আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, দক্ষিন কোরিয়া, চীন, ইংল্যান্ড, ইজরায়েল ও ইতালি।

কী, করোনার তালিকার কথা ভাবছে! ঠিক তাই, কিন্তু এই তালিকার বাইরেও আরেকটা তালিকা রয়েছে, যেখানে এই পর্যয়ক্রমেই এই দেশ কটিই বিরাজমান।

কথায় আছে ভাগ্যের বোঝা ভগবানে বয়। আপনি আব্রাহামীয় বা প্যাগান তথা সনাতনী যে ধর্মেরই হোন- আপনার নির্দিষ্ট ভগবান আছে; নাস্তিকদেরও ভগবান আছে- আস্তিকেরা। কারণ নাস্তিকেরা আস্তিকদেরই জপেন দিবানিশি। সে যাই হোক, প্রশ্নটা ভগবান নিয়ে, আস্তিক বা নাস্তিক নিয়ে নয়। ঘটনা হলো ভগবান দেশ শাসন করেনা, করে মানুষ। কেউ ভগবানদের দোহায় দিয়ে তো কেউ গণতন্ত্রের দোহায় দিয়ে, বাকি মুষ্টিমেয় লেজেন্ডরা ‘এলিট-বুড়ো’ দিয়ে।

ভগবান থাকার একটা মস্ত সুবিধা আছে, বোঝা’র সব দায় সব তার; অপরদিকে এলিট-বুড়োরা ভুল করেন না, তাই বোঝাও নেই, সুতরাং দায়ের প্রশ্নও দেই সেসব দেশে। বাকি রইল গণতন্ত্রী দেশগুলো! এখানে জনগণই ভগবান, সুতরাং স্বরলিপির তৃতীয় ও পঞ্চম সুরের মিলন ঘটিয়ে- সব দায় আমাদের; আমরা জনগণ। আইনানুসারে সব বোঝা আমাদের, দায়ও। বাকিরা ভক্ত ও প্রশাসন, এবং আইন আইনের পথেই চলে।

কিছুদিন আগে আমি একটা পোস্ট করেছিলাম, যুদ্ধবাজ অস্ত্র বিক্রেতা ও শীর্ষ করোনা আক্রান্ত দেশগুলি। বেশ গুছিয়ে গালিমন্দ খেয়েছিলাম। হ্যাঁ, হতেই পারে গোটা বিষয়টাই কাকতালীয়, ইরানের মতো এক আধজন বাদ দিলে ‘এক থেকে দশ’ নম্বরের দিকে চেয়ে দেখুন- দেখবেন করোনা তালিকায় উজ্জ্বল প্রতিটা দেশই অস্ত্র রপ্তানিতেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। একবার স্মরণ করিয়ে দিই, আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, দক্ষিন কোরিয়া, চীন, ইংল্যান্ড, ইজরায়েল ও ইতালি।

2018 সালের এক sipri এর প্রতিবেদনে(1) অনুযায়ী- বর্তমানে অস্ত্রের বাজার হচ্ছে ৪২০ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় অঙ্কতে- বত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকারও বেশি। শূণ্য গুণে শেষ করা যাচ্ছিল না, যা অঙ্ক। এটা টাকা আমাদের এই ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার দেশের ২০২০ সালের মোট বাৎসরিক বাজেটের(2) সমান। আল’জাজিরার(3) একটা প্রতিবেদনের হিসাবে এই বাজার বিগত ১০ বছরে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই বিপুল টাকা কাদের পকেটে যায় ভেবে দেখেছেন কখনও? এতটুকুও আশ্চর্য না করে বলি- অস্ত্র রপ্তানি কারক প্রথম ৪টি কোম্পানিই আমেরিকার যথাক্রমে, ‘লকহেড মার্টিন’, ‘বোয়িং’, ‘রেদিওন’, ‘নরথর্প গ্রুম্ম্যান’। একটি ব্রিটিশ কোম্পানি, ‘BAE Systems’, ষষ্ঠটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘এয়ারবাস’; একচেটিয়া বাজার তাতে সন্দেহ নেই। এদের ভাগযোগটাও দেখে নিন এই ঠিকানাতে(4) ঘুরে এসে, দেখুন এই লুটের বখরা কে কত পায়। মোদ্দা এই দেশগুলর রাষ্ট্রীয় সংসারের একটা বড় আয়ের উৎসই হচ্ছে এই অস্ত্র বিক্রি। প্রতিটি দেশকে চমকে ধমকে অস্ত্র কিনতে বাধ্য করে হয় মিত্র পক্ষ সেজে, না হলেই ইরাক, লিবিয়া বা সিরিয়া করে ছেড়ে দেবে।

এটা তো গেল শুকনো তথ্যের ক্লিশে খটখটানি। বলবেন, নতুন কী এর আছে এতে! আছে দাদা আছে, সেটাই তো আমাদের বিষয়।

এখানে বলে রাখি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ‘যুদ্ধের বাজার’ এশিয়াতে স্থানান্তরিত হয়েছে, অল্প কিছুটা আফ্রিকা ও বাকি সামান্য লাতিন আমেরিকাতে।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি গোটা বিশ্বকেই গৃহবন্দী করে দিয়েছে। বাইরে যাওয়াই শুধু বন্ধ নেই, বরং সব্জি-মুদি-ওষুধ ছাড়া প্রায় সকল রোজগারই বন্ধ; সকলেই আমরা ঘরে বসে খাচ্ছি। কেউ সঞ্চিত অর্থ ভেঙে, কেউ ঋণ করে, আবার কেউবা সরকারের দয়াদাক্ষিণ্যে। আপনি বলবেন চাকুরিজীবি! উনারা মোট জনসংখ্যার দেড়জন মাত্র, বাকি সাড়ে ৯৮ জনের কথা বলছি, তেমনভাবে দেখলে সরকারী কর্মচারিরাও সরকার পোষিত।

ঠিক কতদিন লকডাউন থাকবে আমরা কেউ জানি না, খুব দ্রুত বিশ্ববাসী মুক্তি পাবে করোনার ত্রাস থেকে সে আশাও নেই। তারপর? মানুষ খাবে কী! রাতারাতি তো সকলে কাজ ফিরে পাবে না, সঞ্চিত পুঁজি ফুরাবে, ঋণের দরজা বন্ধ হবে। সরকারও কোনো কল্পতরু নয় যে অনন্তকাল বসে খাওয়াবে জনগণকে, সে সমর্থ কোনো দেশের সরকারেরই নেই। অতএব, কৃচ্ছসাধন অনিবার্য, মাংসে বদলে ফুলুরি দিয়েই ভাত খেতে হবে।

প্রতিটা দেশেই যে বিপুল অর্থনৈতিক দুরবস্থা এসেছে এটা একটা বাচ্চা ছেলেও জানে। আমাদের দেশও যেমন তার বাইরে নয় তেমনই উন্নত দেশগুলোও, সকলেরই হাঁড়ির হাল অবস্থা। ‘যুদ্ধের বাজার’ ও ‘অস্ত্রের উৎপাদক’ সকলেই মোটামুটি অর্থনৈতিক ভাবে ধুঁকছে, দিনে দিনে পরিস্থিতি রোজই খারাপ হচ্ছে। আমেরিকার টেক্সাস, ওকলাহোমা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, কোলারডো, টেনিসি, মন্টানা প্রদেশ তাদের দেশের ওই ভয়াবহ মহামারীর উপেক্ষা করে সব খুলে দিয়েছে, বা দিতে বাধ্য হয়েছে। মদের বার, সেলুন, ট্যাটু পার্লার, রেস্টুরেন্ট ইস্কুল সহ সব খুলে গেছে; পেটের জ্বালা বড় জ্বালা যে। বর্তমান আমেরিকার অর্থনীতির বিষয়ে একটা ছোট্ট আঁচ বা অনুমান পেতে এই লিঙ্কে(5)। ঘুরে আসতেই পারেন লিঙ্ক থেকে, জ্ঞান বাড়বে বই কমবে না। বাকি উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক হালহকিকৎও নেটে একটু ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন।

আমাদের দেশেও লকডাউন খুললো বলে, নিরুপায়; তাতে করোনার ভাক্সিন বাজারে আসুক বা না আসুক। আশার কথা হচ্ছে আমাদের দেশজ অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। উন্নত দেশগুলোর সে সুবিধা নেই, তারা প্রযুক্তি, ভোগ্যপণ্য ও অস্ত্র বিক্রি করা অর্থের বলে বলিয়ান। স্বভাবতই, আমরা সরু চালের বদলে মোটা চাল একবেলা খেয়ে জীবন ধারণ করে নেবো কিন্তু উন্নত দেশগুলো কী খাবে! তাদের ঠাটবাট কী দিয়ে চলবে!

এখন এই পরিস্থিতিতে এই “যুদ্ধ বাজারের দেশের” সরকার চাল কিনবে না অস্ত্র কিনবে? চাল না দিলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে, সাথে লুঠতরাজ-অরাজকতা। এক্ষেত্রে উত্তরটা খুব স্বাভাবিক, অস্ত্র কিনবে না। সাধারণ মানুষও ভোগ্যপণ্য খুবই কম কিনবে, প্রযুক্তি খরিদও তথৈবচ। এদিকে বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্য বিক্রি বিপুল হ্রাস, মানে উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন ঝাড় খাবে। প্রযুক্তিও বেঁধে খাওয়াবার বস্তু নয়, সে ব্যবসাও ঝাড় খাবে উন্নত বিশ্বের। মানুষের হাতে আবার ক্রয়ক্ষমতা না ফিরলে এই ক্ষেত্রগুলোতে বিপুল আর্থিক মন্দা দেখা দেবে, যা রাতারাতি শুধরাবার নয়। তাহলে তাদের বাঁচার উপায় কী?

সিম্পলি একটাই, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা।

সেটা করতে পারলেই, খেয়ে না খেয়ে অস্ত্র কিনতে বাধ্য প্রতিটা দেশ। এদের সাথে আছে পাকিস্তানের মতো পরজীবি রাষ্ট্রগুলো, যাদের জন্মই হয়েছে যুদ্ধবাজেদের পোষা নেড়ির মতো ঘেউ ঘেউ করে মাতিয়ে ব্যস্ত রাখা পড়শীকে।

একটা বৃহৎ যুদ্ধই পারে লকডাউনে শুয়ে পড়া ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে। কোটি কোটি মানুষের কাছে গিয়ে যেচে যেচে ভোগ্যপণ্য বা প্রযুক্তি ফেরি করার চেয়ে শ’খানেক রাষ্ট্রপ্রধানকে কব্জা করা সহজ। প্রতিটি দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি রয়েছে তাদের নিজেদের মধ্যে বা রাষ্ট্রের সাথে লেলিয়ে দেওয়া আরো সহজ। যেকোনো ছুতোয় অস্ত্রগুলো কিনতে বাধ্য করতে পারলেই তাদের রোজগার, এটাই তাদের জরুরীকালীন ঘুরে দাঁড়ানো একমাত্র পন্থা। প্রসঙ্গত এই এপ্রিলেই ভারত সরকার আমেরিকার থেকে কয়েক হাজার কোটির অস্ত্র কিনেছে, বা কিনতে বাধ্য হয়েছে।

সুতরাং করোনার ছোঁয়াছুঁয়ি শেষ হয়ে গেল মানেই দুর্যোগ শেষ হবে, আমার অন্তত তা মনে হয়না। কারণ উন্মত্ত যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রপ্রধানগুলোর উপর যেমন পূর্ণ ভরসা আছে ঠিক তেমনি পুঁজিবাদের উপরেও আমার ভরসা অটুট। তারা একে অপরের পরিপূরক, নিজের স্বার্থের বাইরে কিচ্ছুটি বোঝে না। যুদ্ধের ফলে যদি দু’একশ কোটি ভোগে যায় যাবে, আমরা তো তৃতীয় বিশ্বের সংখ্যা মাত্র। তাতে তাদের কী ক্ষতি! দুর্বল মাত্রেই ক্ষমতার বলিপ্রদত্ত, নতুবা ছাগলের বদলে সিংহ বলি দিত আস্তিকেরা।

যুদ্ধ তো হয় বা হবে এশিয়া আফ্রিকা অঞ্চলে। যুদ্ধোন্মাদ ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, চীনও সমুদ্রে নতুন দখলদারিত্বের খেলায় মত্ত, মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি সামান্যও কমেনি করোনার প্রভাবে। ভয়ঙ্কর কথাটা হলো এশিয়া মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশ পরমাণু শক্তিধর। এই করোনা আবহে চীন পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করেছে এই এপ্রিলেই। আগামীর যুদ্ধ হলে সেখানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহৃত হবে না, এ ভাবনা বালখিল্যতার পরিচয়।

চীন এই তথাকথিত ‘ইউরোপ-আমেরিকা’ নাম্নী উন্নত বিশ্বের কাছে বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাদের সস্তার শ্রমিক, উন্নত প্রযুক্তি, সস্তা দাম ও উন্নত বিপণন নিয়ে গোটা বিশ্বে জাঁকিয়ে বসেছে। কিন্তু তাদের দেশজ যে বাজার, যা গোটা আফ্রিকা ও আমেরিকার জনসংখ্যার সমান- তা বাকি বিশ্বে জন প্রায় বন্ধ। বাকি ভোগ্যপণ্য ছেড়ে দিন, মার্কিন ট্যেকনোলজি জায়েন্ট গুগুল, ফেসবুকেরও সেখানে ব্যবসার অধিকার নেই; উল্টে এ্যপলের মত বহু মার্কিন সংস্থার প্রোডাকশন ইউনিট চীনে।

সুতরাং, ‘উন্নত বিশ্বগুলো’ তাদের আর্থিক সঙ্কটে তাদের ‘সকলের প্রতিদ্বন্ধী’ চীনকে যে শায়েস্তা করার চেষ্টা করবে তা বলাই বাহুল্য। আমাদের দেশ সহ চীন, আফ্রিকা ইত্যাদি হলো অত্যন্ত ঘন বসতির দেশ। সুতরাং আগামীতে এই মানব সম্পদ লোভের জন্য আমাদের দেশকে যে টার্গেট বানাবে না, সে কথাও জোর দিয়ে বলতে পারা যাবেনা।

তাই ঠিক সঠিকভাবে এখনই নির্দিষ্ট করে সময় অনুমান না করা গেলেও যুদ্ধ যে অতি সন্নিকটে তা বলাই বাহুল্য। বলা ভালো আমরা যুদ্ধের ছায়াতেই শ্বাস নিচ্ছি। এই যুদ্ধে কে জিতবে কে হারবে জানি না, জ্ঞান ও বিজ্ঞান হেরে যাবে লোভ আর লালসার কাছে, তা নিশ্চিত।

মানবতা শব্দ শুধুই গরিবের জন্য, সম্মান-অহংকার-হার-ঔদ্ধত্য পুরোটাই ধনীর অলঙ্কার। সুতরাং আগামী আরও দুঃসহ ও ভয়ঙ্কর। পয়সা নয়, সম্পদ জমিয়ে রাখুন বেহিসাবি খরচা না করে। গুলি বোমাতে কত মানুষ মরবে জানি না, কিন্তু যুদ্ধের সাইডএফেক্ট হিসাবে বহু মানুষের অনাহারে মৃত্যু হবেই। তাদের মধ্যে আমি আপনি যে থাকবো না সে কথা বলা দুষ্কর।

আমাদের আছে সেই নেতারা, যাদের না আছে জ্ঞান, না আছে প্রজ্ঞা, না আছে সাহস, না আছে আছে লড়াই করার ক্ষমতা। সুতরাং এমতাবস্থায় আমরা কেউই এই করোনা পরবর্তী এফেক্ট থেকে ছোঁয়াচ বাঁচাতে পারব না, তাতে ঘরে যুদ্ধ লাগুক বা পড়শীর ঘরে।

আমাদের জনসাধারণের লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না বরং এটাকে শুরুর শুরু ভাবাটাই বিচক্ষণতার কাজ। এই বিচক্ষণতা আপনাকে আমাকে বাঁচিয়ে দেবে কিনা নিশ্চিত ভাবে না জানলেও আমাদের জীবনকে কিছুটা হলেও দীর্ঘায়িত করবে পুঁজির বিরুদ্ধে লড়াই দেবার জন্য।

যদি এই আশঙ্কা অমূলক হয়, এর চেয়ে বাজে ভাবনা আর দ্বিতীয়টি হয় না। কিন্তু সত্য হলে?

ভয় পেয়ে লাভ নেই, আমরা সব দিক থেকে মার খেয়েই রয়েছি। মরা আর দ্বিতীয় বার মরেনা, এই চরিত্রই আমাদের বাঁচিয়ে দেবে না সেটার গ্যারান্টি কে নিয়েছে!

ভালো থাকবেন।

1) https://www.sipri.org/…/global-arms-industry-rankings-sales…

2) https://www.india.gov.in/spotlight/union-budget-2020-2021

3) https://www.aljazeera.com/…/huge-arms-trade-fair-draws-deal…

4) https://www.weforum.org/…/5-charts-that-reveal-the-state-o…/

5) https://www.cbo.gov/about/privacy

Tanmay Haque

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *