গবেষণা করো না

করো না বললেই করছেটা কে এই করোনা আবহে। জোর করে কিছু বলতে গেলে করুণার পাত্র নয়, রাজরোষে পরতে হবে। কিন্তু তারপরেও কিছু তো বলতেই হয়, কথাতেই আছে স্বভাব যায়না মলে।

সরকারের কথায় পরে আসছি, তার আগে বিশ্বজুড়ে তামাম গবেষক ‘গবুচন্দ্র’ জ্ঞানোতীর্থ জ্ঞানরত্ন জ্ঞানবুদ্ধি জ্ঞানচুড়োমনি সেজে কাগজের ফুল বেনিয়েদের বিষয়ে কিছু বলা যাক। এই লেখা বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে নয় বরং তাদের পোষক বেনিয়াদের খামখেয়ালীপন, লোভ ও প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের অসহায়তার পক্ষে। বন্ধু শামিম একটা স্থানে লিখেছিল, ‘এমনিতেই আমরা প্রজন্মকে যন্ত্র বানিয়ে তুলেছি, সুতরাং যন্ত্রের পক্ষে কীভাবে আরেক যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নির্দিষ্ট তালিম ছাড়া’! আমাদের কথা নাহয় ছাড়ুন, গবেষণা করে বললে একটা ভাল মেয়ে জোটেনা বিয়ের জন্য, ক্ষ্যাপা বা পাগলাটে বলে কাঠি করতে লেগে যায় অনেকে। এদেশে হজ্বে গেলে ভর্তুকি পাওয়া যায় বা কুম্ভমেলার জন্য বিপুল বরাদ্দ আসে, কিন্তু গবেষণা খাতে তার ছিটেফোঁটা জোটেনা সরকারের পক্ষ থেকে। সুতরাং এ পোড়ার দেশে কিছু আবিষ্কার হওয়া মানে সাহেবদের চাঁদের যাওয়ার থেকে কম কৃতিত্বের কিছু নয়।

সবাই জানে আমাদের দেশের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কোরোনা মহামারী খাতে লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, কিন্তু করোনা বিষয়ক গবেষণা খাতে কতটুকু কাঁড়ার চাল পরেছে সে খবর কারো কাছে আছে? ছাড়ুন এসব অপ্রাসঙ্গিক কথা, দেশপ্রেমিকেরা যখন কেউ একথা শুধায়নি সেখানে আমি কোথাকার হরিদাস পাল।

বিজ্ঞানী গবেষকের দল আজও পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে জানাতেই পারেনি এই SARS-CoV2 ভাইরাস ঠিক কোন উপায়ে মানুষকে সংক্রমিত করছে। তারা নিজেরাই যেন ঘ্যেটে ঘ হয়ে আছে, একটা দলের সাথে অন্য দলটার সম্পর্ক দুই মেরুর। প্রথমে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার কথা বলা হল, আক্রান্তের হাঁচি কাশির সাথেই নাকি এটা ছড়ায় অন্য দেহে, এখন নাকি একটা সুত্র থেকে বলা হচ্ছে বায়ুদ্বারা ছড়াচ্ছে- তাই মুখে মাস্ক লাগানো বাধ্যতামূলক। কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে সংক্রমণ হবেনা সেটাও কেউ জানেনা, যেটা গবেষণালব্ধ, তাই যে যা খুশি বলছে। এ জীবানু জলবাহিত হয় কিনা, মলবাহিত হয় কিনা, টাকা পয়সা দ্বারা ছড়াচ্ছে কিনা কেউ কিছুই জানেনা সঠিকভাবে। একজন একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছালে বিশ জন সেটার বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করে দিচ্ছে যুক্তি ও তথ্য সহ। সুস্থ ব্যাক্তির দেহে কেন দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হচ্ছে- তথ্য নেই। Prevention is better than cure বানীটাও লকডাউনে বন্দী। এ সব সঠিকভাবে জানতে গেলে ভাইরাসের পিছনে টিকটিকি লাগাতে হবে, মানে গোয়েন্দা আরকি, জীবানু বিজ্ঞানীদের নিয়োগ দিতে হবে।

বাস্তবটা হচ্ছে- ভাইরাসের পিছনে গোয়ান্দগিরি করতে গেলে লগ্নি করতে হবে, যেখানে রিটার্নের সম্ভাবনা শূন্য। তাই সকল গবেষকরাই ব্যাস্ত টিকা আবিষ্কার করতে, কারন ওতে খ্যাতি, যশ, অর্থ, প্রতিপত্তি সব রয়েছে। তাছাড়া সকল গবেষকই কোনো না কোনো ফার্মা কোম্পানীর অধীনস্ত, অগত্যা কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। রোগ ছড়াচ্ছে ছড়াক, টিকা বাজারে এসে যাওয়া নিয়ে কথা- যত বেশি রোগ তত বেশি কাষ্টমার, তত বেশি মুনাফা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র গবেষকদের মাঝে উৎসাহ থাকলেও ভয় রয়েছে নিজেরা আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার, লকডাউনের ফলে পরিবহণে সমস্যা। এমন হরেক কারনের দরুন তারাও যথেষ্ট সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ করে উঠতে পারছেননা, সুতরাং গবেষণা গতি পাচ্ছেনা। অথচ রোজই হাওয়ায় উড়ো খবর ভাসছে টিকা আবিষ্কারের গল্প, ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা নিউজ পোর্টাল গুলোর কন্টেট রাইটারদের কল্পনার সৌজন্যে, বাকিটা সময়ের গর্ভে।

কেউ শুধাচ্ছেনা, টিকা আসা অবধি যদি অর্ধেক সভ্যতা সাফই হয়ে যায়, কাকে বেচবে টিকা? কীভাবে মুনাফা হবে যদি মানুষের হাতে সেটাকে কেনার অর্থ না থাকে! মানুষ খাবে না টিকা দেবে? কীভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে সেটার অজ্ঞানতার কারনে, অদৌ সফল হবে টিকাকরন? কারন এমনিতেই বিনা টিকাতে এই ভাইরাস থেকে সেরে উঠার হার ৭৯%। বিগত জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত এই ৩ মাসে তাবড় বিজ্ঞানীদের দশা করুনোত্তর, অগত্যা বহুজাতিক সংস্থার ডেটা বিশ্লেষকেরা এ্যালগারিদম বানাচ্ছে ঘরে বসে, সংক্রমণের গতিপ্রকৃতির হাল হদিশ পেতে। কিছু তো করতে হবে রে বাবা, নেই মামার চেয়ে কানা মামা কনসেপ্ট।

শুধু তাই ই নয়, আজও পর্যন্ত কেউ সঠিক ভাবে জানেনা এই কোভিড-১৯ ঠিক কীভাবে আক্রমণ শানাচ্ছে শরীরের ভিতর ও কীভাবে নিজেকে প্রতিকুল পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে ‘উন্নততর’ করোনাতে প্রতিস্থাপিত করছে। আজও পর্যন্ত সঠিকভাবে এই জীবানুর বংশানুক্রম পাঠোদ্ধার করা যায়নি, যাকে বুক ঠুকে ‘নির্দিষ্ট’ রূপে প্রতিষ্ঠা করা যায়। প্রথম তিনমাস কেটে গেছে শুধু রোগ হয়েছে কিনা তার সহজলভ্য কিট আবিষ্কার করতে গিয়েই, এবারে সেই কিট সরবরাহ করে রোগ নির্নয় করা অবধি আক্রান্তের সংখ্যা ঠিক কোথায় পৌঁছাবে কেউ জানেনা। রোজই পাল্লা দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

প্রথম বিশ্বের তাবড় তাবড় বিশেষজ্ঞের দল ‘দেড় দু বছর লাগবে আরো’ বলেই খালাস হয়ে যাচ্ছে নিরাময়ের প্রশ্নে। তাহলে ততদিনের জন্য নিদান কি? পরিকল্পনা কি? অন্ন বস্ত্রের সংস্থান কীভাবে হবে? অন্যান্য স্বাভাবিক রোগব্যাধির চিকিৎসা কীভাবে হবে? কারো কাছেই কোনো উত্তর নেই। বিশ্বের কোনো সরকারই কল্পতরু নয় যে যতদিন খুশি- যত পরিমাণ খুশি টাকাপয়সা খাবারদাবার দিয়েই যাবে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোরও অবস্থা তথৈবচ, তাদেরও সীমিত সংস্থান একদিন ফুরাবে। সুস্পষ্ট নিদান না থাকলে করোনাক্রান্ত হয়ে কতজন মানুষ মারা যাবে জানিনা, কিন্তু ক্ষুধা, অরাজকতা, ওষুদের অভাব ও ছোটখাটো রোগব্যাধিতে বিনা চিকিৎসাতে মারা যাবে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ। মোদ্দাকথা অর্থনীতিই লাটে উঠার যোগাড় হবে লকডাউন দীর্ঘদিন চললে।

এই মুহূর্তে সাধারণ নিম্নবিত্ত ,উচ্চবিত্ত ও সরকারী চাকুরীজীবী মানুষ ছাড়া সকলেই দুশ্চিন্তায় রয়েছে। বিশেষ করে সরকারী সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত মধ্যবিত্তর অবস্থা ভয়াবহ। মধ্যবিত্তের জন্য কিচ্ছু নেই, এক পেট খিদে ছাড়া। রাষ্ট্রনেতাদের কথা ভুলে যান, তারা এই সেদিনও আমোদেই ছিল। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সকলেই নিজ নিজ কর্মসূচীতে ব্যাস্ত ছিল। দুম করে সব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে শুরুর দিকে গুরুত্ব না দেওয়ার দরুন, ফলত আজও দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ডাক্তাদেরই সুরক্ষা কবজ অপ্রতুল, সাধারণ মানুষ মাস্কের নামে এগুলো পরছে সেগুলো ওই বালির বাঁধের মতই। এদেশে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে একথা আজও একটা বড় অংশের পাব্লিককে বোঝানো যায়নি, অথচ একটা গুজব রটলে কী অনায়াসে তা সর্বত্র পৌঁছে যাচ্ছে।

পুঁজিবাদ সকল সময়েই সারা বিশ্বে, ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়ন ঘটিয়েছে। বর্তমান যুগে গোটা বিশ্বজুড়েই একধরনের দাম্ভিক আকাট মুর্খ অযোগ্য নেতাদের দাপট। নিজেদের অশিক্ষার কথা এরা ঘটা করে জনসমক্ষে বলে হাততালি কুড়ায়, তদের থেকে অরাজকীয়/অশোভনীয়/অগনতন্ত্রীয় কাজের জন্যই যেন এদের ক্ষমতায় বসিয়েছে জনগণ। এদের অন্ধ সমর্থকেরাও কোনো প্রকারের যুক্তি বা তথ্যের ধার ধারেনা। স্বভাবতই বিশ্বজুড়ে নীতির হাহাকারটা এই প্রজন্মের একান্ত নিজস্ব রোজগার।

গুছিয়ে মিথ্যা বলাটা বর্তমান রাজনীতিতে একটা শিল্প হিসাবে মানা হচ্ছে, যে যত বড় মিথ্যুক সে ততবেশি জনপ্রিয়। করোনা নিয়ে এই মিথ্যুক বেপরোয়া রাষ্ট্রপ্রধানগুলোর জন্যই করোনা আজ প্যাণ্ড্যেমিক। ট্রাম্প সাহেব তো একে গুরুত্বই দেয়নি শুরুতে, আত্মঅহংকারে ডুবে ছিল; এখন চুল ছিঁড়ছে। ইউরোপও তাই, নিজেদের উন্নাসিক মানসিকতা আর তৃতীয় বিশ্বকে তাচ্ছিল্য করার মাশুল গুনছে। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অবশ্য সেসব দায় থেকে মুক্ত, তাদের সেই বোধই নেই। ধর্মীয় মেরুকরন ও ভক্তদের নিয়মিত খোরাক দেওয়া ছাড়া, বাকি কখন, কাকে, কিসে, কতটা গুরুত্ব দিতে হয় সে নিয়ে ভাবার বুদ্ধি কোথায়!

করোনাকে আমার অনেকটা কবাডির মত মনে হয়, ছুঁয়ে দিলেই কোর্টের বাইরে। আমরা তাদের পাল্টা ছোঁবো- সে ‘দিল্লি’ অনেক দূর। আপাতত খাঁচায় বন্দি আমরা, খেলাটা এখন WWE হয়ে গেছে, এবং একতরফা। করোনা বল নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, আমরা লুকিয়ে বাঁচছি। রেফারিরা যারা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, সেই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিস ও অন্যান্যরা ম্যাচ শুরুর আগে নেট প্রাকটিসেই ল্যাঙমুচকি খেয়ে মাঠের বাইরে অনেকে। মূল মাচ শুরু হলে অদৌও কতজন রেফারি বাঁচবে কে জানে! এ যেন ব্রাজিল বনাম নেপালের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ। করোনা সুপার কাপের এই ম্যাচে গ্যালারীতে এই মুহুর্তে দর্শক কম, কিন্তু খিদের তাড়নাতে তারা ভিড় জমাবেই; করোনা’জী তখন কী করবে ভেবেছেন? WWE এর মত চেয়ার দিয়ে মারবে, লোফালুফি খেলবে, উপরে হামহাম গুড়িগুড়ি নেত্য করবে, এলোপাতারি ঘুসি মারতেই থাকবে মরা বা আধমরা না হওয়া অবধি।

সরকারী হিসাবে ভারতে মাত্র হাজার দশেক আক্রান্ত, অঙ্কের হিসাবে প্রতি দশলাখে মাত্র সাড়ে সাত জন। আর এতেই বাংলার অধিকাংশ হাসপাতালগুলো ২০২০ সালের IPL ম্যাচের স্টেডিয়ামের মত হয়ে গেছে, abandoned । এখন জিনগত অভিযোজিত করোনা-মাতা যদি- ‘খুদা না খাস্তা’ পাশ্চাত্যের মত খাঁটি সায়েব সেজে যায়- কিসের কিট, কিসের ভ্যাকসিন, কিসের কোয়ারেন্টাইন, আর কিসের হাইড্রোক্লোরোকুইনিন! হাসপাতালগুলো এমনিতেই ওভারলোডেড, একটা বেডে ২-৪ জন করে রোগী। বারান্দা, ঘরের মেঝে সিঁড়ি পর্যন্ত গিজগিজ করে চেনা রোগের অসুস্থ লোকে, সেখানে করোনার জন কত হাসপাতাল লাগবে? কতগুলো বেড তার জন্য যথেষ্ট কেউ জানেনা, জানলেই বা কি! সেই ঘরেই পচে মরতে হবে বাংলার গর্বে গর্বিত হয়ে।

গর্বের কথায় বাংলার কথা মনে এলো, আমাদের হালত তো আরো দুর্দশাগ্রস্থ। রাজ্য সরকার আক্রান্তের সংখ্যা লুকাচ্ছে, কেন লুকাচ্ছে তারা নিজেরাও জানেনা। কিন্তু লুকাবার তৎপরতা দেখলে মনে হয়, সংখ্যায় কম থাকতে পারলে ‘নোবেল করোনা ভাইরাসের’ মাথা থেকে নোবেলটা খুলে ওনার অনুপ্রেরণার মুকুটে জুড়ে দেওয়া হবে। এমনিতেই রোগী পরীক্ষার নিরিখে আমাদের রাজ সর্বপ্রথমে, শেষের দিক থেকে। পড়শী পাকিস্তান যেমন হাত তুলে দিয়েছে, মরলে ভাই মর- লকডাউন করলেও সেই তো মরবিই, তার চেয়ে রোগ হলে শতকরা ৭৯ জনও তো বেঁচে যেতেও পারে। বাংলাদেশ পরিপূর্ণভাবে ঈশ্বরের ভরষাতে রয়েছে, বাঁচালেও সে- মারলেও তিনিই; আমেরিকা যেখানে টলমল সেখানে বাংলাদেশের সরকারের কাছে কিছু প্রতিকার চাওয়াটাই রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমান। আবার উত্তর কোরিয়া মডেল আরো সেরা, সকাল দশটার সময় দেশে যদি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ হয়, সাড়ে দশটার আগেই তা শূন্যে নেমে যায়। আরে বাবা পোষা কুমিরদেরও তো খিদে আছে নাকি!

আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কুমিরে খাওয়াননা, মরলে মরও বলেননা, ঈশ্বরের ভরষাতেও থাকেননা। তিনি কবি, চিত্রকর, সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ থেকে কী নন যে- কুমীর বা ঈশ্বর হতে পারবেননা! তবে তিনি শুধুই চীন মডেলকে নিয়েছেন, না চিকিৎসা প্রযুক্তিতে নয়, সংখ্যা লুকানোতে। এই লুকাবার উত্তরাধিকার অবশ্য চীনের সৌজন্যে পাওয়া, তারাই করোনা লুকাবার বিষয়ে সমগ্র বিশ্বের কাছে পথিকৃৎ। এছাড়া আমাদের মাননীয়া উন্নয়নে বিশ্বাসী, রাজ্যের প্রতিটি ক্লাবকে শুধান- দেখবেন সবাই সাক্ষী দেবে। তো সে যাই হোক, তার সদিচ্ছা নেই কথাটা বলা ভুল, কিন্তু সামনের বছরের ভোটের বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে সব গুবলেট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে বলছে ইতালিতে নাকি বৃদ্ধ বেশি তাই বুড়োরাই মরছে, আমাদের রাজ্যটাই বা কি বাছা! যুবকেরা তো পরিয়াযী হয়ে ভিনরাজ্যে বা ভিনদেশে থাকে, শিক্ষিত হলে IT, অশিক্ষিত হলে শ্রমিক। সুতরাং এখানেও তো ওই বুড়ো হাবড়াদের দলটাই বেঁচে আছে মরার জন্য।

কেন্দ্র সরকারেরও দ্বিচারিতা বিমাতার মত, আসামকে PPE আনার হুকুম দিলেও বাঙলা সহ অনেক রাজ্যকেই সে অধিকার দেয়নি। শুধু তাই নয়, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার খাতে করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ খুবই কম, ভাবখানা যেন এটা ভারতের একটা উপনিবেশ, অঙ্গরাজ্য নয়। অবশ্য কেনইবা দেবে, সবই তো অপরিকল্পিত খাতে খরচা দেখিয়ে এসেছে এতদিন।

আসাম সরকার চীনের গুয়াংঝৌ থেকে প্রাথমিক ভাবে ৫০ হাজার PPE সহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম এনেছে ভারতেই একমাত্র রাজ্য হিসাবে, এবং সামনের সপ্তাহে আরো দু লক্ষ বরাত এসে পৌঁছাবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সব্জিবাজারে গণ্ডি কেটে, কয়েজনক বরেণ্য মানুষের সাথে নিজের বড় করে ছবি সহ বিজ্ঞাপন দিয়েছে আবাপতে। এটাই উনার করোনার বিরুদ্ধে লড়াই, নিজেকে মনুষ্যতর কাল্ট ফিগারে নিয়ে যেতে- সেই বিজ্ঞাপনের খরচ তুলতে মদে অতিরিক্ত ৩০% করের ঘোষণা করেছিলেন; যা কেন্দ্র পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই বঞ্চনার কথা নিয়েই মুখরিত, তিনি হয়ত আসামের বিষয়টা জানেনই না।

গোটা বিশ্বজুরে ব্যার্থ রাজনীতি আজ নিজেই কোয়ারান্টাইনে, কোথাও বা ভেন্টিলেটরে। দুষ্ট রাজনীতির অবৈধ সঙ্গমে জন্মানো রাষ্ট্রনেতারাও ভীষণ অসহায়। না গবেষক, না রাষ্ট্র, কারোরই মুখ দেখা যাচ্ছেনা। দুজনের একে অন্যের আঁচলে মুখ লুকিয়ে আপাতত। জিতলে একজনই সে দৌড়ে আছে, সেটা বিজ্ঞান। বিজ্ঞান জিতলে রাষ্ট্র বেড়িয়ে আসবে, গবেষক সম্মান পাবে, নেতারা আস্তিনে ঘাম মুছে জানাবে “উফ, কী খাটনিটাই না খাটলাম”, ধর্ম ফনা তুলবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু ততদিন আমরা কি করব? যদ্দিন বেঁচে আছি, চলুননা- বাড়ির দেওয়াল জুড়ে গুহাচিত্রই আঁকি নাহয়…
পরবর্তী প্রজন্মর গবেষণার জন্য কিছু অন্তত রেখে যায়।

Tanmay Haque

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *