কবিতা উতসবঃ অকপট

কবিতা, যা প্রাণের কথা বলবে, যা স্বপ্ন দেখাবে, দুটি প্রাণের আকুলতাকে একটা সুতোতে বাঁধবে এমন প্রাণের ভাষায় শিক্ত যে, শতাব্দীর ইতিহাসকে একলপ্তে যেখানে বর্ণনা করে সেওয়া যাবে তাই তো কবিতা। কবিতা মানে শব্দের জঞ্জাল নয়, কবিতা হল আবেগের ফোয়ারা, ছন্দের বিন্যাস, উদ্ভাষিত কল্পনার চিত্রলেখা, উপলব্ধির এমন বর্ণনা, যা পাঠ্যসুখ দেবে, ভাবতে বাধ্য করবে সেটা কবিতা। শ্রুতিনান্দনিক বাক্যবিন্যাস এমন কিছু হবে যা পঞ্চইন্দ্রিয়কে বুঁদ করে রেখে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে জাগ্রত করে তুলবে। কবিতার কোনো সংজ্ঞা হয়না, কবিতা জ্ঞানের মুল্যবোধের নাম, সৌন্দর্যের প্রকাশের নাম কবিতা। উপমার উপসংহারে বাঁধা চিত্রকল্পের নামই কবিতা।

ছাত্রজীবনের নস্টালজিয়ায় টানা দেড় মাস বুঁদ হয়ে থাকার পর সামান্য অবকাশ। এর মধ্যে শরৎ আগতপ্রায়, একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে এপাড় বাংলার বাঙালির মহা উৎসব মাস; কিন্তু এই পচা ভাদরের গরমেও মাঝে মাঝে বৃষ্টি এসে ভিজেয়ে দিয়ে যাচ্ছে রোমান্টিকতায়। বৃষ্টি যতটা রোমান্টিকতার, ঠিক ততটাই কবিতার। ভাবের অতলে ডুব দিয়ে দেখুন না কেমন মুক্তো উঠে আসে মননে, আর সেটাতে কলম ছুঁইয়ে সোজা দিয়ে দিন অকপটের দেওয়ালে। এভাবেই হয়তো আমরা পেয়ে যাবো “মেঘ বালিকা” বা “যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিলো” তাদের নবতম সন্ধান। আবার হয়তো মন কেমন করে উঠবে ” ফেরিওয়ালা” বা অনাম্নী কিশোরীটি হঠাৎ করে বিশেষ জনের কাছে হয়ে উঠবে কাব্য, তাদের প্রেয়সীর চোখে “নীরা” হয়ে উঠে নিজেকে ব্যাক্ত করবে রূপকে। কেউ বা “নববর্ষা”য় নেচে উঠবে, কেউ বা “বেণীমাধব ” গেয়ে উঠবে। কখনো আসবে “রূপসী বাংলা ” তো কখনো মনে হবে “এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না “।

বিন্যাস গত ভাবে কবিতা সাধারণত তিনপ্রকার, অক্ষরবৃত্ত ছন্দ, মাত্রাবৃত্ত ছন্দ, স্বরবৃত্ত ছন্দ। এ ছাড়াও আখ্যান, গীতিকাব্য, শোকগাথা, পদ্য, নাট্যকাব্য, বিদ্রুপাত্মক রচনা ইত্যাদি প্রাকারেরও হয়। যদিও আজকাল ফেসবুকে কবি নয় এমন লোক যথেষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আধুনিক কবিতার নামে দুর্বোধ্য কিছু একটা লিখে ফেলে সেটা প্রকাশ করে দিচ্ছেন, এটা সুযোগের অপব্যবহার। কেউ কেউ প্রতিদিন সকাল-দুপুর-রাত্রি তিনটে করে কবিতা ‘নামান’, বিশেষ দিনে ওটা দ্বিগুনও হয়ে যায়। যদি খুব ভুল না নই, মৃত্যুর পূর্বে এনাদের প্রত্যেকের অন্তত (ত্রিশ বছরে প্রতিদিন গড়ে ৩টে করে ধরলে) চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার করে কবিতা লিখে রেখে যবেন। আমরা এমন কবিদের থেকে মাফ চেয়ে নিচ্ছি প্রথমেই, বাকীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

“আমি তো অবাক” হওয়ার কিছু নেই। আসল কথাটা হলো অকপটে শুরু হচ্ছে কবিতার ইভেন্ট। কিছু অনিষিক্ত শব্দকে জোর করে পরিণয় ঘটিয়ে দেওয়ার নাম কবিতা নয়, বরং আবেগ দিয়ে, অর্থপূর্ন ভাবের সঞ্চার ঘটিয়ে- ছন্দোবদ্ধ মনের অর্থপূর্ণ বা নিরর্থক কল্পনাটাজাত মনের ভাবনাটা লিখে পাঠিয়ে দিন আমাদের ইমেল-আইডিতে। অথবা শেহনাজ আলমের ইনবক্সে।

আমদের এই #ভাদরেআদরেঅকপটে ইভেন্টে প্রতিদিন দুটি করেই কবিতা কবির নাম ছাড়া গ্রুপে প্রকাশিত হবে। ১৫ দিনে আমরা ৩০টি কবিতা বেছে নেব।

নিয়মিত মান প্রদানকারী সদ্যসের ভোটের ভিত্তিতে, বিজয়ী প্রথম তিনজন অকপটের তরফ থেকে পুরষ্কিত হবেন। প্রথম জনের জন্য থাকবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডুয়ার্স ভ্রমণ ও পিকনিকে অংশগ্রহনের সুযোগ (ব্যাক্তিগত ভাবে কেনাকাটা, বা কোথাও অতিরিক্ত সরকারি ফিজ লাগলে সেটা ব্যাক্তিকে নিজেকে বহন করতে হবে)।  এক্ষেত্রে পরিচালক মন্ডলীর কোনো সদস্য ঘটনাক্রমে প্রথম হয়ে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই পরবর্তী স্থানাধীকারির কাছে এই সুযোগ উপলব্ধ হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *