প্রথম পর্বের ফেসবুক লিঙ্কঃ
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10207140069655927&id=1707681415

দ্বিতীয় পর্ব
°′°°°°°°°°°°
রোগের হেতু যদি একটাই হয়, তাহলে দেশভেদে মৃত্যু হারে এই ভয়ানক অসামঞ্জস্য কেন? বিজ্ঞানীরা প্রথমে বলেছিলেন মোট ৬টি প্রজাতির করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যা মানুষকে সংক্রামিত করে, পরে বাদুড়ের মধ্যে আরো ৫০০ প্রজাতির করোনা তারা আবিষ্কার করেছেন, সুতরাং প্রতিটি আলাদা আলাদা দেশের নমুনা গুলো সেই আলাদা কিনা এ বিষয়েও কোনো গ্রহনযোগ্য সমাধান আসেনি। কেউ কেউ বলছে তাপমাত্র, আদ্রতা, উচ্চতা ভেদে ভাইরাস নাকি ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে, কিন্তু শেষ ২ দিনে ভারতে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি মোটেই এই কথাকে পুষ্টি করছেনা। ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে এপ্রিলের ২৬ তারিখ পর্যন্ত সংক্রমণ ছিল- ২৮০০০ জন- সেখানে আজ ৩ রা মে এর মধ্যেই ১২ হাজার বেড়ে ৪০ হাজার পৌঁছে গেছে মাত্র ৭ দিনে। এছাড়া বিবিসি এর একটা প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ রয়েছে, তারাও এমন কোনো বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।
https://www.bbc.com/future/article/20200323-coronavirus-will-hot-weather-kill-covid-19

বরং WHO এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে –তাপমাত্রর গল্পটা একটা গুজব। নিচের লিঙ্কে ফ্যাক্ট-চেক দেওয়া রয়েছে। https://www.who.int/docs/default-source/nepal-documents/novel-coronavirus/un-rumour-tracking-english-issue-2.pdf?sfvrsn=bd68b830_2

তাহলে এমত পরিস্থিতিতে সমাধান কি? আপনি বলবেন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু উপরের প্রশ্নগুলো ও তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী- যাকে এখনও সঠিকভাবে চিহ্নিতই করা যায়নি, তাকে তাক করে গুলি ছুড়বে কীভাবে? আগামী নিশ্চই এর সমাধান করবে, কিন্তু এখন কি হবে? সেই আগামীর মেয়াদই বা কতদিন?

প্রথমেই বলেছি, এটা সম্ভবত একই ‘গণ’ ভুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির সংক্রমণ, যার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য হয় WHO এর কাছে নেই বা সত্য গোপন করছে। করোনার ‘এপিসেন্টার’ যদি চীন’ই হয় তাহলে ধরে নিতে হবে এই জীবানু কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের বিবর্তন ঘটিয়ে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে গবেষকদের তরফে কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই, তাই এটা আপাতত হিসাবের বাইরে চলে যায়। বিখ্যাত ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ডেইলি মেলও এমনই একটা সন্দেহ জ্ঞাপন করে গত ৯ই এপ্রিলের একটা প্রবন্ধ পাব্লিশকরেছিল, যেখানে প্রথম তারা A, B, ও C ক্যাটাগরির কথা উল্লেখ করে, যেখানে A এর আবার দুটো সাব-কাটাগোরি ছিল। কিন্তু মে’এর ৩ তারিখ পর্যন্ত কোনোটাই গবেষকদের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।
https://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-8204255/There-THREE-separate-types-coronavirus.html

রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার সুত্র ধরে যদি ধরে নিই, চীন’ই রাসায়নিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে ভুলবশত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ছড়িয়েছে, সেক্ষেত্রেও রোগের লক্ষণ বিশ্বব্যাপী একই পরিসংখ্যান হওয়ার কথা বিগত চার মাসের নিরিখে। উল্টোদিকে চীনের দাবী মোতাবেক এটা আমেরিকার ষড়যন্ত্র, সেক্ষেত্রেও জীবানুর চরিত্র এতটা অসামঞ্জস্যমূলক হওয়ার ছিলনা। তাহলে দেখা যাচ্ছে দুটো তথ্যই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম।

বিশ্বের তাবড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে একটা মঞ্চ বানিয়েছে, যেখানে ‘Artificial Intelligence’ ব্যবহার করে গোটা বিশ্বে এই রোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যেমিকেল এজেন্টের ডিজিটাল স্ক্যান করে একটা ‘Common Database’ তৈরি করে তার বিশ্লেষণ করছে। এই কাজে IBM তাদের সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেবার বিষয়েও এগিয়ে এসেছে- যাতে করে জটিল গানিতিক সমাধান অতি দ্রুত সম্পন্ন করে, একটা শক্তিশালী প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব যা গোটা বিশ্বকে ত্রাসের হাত থেকে মুক্তি দেবে। আতঙ্কের গল্পটা হল- অধিকাংশ বড় ফার্মা কোম্পানিগুলো তাদের ‘ব্যবসায়িক গোপনীয়তা’ রক্ষার স্বার্থে তারা ‘Covid Data’ দিতে সটান মানা করে দিয়েছে, অথচ তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ও বৈচিত্রময় তথ্য থাকার কথা। এই গোপনীয়তা রক্ষার একটাই কারন- মুনাফা।

এদিকে আমাদের দেশের সিরাম ইন্সস্টিটিউট বলছে, অতিশীঘ্র তারা বেশ কয়েকলক্ষ ভ্যাকসিন বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত। প্রশ্ন- এটা কোন ভাইরাসের ভ্যাকসিন? এ বিষয়ে আমেরিকা এমন নিশ্চুপ কেন, যেখানে আমেরিকা প্রায় সমস্ত বড় বড় রিসার্চ সেন্টার গুলোকে অর্থের জোরে কিনে নেবার প্রস্তাব দিতে দিতে অতিষ্ট করে রেখেছে। তেমনই এক জার্মান বায়ো রিসার্চ কোম্পানি CureVac কে কিনে নেওয়ার জন্য বিপুল অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল ট্রাম্প, যাতে তারা যেন শুধুই আমেরিকার জন্য কাজ করে। যদিও ওই CureVac, ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচই করে দেয়নি, বরং এই ঘৃণ্য মুনাফাখোরী চক্রান্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে টুইটারে জানিয়েও দেয় বিশ্বকে। সুতরাং, সেই আমেরিকা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে বলে দাবী করা সিরাম ইন্সিটিটিউট নিয়ে এক্কেবারে চুপ। প্রসঙ্গত- এই CureVac কোনো ফার্মা কোম্পানি নয়, এরা শুধুই গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তারপরেও তাকে কিনে নিতে চাওয়ার ঘৃন্য প্রয়াস চালিয়েছিল।

মুনাফার জন্য পারেনা এমন কোনো কাজ নেই আমেরিকা ও তার বন্ধুদের কাছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে HIV এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিল আমেরিকার ফেডারাল গর্ভমেন্ট, কয়েকটি ফার্মা কোম্পানির সাথে সম্মিলিত উদ্যোগে, সেবারও গবেষণা চুরি ও অনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল, প্রমানের অভাবে কারো শাস্তি হয়নি। এইডস ভাইরাসের এই AntiRetroViral ভ্যাকসিন সফল প্রমাণিত হতেই, আমেরিকা সেই ফার্মা কোম্পানীগুলোর বকলমে একগাদা পেটেন্ট লাগু করে ভ্যাকসিনের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে চলে যায়। গরীব দেশ তো ছার- আমাদের ভারতেই ওই ১৯৯৬-২০০৪ পর্যন্ত একেকজনের জন্য তৎকালীন মুদ্রাতে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা খরচা পড়ত AntiRetroViral এর জন্য। ২০০৪ সালে T cells চিকিৎসা পদ্ধতি বাজারে আসলে তবে HIV ভ্যাকসিন জনসাধারনের জন্য সহজলভ্য হয়েছিল।

সুতরাং করোনার মত এই মহামারী রোগের প্রতিষেধক থেকে মুনাফা কামাবার জন্য যে, জায়ান্ট ফার্মা কোম্পানিগুলোর জিভের লালা ঝরছে সেটা বলাই বাহুল্য। একটা দল লেগে পরে আছে কীভাবে পরিত্রান পাওয়া যায় সেই গবেষণায়, আরেকটা দল রয়েছে কীভাবে কোনো সফল গবেষণাকে করায়ত্ত করে তা থেকে মুনাফা করা যায় সেই ধান্দায়।

২০১৪ সালে যখন ইবোলা ভাইরাস মহামারির মত ছড়িয়ে পরেছিল আফ্রিকাতে, ইউরোপ-আমেরিকার একটাও বড় ফার্মা কোম্পানী ওষুধ প্রস্তুত করার বিষয়ে নূন্যতম আগ্রহ দেখায়নি। আরব পেনিনসুলার ধনকুবের রাষ্ট্র গুলোও চোখে পটি বেঁধে ছিল। কারন যে দেশটিতে প্রথম এটা ছরিয়েছিল তার নাম- গিনি, যেখানকার মানুষেরা দরিদ্রদের মধ্যে দরিদ্রতম।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে ‘গ্যারি কোবিঙ্গার’ নামের এক কানাডিয়ান ভাইরাস গবেষক নিজ উদ্যোগে গবেষণা করে- ইবোলার ভ্যাকসিন স্যাম্পেল তৈরি করে WHO এর কাছে সেটা পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়েছিল, হু পত্রপাঠ সেটা বাতিল করে দিয়েছিল ফার্মা কোম্পানীদের লবির দৌলতে। পরবর্তীতে মৃত্যুহার আরো বেড়ে গেলে, গিনি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, মালি এর সরকার নিজ দায়িত্বে ‘কোবিঙ্গারের’ ভাক্সিনের ট্রায়াল শুরু করে, এগুলো কানাডা সরকার বিনামূল্যে দান করেছিল, যাতে সফলতাও আসে।

এই একই বিষয়ে আমেরিকার বিজ্ঞানী ফিল্ডম্যান এবং স্টিভেন জোনস পরিচালিত উইনিপেগ ল্যাব’ নাম্নী একটা গবেষণা সংস্থা- মার্কিন সেনেটের কাছে চেয়ে চেয়েও চার পয়সার অনুদান পাওয়া তো দূরঅস্ত, বরং তাদের ইবোলা সংক্রান্ত গবেষনাই বন্ধ করে দিয়েছিল- “প্রয়োজন নেই” বলে। পরবর্তীতে উইনিপেগ, কানাডায় তাদের পরীক্ষাগার স্থাপন করে কানাডীয় প্রতিরক্ষাখাতের কিছু বরাদ্দের সহযোগিয়তায়। ইবোলা ভাক্সিনের বানিজ্যিক ডেভলপ এরাই শুরু করে।

সুতরাং, দেড় পয়সার মুনাফা না থাকলে উন্নত বিশ্ব এক পা’ও কোথায় ফেলেনা। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২০১৯ এর সেপ্টম্বরে এই রোগ ও তার ভাইরাসকে মান্যতা দিয়েছে। বাকিদের ভয় দেখিয়ে অস্ত্র বিক্রি করেছে, আর নিজেরা একে অন্যের সাথে টক্কর দিয়ে বিশ্বের সুপার পাওয়ার হওয়ার দৌড়ে লেগে রয়েছে। আমেরিকা তো আছেই, সাথে চীন, রাশিয়া আর ইজরায়েল। ঠিকিই শুনছেন, ইজরায়েল। এ নিয়ে পরবর্তী পর্বে আলোচনা করব।

তাহলে- i) ‘প্রকৃতিগত ভাবে এই ভাইরাস সংক্রমণ করেছে’ তত্ত্ব কিম্বা ii) ‘চীন/আমেরিকার যে কেউ ছড়িয়েছে’ তত্ত্ব- এই দুই সম্ভাবনার মাঝে কি কোনো “তৃতীয় পক্ষ” কাজ সেরে নিচ্ছে কৌশলে? ওই শুরুর বিল্ডারটির মত, যে কৌশলে বস্তির জমিতে নিজের বহুতলটি বানাতে চায়। যদি তাই হয়, তাহলে কে সেই পক্ষ? কি তার গোপন ইচ্ছা? এমন অনেক সদ্যজাত প্রশ্নেরা চেঁচামেচি জুড়ে দেবে। পরবর্তী পর্বগুলোতে এ নিয়ে বিষয়ে আলোচনা করব।

আজকের দিনের এই লকডাউনে গোটা বিশ্বই কার্যত একই আদেশের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তাহলে কি এটাই সেই ‘New World Order’ এর সূচনা? যে লালসা শতকের পর শতক ধরে লালন করে এসেছে ‘গুপ্ত’ সংগঠনগুলি।

ভবিষ্যৎ নিশ্চই এর জবাব দেবে, দিতে বাধ্য।

…ক্রমশ

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *