পাঁচে পাঃ অকপট

পাঁচ এক্কে ৫

পাঁচ এ পঞ্চবাণ

গাইব অকপটের গান।

প্রণটা যদি জুড়াতে চান,

দূর করে কপটতার ভান,

দিলে ফিরৎ পাবেন মান,

ভাবনার ঘরে দিয়ে শান,

বিদ্বেষ বিষ হোক যে ম্লান,

শীতল হাওয়ায় জুড়াবে জান।

সাবালকত্ব বলে একটা ভাষা থাকলে সাশিশুত্ব বলে কোনো শব্দ অভিধানে নেই, থাকলে মন্দ হতনা। মানবশিশু যে বয়সে সুন্দর ভাবে সেজে গেঁথে পরিজনের হাত ধরে ইস্কুলের দিকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে রওয়া দেয়, সেটা ওই পাঁচবছর বয়সে। পাঁচ বছরের শুরুতেই দুষ্ট বুদ্ধি, চঞ্চলমতি, একটি শিশুর চোখে থাকে পৃথিবী জোড়া বিস্ময়, অবিরল বোলে মুখরিত প্রশ্নেরা একে অপরের গায়ে মাথা কুটে মরে। ঘরের চার দেওয়ালের বাইরে, সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশে, তারই মত কিছু সমবয়সীদের ভিড়ে নিজেকে আবিষ্কার করে। খেলতে খেলতে পড়ার ছলে জীবনের শৃঙ্খলা শিখতে শিখতে আসন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার সামনে নিজেকে সঁপে দেয় অজান্তেই। বড় হওয়ার প্রথম সিঁড়িতে সে চড়ে গেছে এটা বাকিরা বুঝতে পারে।

হ্যাঁ , এটাই পাঁচ বছর বয়সের কর্মকান্ড।

ভাবছেন কার আবার পাঁচ বছর হল? আজ্ঞে আমাদের সকলের প্রিয় অকপট আগামী ২৪শে আগস্ট ২০১৯ তার পঞ্চম জন্মদিনের শুভক্ষণে উপস্থিত হয়েছে। জন্মানোর পর থেকে শুয়ে, বুকে টেনে, হামাগুড়ি দিয়ে, ল্যাগব্যাগিয়ে একপা একপা করে হেঁটে, দৌড়ে, এখন নিজেই সে আপন ছন্দে খেলতে শিখে গেছে। অকপটকে যারা হাতে, পিঠে, কোলে করে গড়ে তুলেছেন সেই সকল সদস্যই যে আমাদের সাথে আছেন তা নয়, কারনে অকারণে অনেকেই অকপট ছেড়েছেন, আজ সেই সকল সদস্যদের ‘অকপট’ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছে। তাদের জন্য আপনিও গর্ব অনুবভ করলে কমেন্টে ওনাদের প্রতি একটা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন।

ফেসবুক মঞ্চটা তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই ‘গ্রুপ কনসেপ্টোটা’ ছিলনা। এর পরে যখন এই ধারনাটা এলো, তখনও সকলের কাছে পরিষ্কার ছিলনা এখানে ঠিক কী করা যেতে পারে। পরবর্তীতে গুডমর্নিং, গুড ইভিনিং এর সাথে কালজয়ী সাহিত্য উপন্যাসের খণ্ডগুলো কেউ কেউ গ্রুপে পোষ্ট করতে থাকে। তখনও শিক্ষক গ্রুপ, সাহিত্য গ্রুপ ইত্যাদি আসেনি। এমনই পর্যায়ের শেষর দিকটাতে অকপটের জন্ম, ট্যাগ হীন ভাবে। এর পরে আজকাল প্রতিক্ষণে যেখানে নতুন নতুন গ্রুপ জন্মাছে “বাহুমূলের কেশরাজিকে রাঙা করার ৩১টি উপায়”, “হাত থাকতে মুখে কেন”, “বৌদির দেওর”, “সৌরমণ্ডল সাহিত্য গ্রুপ”, “ম্যাপ পয়েন্টিং কাব্য”, ‘আমরা খিস্তিপ্রেমী”  “সেলফিতে ঢাকা কবিতা” ইত্যাদি নামে সেখানে অকপটের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাটা ঝকমারির বৈকি, যেখানে বাতাসে অবিশ্বাস আর সাম্প্রদায়ি মেরুকরণের বিষবাষ্পে ভরপুর সেখানে অকপট কোনো রকমে পা ডুবিয়ে দলে আছি দেখিয়ে, বাকি শরীরটা পবিত্র রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষ কিছু উচ্চডিগ্রি থাকলে আপনি সেই একটা পেশাতেই আটকা পরে যান, কিন্তু ডিগ্রির বাঁধা না থাকলে আপনি যা খুশি করতে পারেন, অকপট তেমনই একটা ধারনাকে কেন্দ্রকরে গড়া হয়েছিল, যদিও মলাটের মাঝে ছাপা পত্রিকা প্রকাশনার সুবাদে অনেকেই শুধুই সাহিত্যধর্মী গ্রুপ বলে দাগিয়ে দেবার প্রচেষ্টা করলেও অকপট তার নিজের ছন্দেই থেকেছে এ যাবৎ। অনেকটা চড়াই উৎরায় পথ অতিক্রম করে আজ অনেকটা শক্ত জমি তথা নিজস্ব পরিচিতির মাঝে অকপট দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ ঘাটে বহু নৌকা নোঙর হয়েছে, তাদের জ্ঞানগম্যিতে অকপট সমৃদ্ধ হয়েছে, অনেক লুটেরা এসেছে, এখান থেকে বৌদ্ধিক সম্পত্তি তস্করবৃত্তি করে নতুনকরে সমান্তরাল অকপটের প্রতিদ্বন্দী তৈরি করতে গিয়ে সময়ের কুম্ভীপাকে হারিয়ে গিয়েছে। সময়ের স্রোতে অনেক গাছের গুঁড়ি এসেছে, তারাও ভেসে গেছে কুলের ঠিকানা না পেয়ে, আর কচুরিপানার দলেদের হামেশাই আনাগোনা লেগে রয়েছে সকাল বিকাল। তার পরেও কিছু মহীরুহ রয়ে গিয়ে শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে অনেকের প্রাণে শীতল ছায়া প্রদান করেছেন। সময়ের নিয়ম ও দাবী মেনে সবটাই ভীষণ প্রাসঙ্গিক।

অকপট শহুরে আঁতেলদের গন্ধবিচার ধরনের ঠেক নয়, সমমনস্ক হলে বয়সের বিভেদ ভুলে আপন করে নিতে জানে অকপটুরা কুচবিহার থেকে কাকদ্বীপে অনায়াস বাংলা, বাংলাদেশ থেকে গ্রীনল্যান্ড সকলকে এক সুত্রে বাঁধতে পারার ক্ষমতা রয়েছে অকপটের পরিবেশের। অকপটের নিজস্ব কোনো লক্ষ্য নেই, সদস্যদের সমসাময়িক চাহিদাই অকপটের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে, সদস্যদের মধ্যে থেকেই অকপটের প্রতি ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতা দর্শন মোতাবেক পরিচালকেরাও উঠে আসে।

অকপট আগামীতে আরো ভাল কিছু করুক, কৃষ্টি সংস্কৃতিতে সরিষা পরিমাণ অবদান রেখে যাক এটাই কাম্য, সদস্যদের ইচ্ছানুসারে এই শুভকামনা রইল গ্রুপের একনিষ্ঠ ভৃত্য হিসাবে। যেদিন ফেসবুক বলে কিছু থাকবেনা, কালের গর্ভে তলিয়ে যাবে রেডিফবোল, ম্যেসেঞ্জার, অর্কুটের মত সেদিন স্মৃতিচারণাতে যেন ফেসবুকের সাথেই অকপটের নামটা রয়ে যায় উজ্জ্বলভাবে অনেক হৃদয়ে।

আগামী কাল থেকে আমাদের জন্মদিন উদযাপন সপ্তাহ শুরু হয়ে যাচ্ছে। সেই মোতাবেক প্রতিদিন কিছুনা কিছু বিশেষ ধরনের পোষ্ট হবে। অকপট গুরু, অকপট ভূষণ, অকপট সপ্তক, অকপট নব্যপটু, অকপট রত্ন, অকপট তুর্কি, অকপট শ্রী, অকপট চন্দ্র ও অকপট মহাগুরু সম্মানে ভূষিত করা হবে আমাদের বিশিষ্ট সব অকপটুদের, সারা বছর জুড়ে অকপটে তাদের অবদান মোতাবেক।

কিছু ইভেন্ট যেটা হবেঃ

অকপট বলতে আপনার হিসাবে কি ও কেন, এই বিষয়ে নতিদীর্ঘ প্রবন্ধ বা রচনা দিতে পারেন।

সদস্যেরা অকপটকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে পারেন, অকপটকে নিয়ে ছড়া বেঁধে, অকপটকে নিয়ে গল্প লিখে অকপটের দেওয়ালে পোষ্ট করতেই পারেন। #অকপটস্মৃতিচারণ, #অকপটছড়া, #অকপটেরগল্প ইত্যাদি হ্যাসট্যাগ সহ।

বিগত চার বছরের অকপটের পরিবেশের পর্যালোচনা করতে পারেন, কি হতে পারত এবং কি হতে পারে আগামীতে সেই সম্ভাবনা নিয়ে। #অকপটপর্যালোচনা।

আপনার প্রিয় অকপটু কোন বিশেষ জন বা একাধিক থাকলে তাঁরা কারা কারা? তাকে তথা তেনাদের নিয়ে একটা সম্মানসূচক পোষ্ট লিখতে পারেন অকপটকে জন্মদিনের ট্রিবিউট দিয়ে। অবশ্যই #আমারপ্রিয়অকপটু হ্যাসত্যাগ দিতে ভুলবেননা।

#আমি_ও_অকপট এই শীর্ষক কিছু লেখার ইচ্ছা হলে আপনি লিখতেই পারেন অকপটের সম্মানে।

অকপটে লাইভে এসে বা, খালি গলায় গান, কবিতা, গল্প পাঠের ভিডিও পোষ্ট করতে পারেন। যারা লিখতে তেমন অভ্যস্ত নন, আপনার বক্তব্য ভিডিও করে অকপটের দেওয়ালে পোষ্ট করে আপনার মনের ভাব অকপটুদের সাথে ভাগ করে নিতে পারেন।

অকপটকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সেই সম্বন্ধেও আমাদের পরামর্শ দিতে পারেন অকপটে, #উন্নতঅকপট হ্যাসট্যাগ দিয়ে।

২৪শে আগস্ট ২০১৯ থেকে ফি সন্ধ্যা ৫টার সময় অকপটের দেওয়ালে আড্ডার আসর বসবে, ৩ দিন পরিচালক বা এডমিনেরা এটা পরিচালনা করবেন, বাকি ৪ দিন মেম্বারদের থেকে এ কেউ। আগে থেকেই মিউচিয়াল সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আড্ডার বিষয় ও কে আড্ডা বসাবে সেটা নির্ধারিত হবে, #অকপটআড্ডা হ্যাসট্যাগ দিয়ে।

১০ জন পরিচালক, ১০ টি গল্পের সূচনা করে দেবেন, সেই পরিচালকের পছন্দমত কোনো সদস্য বাকি গল্পটাকে তার মত করে শেষ করে ২৪, ২৫, ২৬, ও ২৭শে আগস্ট গ্রুপে পোষ্ট করবেন ক্রমান্বয়ে। #জুটিতেলুটিঅকপটে হ্যাসট্যাগ সহ।

২৫ তারিখ সকালে আবারও একটু বারোয়ারী গল্পের সূচনা করা হবে, যেটা প্রতি ৩-৪ ঘন্টা অন্তর একজন নতুন লেখক গল্পটাকে টেনে নিয়ে যাবেন, ও ২৭ তারিখ রাত্রি ৮ টার সময় অন্তিম পর্ব পোষ্ট হবে।

প্রথম কোনো অকপটুর সাথে ইনবক্সে বা সামনাসামনি দেখা হওয়ার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে স্মৃতিচারণা করতেই পারেন।

এছাড়া @জয়ন্ত, @জয়, @শেহনাজ, @সুব্রত, @দেবেশ, @শ্যাম, @নয়ন, @এম,  সহ অন্যান্য পরিচালকেরা নানা ধরনের মজাদার সব সাময়িক ইভেন্টে নিয়ে হাজির হবেন আপনাদের দরবারে। কটা দিন দেদার হুল্লোড় হবে অকপট ঘিরে।

চরৈবেতি।

তাহলে আর কি, লিখতে বা ভিডিও, অডিও বানাতে শুরু করে দিন।

অকপটে থাকুন, অকপটে বাঁচুন,

আমরা ধর্মে নয়, জিরাফে বাঁচি     

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *