মুসলমানেরা সাধু হত্যা করেনিঃ পালঘর

https://indianexpress.com/article/cities/mumbai/palghar-lynching-probe-yet-to-be-launched-into-cops-conduct-6370009/?fbclid=IwAR34_hG01THt9Jf8GJ0J0q1Imew_4STAn1YqEs2J80iQ41mfnGXOG4GK458

সারফারোজ নামের একটা সিনেমা দেখেছিলাম, যেখানে একদল ডাকাত একটা বাস আক্রমন করে তাদের থেকে সকলকিছু লুঠ করে প্রত্যেককে হত্যা করেছিল। হ্যাঁ, সেটা সিনেমাই ছিল।

কিন্তু গত ১৫ই এপ্রিল মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার গড়ছিঞ্চোল গ্রামে যেটা ঘটেছে সেটাও কিছুটা তেমনই।

শতাধিক মত্ত জনতা একটি প্রাইভেট গাড়িকে রাস্তায় থামিয়ে সেই গাড়ির ড্রাইভার সহ তিনজনকে হত্যা করে। বাদবাকিরাও বেধরক মারের শিকার। সেইমুহুর্তে পুলিশের একটা গাড়িও এসে উপস্থিত হয়- কিন্তু সেই কনস্টেবলও শুধু প্রহৃতই হন তা নয় বরং পুলিশের গাড়িটিও ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় তিনজন, যা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক। একজন গাড়ির ড্রাইভার নীলেশ তালগাড়ে(৩৫), অন্য দুজন- চিকনা মহারাজ(৭০) ও কালপুরুষ গিরি মহারাজ(৩৫)।

জুনা আখাড়ার কয়েকজন সাধু মুম্বই থেকে গুজরাতের সুরাতে যাচ্ছিল কোনো একটা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতে। আদিবাসী অধ্যুষিত পালঘরের ঐ অঞ্চলে কোনো ভাবে রটেছিল ওই গাড়িতে ছেলেধরা বা ‘বাচ্চাচোর’ এর দল যাচ্ছে যারা শিশুদের শরীর থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুলে নিয়ে ব্যবসা করে। যদিও পুলিশ প্রায় ১০১ জনকে গ্রেফতার করার পর বলেছে- এরা স্বসস্ত্র ডাকাতদলও হতে পারে। এই হল ঘটনা।

রটনা হল, RSS ও তার প্রোপাগান্ডা মেসিনারি গত ২৪ ঘন্টা ধরে এই বিষয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাবার প্রচেষ্টার খামতি রাখেনি। কিন্তু লাঠিসোঁটা সহ দলটি আদিবাসী প্রমানিত হতেই ব্যাকফুটে চলে গেছে।

সারা ভারত জুড়ে মব লিঞ্চিং বা পিটিয়ে মারার ঘটনার সুত্রপাত RSS নামক সন্ত্রাসবাদী দল ও তার শাখা সংগঠন গুলোর হাত ধরেই। কোনো রাজ্যের প্রশাসনই এ বিষয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আজ তাদের দেখানো পথেই আজ “সাধু সন্ন্যাসীর” দল আক্রান্ত। এটা হওয়ারই ছিলনা কি? নগর পুড়লে দেবালয় কীভাবে রক্ষা পায়?

১৩৭ কোটি ভারতীয়কে শাসন করছে সেই বিজেপি, যাদের ১১৩ কোটি ভারতীয়ই অপছন্দ বা ঘৃণা করে। তাদেরই নেতারা এই মব লিঞ্চিংকে সমর্থন করেছে যখন আহত বা নিহতের নাম মুসলমান ছিল। এমনকি লোকসভাবে মবলিঞ্চিনহ বিরোধী আইন এর প্রস্তাবটুকুকেও বিজেপি সেদিন নস্যাৎ করেছিল, আজ সেই বিজেপিই মব লঞ্চিং নিয়ে লফাও করে সোস্যালমিডিয়ার মড়াকান্না কাঁদছে।

এই ট্রেন্ড ভয়ানক ইঙ্গিত করছে, “এভাবেও পিটিয়ে মেরে ফেলা যায়” ধারনা বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে গেলে তার ফল মারাত্বক ও সুদূরপ্রসারী। কারন পূর্বের কোনো ক্ষেত্রেই আইনকে সেভাবে কঠোর হতে দেখা যায়নি। সাপুরেরা সাপের ছোবলেই মারা যায়- আজ আইন চোখের পটি খুলে হয়ত দেখতে চেষ্টা করবে- কিন্তু তবরেজ আনসারীদের আত্মারা মিছিল করে অবরোধ করে রাখবে।

সুতরাং এটা একটা ভয়াবহ মৎসন্যায়ের সূচনা মাত্র, যার রুপকার একমাত্র সন্ত্রাসী RSS

সাধু সন্ন্যাসীদের উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ হওয়া উচিৎ দেশ জুড়ে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে বিগত কোনো মব লিঞ্চিং এর সময় মাননীয় সন্তদের তরফে কোনো প্রতিবাদ আসেনি। তারও পরেও বলব, আপনারা এর প্রতিবাদ করুন। এ এক ভয়ানক ইঙ্গিত

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *