ভয় ইভেন্ট- অকপট টিজার

ভয় শব্দটাই ভয় পাইয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। ভয় পায়নি এমন বীরপুরুষ না আগে জন্মেছে না ভবিষ্যতে জন্মাবে। ভবিষ্যতের কথাতে বলি, ভয় আমরা অতীত বা বর্তমান নিয়ে পায়না, ভয়ের গোটা সাম্রাজ্যের বাসই ভবিষ্যত জুড়ে। অসম সাহসীর ভুতে ভয় না থাকলেও ঈশ্বরে ভয় রয়েছে, ঈশ্বরে বিশ্বাস না থাকলে দেখবে ঠিক পাপপূণ্যে ভয় রয়েছে, পাপপুণ্যে ভয় না থাকলে ছেলেপুলের ভবিষ্যতের জন্য ভয় রয়েছে। ভয় না থাকলে আমাদের জীবন কখনও এতটা বৈচিত্রপূর্ণ হতনা, কতজনই কত কিছু হতে পারতাম ভয়কে জয় করতে পারলে, কিন্তু হইনি বা হয়েছি। এই একটুকুনি ভয়ের জন্য কত বড় বড় দণ্ড যে জীবন জুড়ে আমাদের দিতে হয়েছে বা আগামীতেও দিতে হবে তার কি কোনো হিসাবপত্র আছে!

ভয় আসলে কি? ভয় হল একটা অনুভূতির নাম। একটা বিশেষ দশা যা আমাদের হৃদয়, মস্তিষ্ক, সারা শরীর ও ভাবনাকে একত্রে আচ্ছন্ন করে রাখার ক্ষমতা ধরে। এই ভয়ের জন্মস্থান মানুষের অবচেতন মন, দুম করে কেউ ভয় পায়না; দুম করে আশ্চর্য হয়, সেই আশ্চর্য ভাব কেটে গেলে যখন তাকে ব্যাখ্যা করি, এবং তাতে সন্দেহজনক কিছু থাকলে তবে ভয়ের চাষ শুরু হয়। বাকি প্রানীদের বিষয়ে জানিনা কিভাবে তাদের ভয়ের শুরু হয়। ভয় থেকে আসে আতঙ্ক, আতঙ্কগ্রস্থ প্রাণী যা খুশি করতে পারে। এই ভয় আমাদের অনেকেরই আবার যাচ্ছেতাই মাত্রার উন্নতিরও কারন।

সাপে ভয়, ব্যাঙে ভয়, অন্ধকারে ভয়, ভুতে ভয়, ঈশ্বরে ভয়, সন্তানের ভবিষ্যতে ভয়, পাপে ভয়, প্রেমে ভয়, মারের ভয়, সুখের দিন চলে যাবার ভয়, প্রিয়জন বিচ্ছেদের ভয়, ভুলে যাবার ভয়, আর্থিক কষ্টের ভয়, নিঃসঙ্গতার ভয়, ঘুম থেকে উঠতে না পারার ভয়, ইমেজের ভয়, চরিত্রের ভয়, মৃত্যুর ভয়, অজানা বিপদের ভয়, রোগের ভয়, জলের ভয়, উচুর ভয়, গতির ভয়, থেমে যাবার ভয়, খোয়া যাবার ভয়, পরীক্ষার ভয়, স্যারের ভয়, অঙ্কের ভয়, ইংরেজির ভয়, জাঁদরেল বৌ এর ভয়, সেই বৌয়েরই আবার আরশোলা দেখে ভয়, উফ… ভয়ের কি আর গোনাগুন্তি আছে। কতজন শুধু ভয়ের জন্য একলাইনও লেখার চেষ্টাটাই করেনা, মান সম্মানের ভয়ে। সর্বত্র ভয়ের কেন্নোরা জীবনের প্রতিটি বিন্দুতে কিলবিলিয়ে থিকথিক করছে। পড়তে পড়তেও ভয় লাগছে, বাপ্রে কত বড় লেখা…।  

ভয় ওপাড়ে সুখের বাস। যেহেতু কেউই চিরঞ্জীব নয়, তার পরেও আমাদের মৃত্যুভয়ের অন্ত নেই। কত শত প্রিকোশন, ইনস্যুরেন্স, ইত্যাদি এই ভয়ের ব্যাবসাতে। জ্যোতিষ ব্যাবসাটা কৌতুহল কম, ভয়ের কারনের এদের দাপট নবরত্নের পসরা সাজিয়ে। তাবিজ, মাদুলি, ঝাড়ফুঁক, পীর-ফকীর, সাধুদের মন্ত্রতন্ত্রের দোকানটাই বন্ধ হয়ে যাবে, যদি ভয়ের পণ্যগুলো জীবন থেকে মুছে যায়। কেউ যদি পাঁচকান না করেন তো চুপিচুপি বলি, কন্ডোম বা কন্ট্রাসেপ্টিভ পিলও আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত অপত্যের ভয়েই! যদি আঁটি কলিয়ে যায়!  কত বড় বড় ইন্ড্রাষ্ট্রি শুধু ভয়ের কারনে রমরমা। সেপাই, লস্কর, পল্টন, গোয়েন্দা, দারোগা প্রমুখেরা সবাই আসলে ভয়ের পাহারাদার। এত সব গালিগালাজ, বন্ধুক, তলোয়ার, হুমকি, পরমাণু বোমা, মব লিঞ্চিং, আইসিস, কিম জং উন সবই সেই ভয় দেখানোর জন্য।

শুধুই কি মানুষ? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাপ নামের সরীসৃপ প্রাণীটি শুধুমাত্র ভয় পেয়েই ছোবলের চুমু খেয়ে নেয়, হিংস্র জন্তুরা জঙ্গলে ভয় থেকেই মানুষের উপরে আক্রমণ করে। যেকোন দ্বিধাগ্রস্থ প্রানীই ভয়ে ভীত হয়, এটা প্রানীর একধরনের জৈবিক ক্রিয়া।

এই ভয় কিভাবে কাজ করে? অশুভ আশঙ্কারা কল্পনাশক্তির পথ বেয়ে আমাদের আড্রেনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে এপিনেফ্রিন হরমোনের প্রবাহ ঘটায় যা সবার আগে আমাদের পিলেটিকে খানিকটা চমকে দিয়ে আমাদের স্নায়ুজালকে আচ্ছন্ন করে তোলে। যারা কিডনি বেচে আইফোন কিনে ফেলেছে তারা অবশ্য ভয় পায়না। আমাদের এড্রেনালিন গ্রন্থিদুটি ওই কিডনির মাথাতেই টোপরের মত চুপটি করে বসে থেকে, আমাদের আবেগের দোকানের ঝাঁপ খোলা বন্ধ করে। ভয় পেলে কেন পেট কেন গুরুগুর করে জানা হল তো এবারে! এড্রিনালিনের শোরুমে থরে থরে সাজানো কয়েকটি প্রোডাক্ট, ভয়, আনন্দ, দুঃখ, হতাশা, হাসি, কান্না সব রয়েছে। যেটা উপলব্ধি করতে পারলাম সেটা তেমন ভাবেই বহিঃপ্রকাশ করবে, এড্রিলানিনের ক্ষরণ বেয়ে; আর যেটা বুঝলামনা, সেটা – ‘জানালায় কাক, আমি তো অবাক’ দশা হয়। এই কিডনির সাথেই এট্টূ খানি আর্থিং করে আমাদের পিলে মহাশয় ঘাপটি মেরে বসে থাকে, যখন তখন চমকে যাবার জন্য।

ভয় নিয়ে অনেকে আবার নেশা করে, তা নেশার যোগ্যও বটে। অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক ব্যাপারস্যাপার অল্প অল্প হোমিও প্যাথিক ডোজের মত করে আমরা ভয়ের নেশা হেব্বি পছন্দ করি। সিনেমা নাটক গল্প উপন্যাসে পড়ে ভয় পেতে পছন্দ করি। এ তো গেল সাধারন মানুষের নেশা, যারা লিজেন্ড টাইপের মানুষ যারা, তেনারা বেগুনকোদরের স্টেশন টাইপের ‘চুড়েল কি হাভেলি’তে গিয়ে রাত কাটান, রোলার কোস্টারে চড়েন, স্কুবা ডাইভিং এ যান, বাঞ্জি জাম্পিং করেন, প্যারাগ্লাইডিং করেন, স্কাই ফলিং করেন, মদন মিত্রের লাইভ দেখেন ও পিসির কবিতা আবৃত্তি করেন ইত্যাদি।

আপনি জানেন অটোগ্রাফ আসলে সেলিব্রিটিদের সাক্ষরের নাম, অটোমোবাইল মানে গাড়ি শিল্প, কিন্তু অটোফোবিয়া মানে কিন্তু একাকীত্বের ভয়। অনেকের আবার গোলোটোফোবিয়া থাকে, মানে নিজেকে নিয়ে মজা সহ্য না করতে পারার ভয় আরকি। আমার যেমন বিচ্ছিরিভাবে ট্রিপানোফোবিয়া বা সুচের ভয় রয়েছে, যার দরুন জ্ঞানত কখনও ইঞ্জেকশন নিইনি। এন্ডয়েড ফোন ব্যবহার করলেও আমরা কী জানি এই শব্দের মানে? এন্ড্রোয়েড মানে সেই রোবট যা প্রায় মানুষের সমতুল্য। আর এই থেকেই বোধহয় এন্ড্রোফোবিয়া মানে মানুষের ভয়। আমাদের সুব্রত মণ্ডলদা, কখনই সিবোফোবিয়াতে ভোগেননা, এই রে এর মানে কী? সিবোফোবিয়া মানে হল খাবার দেখে ভয় পাওয়ার নাম। আজকের দিনে বামেরা ডেসিডোফোবিয়াতে আক্রান্ত, মানে সিদ্ধান্তহীনতার ভয়। আমাদের দেবেশ ইমোটোফোবিয়াতে ভোগে, যাকে বলে বমি করার ভয়, এর জন্য রেলে চাকরি করলেও কখনও রেলে সে চড়েনি। আর ট্রিকসইডিকাফোবিয়া বা তেরোর গেরোর ভয়ে যে কতজনা আক্রান্ত তার ইয়াত্তা নেই। লিখতে হবে ভেবে কলম ভুতের পাল্লায় পরে, ফেসমোফোবিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মুর্চ্ছো গেলেও আমাদের সে গল্পটা জানাই হয়ে উঠবেনা, লোকলাজের ভয়ে।

এর পরেও আপনি সাবজেক্ট খুঁজে পাবেননা ভয় নিয়ে লিখতে? এটা আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?

এই সকল ভয়ের কিছুনা কিছু আপনার জীবনেও নিশ্চিত রয়েছে, অথবা খুব নিকট কোনো বন্ধু আত্মীয় পরিজনের জীবনে ঘটতে দেখেছেন বা তাদের থেকে শুনেছেন। এই ভয় বা ফোবিয়া নিয়ে গল্পের শেষ নেই পৃথিবীতে। সেই বিষয়েরই এক বা একাধিক গল্প অকপটের #ভয়পেয়োনা… ইভেন্টের জন্য আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের এডমিনেরা প্রতিদিন নিশিরাতে এক বা একাধিক গল্প প্রকাশিত করে, বন্ধুত্বের আবহে অকপটে সেই কাহিনী ভাগ করে নেবেন। তাহলে আর দেরি কেন! আজই ভয় না পেয়ে লিখতে শুরু করে দিন, ভয় পেলে আর ভয়ের গল্প অকপটে জানানো যাবেনা। আপনার গল্প পাঠকের বিচারে সেরা প্রমাণিত হলে, আপনাদের প্রথম তিনজনের জন্য থাকবে অকপটের পক্ষ থেকে একটা করে দারুণ গল্পের বই। তাহলে, দেখা হচ্ছে গল্পের কমেন্টে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *