ঈশ্বরের পাঁচালী

বাংলার মেদিনীতে করে আলো ঘর,

জন্মাইলো যুগপুরুষ বিদ্যাসাগর।

ভগবতী মাতা তাঁর, জনক ঠাকুরদাস

মাতুলালয় বীরসিংহে আজন্ম নিবাস।

কালী কান্তের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা;

রক্তে ছিল রামজয় পণ্ডিতের দীক্ষা।

পদব্রজে কলিকাতা, মাইল ফলক দেখে;

ইংরেজি সংখ্যা তিনি নিয়েছিলেন শিখে।

আশ্রয় মিলিল তথায় সিংহ পরিবারে;

সংস্কৃত কলেজে দাখিল করে দিল তাঁরে।

তৃতীয় শ্রেনীতে ছিলেন, তিন বৎসর কাল;

সহপাঠী ছিলেন মদন তর্কালঙ্কার।

বেদান্ত আর ন্যায়দর্শন, ইংরেজি শিখে

বৃত্তি প্রাপ্তি ৫ টাকা, নাও মনে লিখে।

এগারো বয়সে তাঁর হল বিবাহ

দীনময়ী দেবীর সনে জীবন নির্বাহ।

একুশ বয়সে তিনি পন্ডিত হইলেন

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে চাকুরী লইলেন।

সংস্কৃত কলেজে মতান্তর, সহ-সেক্রেটারি-

স্থাপনা করিলেন তিনি ‘প্রেস ডিপজিটরি’।

কু-সংস্কার সমাজ জুড়ে, আর্তের হাহাকার-

লক্ষ্য নিলেন মানবসেবা, সমাজ সংস্কার।

‘সর্বশুভকরী সভা’ গড়িলেন তিনি

সহকারী হলেন বন্ধু- হিতৈষী যিনি।

সংস্কৃত কলেজের শিক্ষক হলে পরে;

কায়স্তদের অধ্যয়নের সুযোগ দিলেন করে।

রবিবারে ছুটির দিনের করেন প্রবর্তণ,

অবৈতনিক বিদ্যালয় করিলেন স্থাপন।

পাল্কিতে বসিয়া স্কুল- পরিদর্শক ক্ষণে,

বর্ণ পরিচয়ের খসড়া রচিলেন মনে।

দক্ষিণ বঙ্গের চার জেলায় বঙ্গবিদ্যালয়,

তাঁরই উদ্যোগে সেগুলো স্থাপনা হয়।

বহু স্বাক্ষর সম্বলিত, বহু আবেদন-

বিধবা বিবাহ আইন করেন প্রচলন।

দ্বাদশ বর্ষীয়া কন্যা, বিধবা কালীমতী,

প্রথম বিবাহ দেন, পাত্র শ্রীশ-পতি।

জানুয়ারির ২৪শে তে, ১৮৫৭ সন,

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইল স্থাপন।

বালিকা বিদ্যালয় গড়েন, নারী শিক্ষায়নে;

৩৫টি তেমন ইস্কুল, জানেন জ্ঞানীজনে।

ইংরাজি মাধ্যমের ইস্কুল গড়েন কান্দিতে

শিক্ষা বিস্তার মূল লক্ষ্য, মহান এ পণ্ডিতের।

ঋণগ্রস্থ মাইকেলের হয়ে সহায়ক,

বহুবিবাহ রদেও করেন উদ্যোগ।

দুর্ভিক্ষতে নিজগ্রামে অন্নসত্র দান;

পাঁচশো মানুষ, ছয়মাস কাল- বেঁচেছিল প্রাণ।

হিন্দু বিধবাদের জন্য সমিতি গড়িয়া

‘এ্যনুয়িটি ফান্ড’ হতে অর্থ সহায় দিয়া।

৩৩টি পুস্তক লেখেন, অনুবাদেও দড়;

৭০ বছর বয়সে তিনি ত্যাগেন চরাচর।

বাঙালি প্রেমেতে গর্ব, হৃদে পরিতোষ!

‘ঈশ্বর’ জন্মতিথি জেনো, ‘বাঙালি দিবস’।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *