ্ধ কিছু বাবসা করে দেদার কালাপিলা ধন জমিয়েছে তারাপদ চাকলাদার, উনার কাছে আমি নিয়ে যেতে পারি। সে রাজি হলে পার্টনার হিসাবে মন্দ হবেনা, এক্কেবারে নিউমোনিয়ার পি, সাইলেন্ট পার্টনার।   

…ক্রমশ

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *