বিশ্বাস করুন, আমি একজন দিদিভক্ত

আমার পরিবার আদ্যপান্ত একজন তৃণমুলী, বিশেষ করে দিদিভক্ত।

বিশ্বাস করুন, বিগত দশকে সিপিএম এর স্থানীয় নেতাদের ঔদ্ধত্য দেখে দলটার প্রতি একটা তীব্র বিদ্বেষ অনুভব করতাম, তাই দিদির অন্ধভক্ত হয়ে পরেছিলাম কালেক্রমে। পরিবর্তনের জন্য অর্থ ও সময় জলের মত ব্যায় করেছিলাম, বাকিটা ইতিহাস।

এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে মনে হয়, একজন পিনারাই বিজয়ন যদি আমাদের মুখমন্ত্রী হত, ভাষণের বদলে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপও রাজ্যবাসী পেতে পারত। গায়ক, নায়ক MLA/MP গুলোকে কাজের সময় পাওয়া যায়না মানুষের মাঝে, ল্যাম্পপোষ্ট হিসাবে অবশ্য এদের জুড়ি নেই, তাই আমাদের ভরষা কেবলই আমরা নিজে। শুধুমাত্র কলকাতা কেন্দ্রিক ঢক্কানিনাদ, কিছু ধুনোর গন্ধ ছিটিয়ে গোটা রাজ্য অন্ধকারে, বগ্র আঁটুনি ফস্কাগেড়ো।

যখন মমতা ব্যানার্জীকে দেখলাম দীর্ঘ ৯ বছর ধরে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসকের চেয়ারে, আজ আর আমার কোনো ক্ষোভ নেই সিপিএমের প্রতি। এমন কোনো দূর্নীতি পিনাল কোডে নেই যা ওনার দল করেনি, ওনার ইচ্ছার সামান্য এধার ওধার হলেই জেলে পাঠিয়েছেন যাকে খুশি। আজ পর্যন্ত একজনও CPIM নেতাকে জেলে ঢোকাতে পারেননি দুর্নীতির অভিযোগে, যেখানে ওনার দলের প্রায় সবাই স্বীকৃত চোর, হয় বেলে কিম্বা জেলে রয়েছে।

কথায় কথায় ম্যানমেড তত্বের প্রবর্তক আমাদের কবি দিদি করোনা এফেক্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ মানে ১৫ তারিখ পর্যন্ত চুটিয়ে মিটিং মিছিল করেছেন, পরে অবশ্য জ্বালাময়ী কবিতা নামিয়ে করোনার গালে ঠাস করে প্রথম চড়টা সপাটে তিনিই কষিয়েছিলেন। আজকের দিদির পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর কিন্তু জানেনা যে এই দিদিই রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৯ সালে কেন্দ্রকে মানা করেছিলেন- আইলা ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য কেন্দ্রীয় সাহায্য যাতে না আসে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেছিলেন। আজকাল আর ম্যানমেড হয়না, যেমন জঙ্গলমহল থেকে মাওবাদী বিলুপ্ত হয়েছে উনি ক্ষমতায় আসতেই, প্রশান্ত কিশোর জানেনা যে আজকের সকল তৃণমূল সেদিনের মুখে গামছাবাঁধা মাওবাদী অথবা তাদের স্যাঙাৎ। এগুলো সবই জানতাম তবুও দিদিকেই শ্রদ্ধা করতাম।

সিপিএম ৩৪ বছরে কোনো ডিজাস্টারে এমনটা তো করেইনি, বিগত ৯ বছরেও দায়িত্বশীল বিরোধীর ভুমিকা পালন করে চলেছে। সারা বাংলা জুড়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার, আনাজ সব্জির কালোবাজারি, করোনা পরীক্ষার পরিকাঠামোই নেই গ্রাম বাংলাতে অথচ সিপিএম ধর্ণা না দিয়ে ‘অগ্নিবৃদ্ধা’র প্রশাসনের সাথে থেকে যাতে মানুষের লাভ হয় সেই কাজ করছে। ভাবুন আজকে মমতা ব্যানার্জী বিরোধী, কী কান্ডটাই না উনি করতেন। ধমকে, চমকে, সারদা চোরের জন্য ধর্ণা, নারদা চোরের জন্য সেটিং, ভেঁপুকে বাঁচানো, কাটমানিখোর দলীয় ভাইগুলোকে সুরক্ষা, আগামীতে ক্ষমতায় থাকতে কার পায়ে ধরতে হবে কার গলা টিপতে হবে তার নীলনক্সা… দিদি ভীষণ ব্যাস্ত নিজের ইমেজ তৈরি করতে। তাই করোনা থাবা বসাতেই তিনি বাকি সমস্ত কিছু ছেড়ে সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে নতুন নিয়োগের আঁটিসেল দ্বারা মহিমা কীর্তনে ব্যাস্ত, করোনার সচেতনতার চেয়েও গর্ব প্রচার বেশি জরুরী। আপনি মড়কে মরুন, ভেপুকে বাঁচাতে আরো একটা টার্ম মুখ্যমন্ত্রী যে থাকতেই হবে, তাই গিরগিটির মত সততার রঙে আলকাতরা পরতেই এখন গর্বের আড়ালে বাঁচতে হচ্ছে।

৩৪ বছরে আলিমুদ্দিনে পুলিশের বড় কর্তাকে যেতে দেখা যায়নি, কিন্তু অনুব্রতর মত পেটি আড়াই পয়সার কালিপটকার পার্টি অফিসে IAS, IPS অফিসারেরা দন্ডি কাটছেন, এটাই আসল পরিবর্তন। পর্যাপ্ত শিক্ষক না নিয়োগ করে শিক্ষাব্যবস্থার ক্রম বেসরকারি করণের যে দীপ্ত পদক্ষেপ তা নিয়ে আজ লড়াই করতে শিক্ষকেরাও ভয় পান, যারা চাকুরি পেয়েছেন অধিকাংশই বেনিয়মে, তাই DA ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে কথা বলার সাহস টুকুও নেই। এটাই পরিবর্তন। আগামীবছর বিধানসভা ভোট, তাই এখন গর্ব নিয়ে গর্বিত অনেকেই হচ্ছে কিন্তু আমি একনিষ্ট প্রাক্তন দিদিভক্ত হয়েও হতে পারছিনা। হয়ত এর জন্য আমাকেও জেলে যেতে হতে পারে, এটাই পরিবর্তন।

তিনি রাজনীতি করতে মানা করেছেন, কিন্তু তিনি নিজে সেটা করলে সাত খুন মাফ। উচ্চমাধ্যমিক বন্ধের নিদান এসেছে মাত্র ১ দিন আগে, উনি গর্ব প্রচারে ব্যাস্ত, ক্লাব গুলোকে ৬০০ কোটির নতুন বরাদ্দ নিয়ে মাস্টাররোল তৈরি, পাব্লিক মানি হারামের কামাই এর মত খরচা করে চলেছেন দেদার, নবান্নের চোদ্দ তলা থেকে ভেঁপুর বাড়ি না দেখা পর্যন্ত ওনাকে ক্ষমতাতে থাকতেই হবে। সবই ঠিকঠাক পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছিল, মাঝখান থেকে হতচ্ছারা করোনাটা বাদ সাধলো, একজন দিদিপ্রেমী হিসাবে এটা বড় কষ্টেই বৈকি।

আজ পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করতে পারবেনা যে এই ৯ বছরে মমতা ব্যানার্জী একটাও কারখানার উদ্বোধন করেছেন, কিন্তু প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার মোচ্ছোব করে তিনি শিল্প সম্মেলন করেন। বক্তিতা দেওয়ার সময় শ্বাপদের মত পদচারনা করে বুঝিয়ে দেন, তিনি বাঘ হোন বা না হোন- স্টেজের উপরে বাকি গুলো ক্লাউন বা বিড়াল।

কেউ আর শুধায়না সাচার কমিটির রিপোর্টের আজকের দিনের স্ট্যাটাস কী! কত শতাংস মুসলমানের অবস্থার উন্নতি হয়েছে গত ৯ বছরে, সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, সর্বত্রই অনপ্রেরণার ঘাস গজিয়েছে, গরুও এসেছে। মুসলমানেদের অবস্থা আরো ভয়াবহ, কিন্তু তথ্যই নেই তাই তিনি নিদারুণ নিশ্চুপ। মুসলমানেরা আগে মানুষ ছিল, এখন গরু ইয়ে মানে দুধেল গাই। কেউ আজকাল পরিসংখ্যান চাইনা, চাইলেই- চোপ….. বিজেপি চলে আসবে। কেউ শুধায়না, আপনিই তো বিজেপিকে এ রাজ্যে কোলেপিঠে মানুষ করেছেন। এর পরেও দিদি প্রেমে কিন্তু ঘাটতি আসেনা এমনই ভক্তি।

CPIM এর করা ঋণ নিয়ে যখন দিদি আবেগ মথিত কন্ঠে বলতেন ৩৪ বছরে রাজ্যটাকে শেষ করে দিয়েছে, সুদ দিতেই সব চলে যায়- সত্যি বলছি ভীষন রাগ হত বামেদের প্রতি। আজ একজন দিদিভক্ত হয়েও বলছি, মমতা ব্যানার্জীর মত প্রতারণা কেউ করেনি রাজ্যবাসীর সাথে। আজকে রাজ্যের মোট ঋণ কত? রাজ্যের GDP 14,44,170/- কোটি, আর PUBLIC DEBT এই অর্থবর্ষের হিসাবে ৩২.৯ শতাংশ। হিসাবটা গিয়ে দাঁড়ায় হাতে রইল পেনসিল, কেউ কী শুধিয়েছে কেন এই বিপুল পরিমান বৃদ্ধি?

একদা ডাইহার্ড দিদি ফ্যান হয়েও কথা গুলো বলতে আজ বাধ্য হচ্ছি। জানি বামেরা মাত্র ৭%, কিন্তু তারা চোর ও দাঙ্গাবাজেদের হলুদ ফুল পাঠায়নি। দলের নেতাদের জেলের হাত থেকে বাঁচাতে কেন্দ্রের কথা মত কানধরে উঠবোস করেনি। ক্ষমতায় থাকতে ক্লাবের গুন্ডা পুষতে হয়নি, প্রতিবার গিরপগিটির মত রঙ বদলে নতুন মোড়কে আসতে হয়নি। একজন মমতাপ্রেমী হিসাবে আজ আমি লজ্জিত।

একজন মিথ্যাবাদী প্রচার সর্বস্ব অসুস্থ- সারদা, নারদা, কাটমানি, ভাইপো বিলাস, গুন্ডা কন্ট্রোল, মেলা মোচ্ছোব, ক্লাবে খয়রাতির পর অগ্নিকন্যা থেকে সততার প্রতীক হয়ে বর্তমানে পৌছেছে গর্ব রূপে। নিজের ‘বাংলার গর্ব’ ইমেজ তৈরি করতে এখন তিনি মরিয়া। উদাহরণ হিসাবে ব্রিটিশের পা-চাঁটা সাভারকর ছাড়া নিজেকেই নিজেকে এমন উপাধি দেওয়ার রেকর্ড খুব একটা বেশি নেই ইতিহাসে।

বিশ্বের তাবড় তাবড় রাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যপরিসেবা নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে, সেখানে ইনি নিশ্চিন্তে সকাল সন্ধ্যা ডায়লোগ বাজি করে যাচ্ছেন। কোলকাতা কেন্দ্রিক কিছু তুকতাক, বাকি পশ্চিমবঙ্গ তো বানের জলে ভেসে এসেছে। ক্লাবে খয়রাতি যেখানে ১৩০০ কোটি, সেখানে করোনা খাতে মাত্র ২০০ কোটি, যদিও সেটা কোথায় কীভাবে খরচা হবে কেউ জানেনা। এর থেকেও ঠিক কত কাটমানি স্থানীয় পর্যায়ে ধাপে ধাপে দিতে দিতে মূল উদ্দেশ্যে কতটা পৌছাবে আর কবে সেটাও কেউ জানেনা। এক্ষেত্রে ৭০ঃ৩০ অনুপাত মানা হবে কিনা কালীঘাট থেকে তেমন নির্দেশনা আসেনি বলে মধুখোরেরা কিছুটা বিভ্রান্ত।

হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারবাবুরা আতঙ্কিত, বিভ্রান্ত। কিট নেই, মাস্ক নেই, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সামগ্রী নেই, আছে কিছু পোষ্টার আর গালভরা প্রতিশ্রুতির সাথে বদলে যাওয়া নির্দেশিকার জ্বালা।

যতই প্যান্ডামিক-র‍্যান্ডামিক ঘোষণা করুক WHO, আমাদের এই উপমহাদেশের সর্বজ্ঞ জনগনকে বোঝায় সাধ্যি কী! অগত্যা চুড়ান্ত মহামারীর সেই ব্রহ্মমুহুর্তের জন্য প্রতীক্ষা ছাড়া উপায় নেই। বাকি সব দেশ যেখানে আর্থিক বরাদ্দ করছে সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী ঘন্টা থালাবাসন বাজাতে বলছে। ওনার দলের পোষা আঁটি সেল গোমুত্র নিয়ে প্রচারের শেষে, এখন ১৪ ঘন্টার একটা জীবনীসীমা বেঁধে দিয়েছে করণা ভাইরাসের। আকাশ বাতাস থেকে নাকি প্লেন থেকে ভাইরাস মারার ‘এ্যান্টিবায়োটিক’ স্প্রে করবে। এর সাথে হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির স্কলারেরা নিত্যনতুন গবেষণা পত্র বাজারে লঞ্চ করে চলেছে। মাঝে WHO এর তরফে দেওয়া মোদীজির সার্টিফিকেটের গল্প খুব খাসা করে ছেপেছিল জি-মিডিয়া, আপাতত সবই ফ্ল্যাসড হয়ে গেছে রাষ্ট্রপতি নিজে আইসোলেটেড হয়ে যাবার পর। সোনু নিগমের মত আজন্ম বোকাপাঁঠারা মাস্টারস্ট্রোকের গল্প বাজারে ছেড়ে আগামীর পদের দাবিদার হয়ে উঠছে, বাকি অনেক লাথখোরদের সাথে।

আমরা ইতিহাস পড়িনি, ১৯১৯ সালের ফ্রেঞ্চ-ফ্লুর ইতিহাস নিশ্চিন্তে ভুলিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস, কারন ইতিহাস লেখার দায়িত্বে তারাই ছিল স্বাধীনতার প্রথম পঞ্চাশ বছর। খিলাফত আন্দোলনকে মাইলেজ দিতে গিয়ে সেবারের সোয়া-এককোটি লোকের মৃত্যু বিষয়টা জাষ্ট বিস্মৃত। এর মাসুল দিতে হয়েছে, কারন অনেকেই মনে করেন এই ঘটনা পরবর্তীই RSS নামক জীবানুর সৃষ্টি হয়েছিল ভারতের দেহে। কেউ জানেইনা কীভাবে এই পরিস্থিতিতে একজন সচেতন নাগরিকের পরিচয় দিতে হয়, চুড়ন্ত উদাসীনতা। এই ইতিহাস জানা থাকলে আজ কিছুটাও হয়ত সামলাতে পারত গরীব ভারতটা। ধনী ২ মাস ঘরে বসে রইলেও ডানহাত চলবে, গরীবের কি হবে? বাইরে করোনা, ঘরে ক্ষুধা। দুটোতেই নিশ্চিত মৃত্যু। দুটো সরকার, ঘন্টা আর গর্ব নিয়ে ব্যাস্ত।

আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যথাযথ ভাবেই আইসোলেশনে, হয়ত NRC-NPR এর নতুন ক্রনোলজি নিয়ে ব্যাস্ত। আলিবাবা কোম্পানির মালিক ‘জ্যাক মা’ এশিয়ার যে সকল দেশ গুলোতে ফ্রিতে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের এইড টিম পাঠিয়েছেন তাতে ভারত নেই। চীনা শিল্পপতিরা তবুও কিছু করেছেন, ভারতীয় শিল্পপতিরা মোদীজির সাথে গল্পগুজব করেছেন আর বলেছেন IPL পিছিয়ে দেবার সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করেন। ব্যাস, তাদের দায় শেষ।

কিন্তু ভায়া কনিকা কাপুর, দেশের অর্ধেক MP ই হয়ত আক্রান্ত, আসল গণিত বাইরে আসবেনা এক্কেবারে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত। অর্থনীতি নিয়ে কিছুই বলা যাচ্ছেনা, করোনা ১৪ দিনের গল্প তার চেয়েও ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে অর্থনীতিতে। আমরা বাঙালীরা ধনে-প্রাণে মারা যাবার কথা বলি, ধন আগে প্রাণ পরে সেটাই সৈয়দ সায়েব শিখিয়েছিলেন। আজও সেটা প্রাসঙ্গিক করে দেখাবে বিকাশ পুরুষের সরকার।

এরও পরও ভাইরাল ভিডিওতে প্রকাশ- রেলের যে আধিকারিক জ্বর পরীক্ষার দায়িত্বে থাকেন তিনি ফোনে ব্যাস্ত, যাত্রীরা বিনা ক্লেশে গলে যাচ্ছে। ধর্মীয় জলসা বন্ধ নেই, রেল স্টেশন গুলোতে গিজগিজে ভিড়, এমন কী সস্তার মুরগি কিনতেও লম্বা লাইন।

আরো বড় বিপদ আসতে চলেছেঃ ফ্রিতে চাল- আলু। কালকের দিনটা গেলেই লক্ষ লক্ষ শিশু, বৃদ্ধ, ও তাদের বাবা’মা, ছেলেপুলের দল গিজগিজে ভিড় তৈরি করবে সেগুলো সংগ্রহ করতে। মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী এমনিতেই বাজারে লুটের আবহ তৈরি করে দিয়েছে, আলু-পেঁয়াজের বাজারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন দায়িত্ব নিয়ে। এবারে এই ফ্রির আলু চালের সৌজন্যে কোয়ারেন্টাইন-আইসোলেশন, সচেতনতার মা-ব্যাহেন এক করে দিয়ে ‘গর্বিত’ হওয়ার সুখ অনুভব করবেন।

কেউ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেড় হবেননা, ডাক্তারের পরামর্শ নিন অসুস্থ অনুভব করলে। সরকারের পাশেই থাকুন বা না থাকুন, নিজেকে জনবিচ্ছিন্ন করে দিন বাঁচতে হলে; এছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নেই। থালাবাসন বাজান আর না ই বা বাজান, ঘরেই থাকুন। নিজের বাঁচার জন্য, রাষ্ট্রকে, জাতিকে বাঁচাবার জন্য থাকুন। যদিও বেঁচে থাকলেই এ বেঁচে যাবেন সেই গ্যারান্টি নেই, RSS ল্যাবের NRC জীবানু আপনার উপরে ঝাঁপিয়ে পরবে।

করোনার ওপাড়ে চির শান্তি, মৃতের কোনো শত্রু থাকেনা। নতুন এ লড়াইতে বাঁচার প্রচেষ্টাটা থাকুক, নিজে বেঁচে গেলেই জানবেন অনেককে বাঁচিয়ে দিলেন।

NRC ভাইরাস থেকে বাঁচতে আরেকটা পন্থা আছে, মমতা ব্যানার্জীর কথার উপরেই এটার ভিত্তি। সিপিএম জনবিচ্ছিন্ন মমতা ব্যানার্জির হিসাবে, আর ভাইরাস থেকে বাঁচতেও একমাত্র পদ্ধতি জনবিচ্ছিন্নতা। চয়েস আপনার, কোনদিকে যাবেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *