আমার ভারতবর্ষ শুয়ে আছে। না ড্রয়িংরুমে বসে রামায়ন দেখার বিলাসিতা নেই, না আছে সন্ধ্যার প্রাইমটাইমে হিন্দু মুসলিম খেলার অবকাশ। এটা সেলিব্রিটিদের শরীর চর্চার বা রান্নাঘরে প্রথমবার যাবার ছবি নয়। এরা সেই প্রদীপের নীচের আঁধার যে প্রদীপ শখের বসে জ্বলেছিল।

এরা দেই দধীচির দল, যাদের জন্য শহর গুলো তৈরি হয়, টিকে থাকে, সেই সেই পরিযায়ী শ্রমিক যারা মাত্র ৪ ঘন্টার নোটিশে ঘরে ফিরতে পারেনি। এরা সেই তারা যাদের ঘর নেই খাবার নেই আশ্রয় নেই। সরকারের কাছে এদের তথ্যও নেই, আছে শুধু ভোটের রাজনীতির জন্য লাগভরা গল্পকথা। আছে সরকারী বিজ্ঞাপন, নেশ দিশা। তাই এরা খোলা আকাশের নিচে, সাক্ষাৎ মৃত্যুর প্রতীক্ষায়। সামাজিক দুরত্ব রক্ষা?

ভারতবর্ষ, এই যমুনা নদীরে তীরে ব্রিজের নিচে মাটিতেই তুমি আছো; এটাই তোমার পোট্রেট। তোমরাই ভোট দাও, সরকারে বসাও যাদের তারা রূপকথার গল্প শোনায়, তোমরা রয়ে যাও তিমিরেই।

কত বোকা তুমি ভারতবর্ষ। গতকালই বোম্বের বান্দ্রায় তুমি লাঠিপেটা খেলে। আজ দিল্লিতে তুমি ব্রিজের নিচে। সেই দিল্লি, যেখানে সমাজকর্মী মুখ্যমন্ত্রী, দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির বাস।

দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসন, আমরা, বুদ্ধিজীবী, বিরোধীদলীয় নেতা নেত্রীদের বাস। তুমিই তো ফসল ফলাও- তার পরেও তুমি নিরন্ন? তুমিই তো আবাসন শ্রমিক, তারপরেও তুমি আশ্রয়হীন? তুমিই তো সরকার বানাও, তারপরেও সরকারের দৃষ্টি তোমাদের কাছ পর্যন্ত পৌছায়না।

তুমি ভারতবর্ষ, তুমি অসুস্থ। তুমি মারণ রোগে আক্রান্ত, তোমার সুস্থতা কামনা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই আমাদের।

এরা মারা গেলে তুমি বাঁচবে ধনী ভারতবর্ষ? তোমাদের টাকা তোমাদের সেবা করবে? মধ্যবিত্তের ভারতবর্ষ তো আরো বেশি স্বার্থপর, এরা আছে তাই তুমি মধ্যবিত্ত, নতুবা তুমি খুব গরীব। এরা চাষ করে, এদের শ্রমেই তোমাদের যাবতীয় সুখ। পেটের খিদের কাছে সেগুলো কোন আসমানি খোয়াব? যে যেখানে আছো সেখানেই থাকলে পেট কীভাবে চলে রাষ্ট্র?

এরাও কিন্তু সব বলে দেবে ‘উপরে গিয়ে’ সিরিয়ার শিশুটির মত।প্রশ্ন করা অপরাধ, এদের জমায়েত করা অপরাধ। সিদ্ধ শুধু রাজনীতি (করবেননা)।

করোনা মহামারী শেষ হবে একদিন, ততদিনে এরা ধ্বংস হলে তুমি কাকে নিয়ে ভারতবর্ষ হয়ে বাঁচবে?

তুমি জবাব দিতে জানোনা, রাষ্ট্র বোবা হয়। রাষ্ট্রপরিচালকরা বধির, প্রশাসন অন্ধ।

সুতরাং, সাধু সাবধান

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *