দ্বিচারিতা

মমতা ব্যানার্জী দ্বিচারিতা বন্ধ করে সরাসরি CAA-NRC-NPR এর বিরুদ্ধে বিল আনুক বিধানসভাতে। রাস্তার নাটক বন্ধ করে বিধানসভাতে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা নিয়ে- বিজেপিকে বিচ্ছিন্ন করে ও কংগ্রেস সহ বামেদের মত ঘোষিত NRC বিরোধীদের সাথে নিয়ে রাজ্য সরকার CAA-NRC-NPR বিরোধী বিল আনুক। কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরোধিতা শুধু ভাষণবাজিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, সদিচ্ছা প্রকাশ কর্মে হোক এবারে।

কেরালাতে বামপন্থী বিজয়ন সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, বিধানসভাতে CAA-NRC-NPR-ডিটেনশন ক্যাম্প বিরোধী আইন পাশ করিয়েছে যেখানে বিরোধী কংগ্রেস সম্পূর্ণ সমর্থন করেছে বা করতে বাধ্য হয়েছে। কেবল মাত্র মুখে মারিতং জগৎ আর প্রতিবার উচ্চাঙ্গের অভিনয় দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার দিন ফুরিয়েছে, এবারে – ‘কর্মেণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন…’

অকংগ্রেসী-অবিজেপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা, যেমন- দিল্লির কেজরীওয়াল, অন্ধ্র প্রদেশের জগনমোহন রেড্ডি, ওড়িশার নবীন পট্টনায়ক, তামিলনাড়ুর কে. পালানিস্বামী, ঝাড়খন্ডের হেমন্ত সোরেন, তেলেঙ্গনার কে. চন্দ্রশেখর রাও, মেঘালয়ের কানরাড সাংমা, নাগাল্যান্ডের নেফিউ রিও, সিকিমের প্রেম সিং তামাং, মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে সহ নীতিশ কুমারের মত দুমুখো সাপেদেরও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। মুখে বলছে NRC-CAA মানিনা, তলে তলে  BJP-RSS এর দালাল হিসাবে কাজ করে দেশের জনগণের সাথে প্রতারণা করে আচ্ছে, মুখোশের আড়াল ছেড়ে এবার সত্যের সম্মুখীন করাতে হবে এই দলগুলোকে।

শুধু তাই ই নয়, সমস্ত কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের যেমন- ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও পন্ডিচেরির বিধানসভা গুলোতেও CAA-NPR বিরোধী বিল আনুক রাহুল গান্ধ; ফাঁপা বুলিতে, ধর্ণাতে বা সেজেগুজে বাতেলাবাজিতে আর চিঁড়ে ভিজবেনা।

বিজেপিকে অগ্রাহ্য করে বাকি সকল রাজনৈতিক দলগুলির সাথে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক মমতা ব্যানার্জীর তৃনমূল সরি মা-মাটি-মানুষ সরকার; হিম্মৎ দেখাক প্রস্তাবনার যে কোনো ভাবেই ডিটেনশন ক্যাম্প হবেনা পশ্চিমবঙ্গে, পড়ুক রাষ্ট্রীয় সীলমোহর। এর পর এই মর্মে বিল এনে তা সংশ্লিষ্ট বিধানসভা গুলোতে পাশ করিয়ে নিক তৃনমূল সহ বাকি সকল দৃশ্যত বিজেপি-CAA বিরোধী সরকারে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। ওই বিলের মধ্যেই লিখিত ভাবে থাকুক ক্যাম্পের জন্য কোনো জমি দেবেনা কোনো রাজ্য সরকার, কারন জমি অধিগ্রহন রাজ্য সরকারের কাজ। জনবিচ্ছন্ন করে একঘরে করে দেওয়া হোক RSS-BJP এর মত রাজকর্মে ব্যার্থ জনগণের শত্রুদের যারা জাতের নামে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সদা সর্বদা মানুষের মাঝে বিভেদের বীজ বুনে নিজেদের ক্ষমতা চরিতার্থ করে।

প্রতিবারই যখন BJP বিরোধীরা ঠিক জোট বাঁধার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়, ঠিক তখনই মন্থরার ভূমিকায় নিজেকে অবতীর্ণ করে সেই জোটের ঘোঁট পাকিয়ে দিতে সিদ্ধহস্ত যিনি তার নাম মমতা ব্যানার্জী- দায়িত্ব নিয়ে তিনি এটা গত ৫-৬ বছর ধরে সুচারু ভাবে করে আসছেন। এনার সাথে রয়েছে বিজ্ঞাপনলোভী “আনন্দবাজার-বর্তমান-এইসময়-প্রতিদিনের” মত চাটুকার সংবাদপত্র ও তাদের পোষিত সাংবাদিক গুলো, এরা দৈনিক মানুষকে মমতার নামে প্রশস্তি বাক্য শুনিয়ে সর্বদা জনগণকে ভূল পথে চালিত করে চলেছে নির্লজ্জ ভাবে। এরা গণতন্ত্রের সেই চতুর্থ স্তম্ভ যাদের জন্ম পুঁজিবাদের পতিতাপল্লীতে।

এবারে বলি আমাদের রাজ্যের বামেদের কথা, না বললে অনেক বন্ধু খুশি হতেন ঠিকিই তবুও বড় মাথায় ছোট কথাটা বলেই দিলাম; বিশ্বাস করুন, এনারা করুণার পাত্রেও যোগ্য নন অধিকাংশ। এনাদের বর্তমান নেতাদের বিষয়ে বললে কিছু অন্ধ সমর্থক রে রে করে এসে বিমান বসুদের স্বপদে থাকার বিষয়ে ১০১ পাতার লম্বা ব্যাখ্যা দিতে থাকবে। প্রতিবার প্রায় সর্বত্রই হারছে, তবুও নির্লজ্জের মত কিছু পদলোভী মানুষকে সেখানেই রেখে দিয়েছে। প্রাণ ত্যাগের আগে চেয়ার ত্যাগ করবেননা, কিছু জন তো আবার সরাসরি সরকার পোষিত বামপন্থী, মমতার দয়ায় বামপন্থার দোকান খুলে রেখেছে। দলের নিচে থেকে উপর পর্যন্ত সর্বত্রই এদের অবস্থান রয়েছে, মানুষকে তথা দলকে আন্দোলনমুখী করে তোলার ভাবনা ভাবার কষ্ট টুকু করার সমর্থ নেই, কথা বলতেই নাভিশ্বাস উঠে।

অনেকেই বলে আরে এনারা তো সৎ মানুষ, নিশ্চিত এনারা সৎ। আরে বাবা শুধু সৎ দিয়ে সদগুরুর মত একটা আখাড়া করা যায়, মার্ক্সীয় রাজনীতির দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হয়না। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের বস্তুটাই বর্তমানে নেই বঙ্গ বামাচারীদের, রয়ে গেছে শুধুই ভার্চুয়াল দ্বন্দ্ব। কিম্বদন্তী কুম্ভকর্ণের ঘুম দেরিতে হলেও ভেঙেছিল, এনারা আরো ভয়ানক ধরনের প্রতিভাধর। মমতা বানার্জী ৭টা মিটিং মিছিল করে হেঁটে হামাগুড়ি দিয়ে খবরে, বামেরা হালকা মাছি মেরে, ছুটকো ছাটকা তুড়ি মেরে ভেনেজুয়েলার জঙ্গল থেকে চীনের অর্থনৈতিক গলি বেয়ে কেরালার বিধানসভাতে পৌঁছাতে পারেনি এখনও। লংমার্চের ফোস্কার আতিসায্যেই তো বছরের অর্ধেক দিন কেটে আয়, এর পর একটা ব্রিগেড একটা নবান্ন একটা রাজ্য সম্মেলন- এর পরেও বলবেন কিছু করেনা? আরে আরা ৭% এর তিরষ্কার ঠাট্টাকে অলঙ্কারে রূপান্তর করে নেয় তাদের আত্মসম্মানকে আতসকাঁচের তলায় ফেলা বিজ্ঞানের নয় অজ্ঞানের কাজ। বিরোধী হিসাবে মমতা বানার্জীকে আদর্শ না করুন উপেক্ষা করতে পারবেননা। আপনারা এনার জঙ্গি আন্দোলনের কাছেই রাজ্যপাট খুইয়েছেন, সেই আন্দোলন ঠিক কি ভুল তা আজকের দিনে প্রশ্নাতীত, কিন্তু আজকের সুখী বাপ প্রজন্ম এই জঙ্গি আন্দোলনটা শিখে উঠতে পারেনি। নতুনদের নতুন ভাবনাকে স্থান দেওয়ার মত বস্তুগত মস্তিষ্কই নেই আলিমুদ্দিনের বুড়ো সিংহ ও তার স্তাবকদের, এনারা অতীতের তলানির এঁটোকাঁটা খেয়ে হাত তুলে বলছেন – বেঁচে আছি। আসলে বেঁচে তো ক্লীবরাও থাকে, ক্ষমতা হারানো বঙ্গ বামেরা আসলে ওই…, বেঁচে আছে মাত্র।

মারের বদলে মার দেবার মানসিকতা যতক্ষননা তৈরি হবে ততক্ষণ ভাল কিছু হবার আশা নেই। বিজেপিকে জমি দিয়েছে তৃনমূল, কিন্তু চাষের উপযুক্ত করে দিয়েছে অকর্মন্য বামেরাই, কারন সময়ের কাজ সময়ে না করলে সে শূন্যস্থান পূরণ হবেই। বিরোধী হিসাবে বঙ্গ বামেদের অপদার্থতা সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে মৌরিশপাট্টা গাঁথার সুযোগ করে দিয়েছে।

জনগণকে দিশামুখী প্রতিবাদের রাস্তাতে নিয়ে আসার জন বামেদের কোনো বিকল্প নেই কিন্তু সেটা বর্তমান বঙ্গ CPM এর কম্ম নয়, এগুলো ইমপ্লিমেন্ট করতে বিজয়নের মত নেতা দরকার- আলিমুদ্দিনের ঝালমুড়িওয়ালাদের সংখ্যা আদমশুমারিতে কাজে আসবে – দেশের মানুষকে পথ দেখাতে নয়।

নেতারা যা খুশি করুক, আসুন আমরা অন্তত নিজেরা বিষয়টা নিয়ে আমাদের নিজেদের মাঝেই সচেতনতা ও আন্দোলনটা গড়ে তোলার একটা স্ফুলিঙ্গ তৈরি করি, যেমনটা ছাত্ররা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

জয় হিন্দ।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *