বাণিজ্য যুদ্ধের আড়ালে কি করোনার জন্ম?

পৃথিবীতে তিন ধরনের তত্ত্ব রয়েছে, একটা মীমাংসিত, অন্যটা অমীমাংসিত। এই দুই তত্ত্বের মাঝে যে তত্ত্বের বাস তাঁর নাম ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বা ইংরাজিতে ‘দ্য কন্সপিরেসি থিয়োরি’- এটাই তৃতীয় প্রকারটি। রাষ্ট্র বা ক্ষমতা- সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রচারমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের মগজধোলাই করে যেটা বলে দেয়, প্রায় প্রত্যেকেই সেটাকেই ধ্রুবসত্য হিসাবে মেনে নেয়। কিন্তু কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা যুক্তি ও তর্কের মাঝে তথ্য বিশ্লেষণ করে, যেকোনো তত্ত্বের একটা বিপ্রতীপ কিন্তু সমীচীন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে। রাষ্ট্র বা ক্ষমতাসীনেরা একেই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে। বহুক্ষেত্রেই দেখা গেছে, কোনো ঘটনার বহু বছর- এমনকি কয়েক দশক বা শতাব্দী পরও এই ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের ব্যাখ্যা হুবহু মিলে গেছে।

করোনা নিয়েও এমন বহু কন্সপিরেসি থিয়োরি বাজারে চালু হয়েছে, তারমধ্যে বিভিন্ন তথ্য ঘ্যেটে যেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হল তেমনই তিনটে ঘটনার বর্ণনা করব। দুটো বর্তমান চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের নেপথ্য কথন, তৃতীয়টা দু’দশক আগের গল্প।

প্রথম দুটো তত্ত্বে বহু তথ্য রয়েছে, যেগুলো ছাড়া আলোচনা অর্থহীন তাই খুব সংক্ষেপে বর্ণনা করলাম।

প্রথম ঘটনা

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সহ মিডিয়া ব্যবসার ‘বিশ্ব বানিজ্যের’ অধিকাংশই মার্কিন ব্যবসাদারেদের দখলে ছিল। আগামীতে ব্যাঙ্কিং, যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ক্ষেত্রে 5G প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে আমরা সকলেই কমবেশি ওয়াকিবহাল। এমতাবস্থায় চীন এই প্রযুক্তি বাজারে দ্রুত ঢুকে এসে জাঁকিয়ে বসেছে, বিশেষ করে Huawei ও ZTE গোটা বিশ্বব্যাপী দ্রুতগতির 5G ইন্টারনেট সরঞ্জাম বিক্রিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ‘হুয়াওয়ে’ কোম্পানী- কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, ভারত, পাকিস্তান, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর সহ মোট ১৭০টি দেশে একচ্ছত্র ভাবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। শিপিং নেভিগশনে তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির খরিদ্দার বিশ্বের ৯৫% শিপিং এজেন্সি। মজার কথা হল- ওই ১৭০টি দেশের তালিকাতে খোদ আমেরিকাও রয়েছে।

সমস্যা বাঁধে, ‘হুয়াওয়ে’ যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পরোয়া না করে ইরানকেও 5G প্রুক্তি বিক্রিতে চুক্তি সম্পাদনা করে। প্রতিহিংসা বসত, প্রথমে হুয়াওয়ের কর্মকর্তার মেয়েকে কানাডায় গ্রেফতার করা হয় CIA এর মদতে, ২০১৮ এর ডিসেম্বরে। পাল্টা হিসাবে চীনও কয়েকজন কানাডিয়ান দূতকে পাল্টা জাতীয় নিরপত্তা বিঘ্নতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। এমনই বিভিন্ন নাটকীয় পরিস্থিতির পর উভয় দেশই সকলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়, যাতে ভীষণ চটে যায় আমেরিকা।

হবেনা টাই বা কেন, হুয়াওয়ে এর নিজস্ব ওয়াবসাইটেই দেওয়া আছে- ২০১৮ সালের তাদের মোট পণ্য বিক্রয় ছিল ৭২১.২০ বিলিয়ন ইউয়ান, যা আমাদের ভারতীয় মুদ্রাতে সাত লক্ষ বাহাত্তর হাজার কোটি টাকা। যা আমাদের ‘গর্ভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার’ ২০১৮-১৯ সালের মোট বাজেটের একচতুর্থাংশেরও বেশি(১)। ২০১৮ সালে হুয়াওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধির হার ছিল ১৮ %, লভ্যাংশ বেড়েছিল ২৫%। ২০১৯ সালে এই বৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১৮% ও ১৪%। এই বাজারকে নষ্ট করার বা দখল করার চেষ্টা আমেরিকার মত দেশ যে করবে তা বলাই বাহুল্য।

যথারীতি তীব্র ক্রোধে এই হুয়াওয়েকে গোটা বিশ্বে নিষিদ্ধ করতে এক প্রকার হুইপ জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু সস্তার যন্ত্রাংশ ও উন্নত পরিষেবার কারনে, ব্রাজিলের মত এক আধটা দেশ ছাড়া কেউই তাতে পাত্তা না দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে। এমনকি খোদ মার্কিনিদের কাছেও হুয়াওয়ের কোনো বিকল্প ছিলনা, এই এপ্রিল ২০২০ তেও নেই(২)। ইউরোপিয়ান কোম্পানী নোকিয়া ও এরিকশন এই 5G প্রযুক্তির সরঞ্জাম বেচলেও তা হুয়াওয়ে তো দূরস্থান, চীনের আরেক প্রযুক্তি দানব- ZTE এর সমমানেরও নয়।

এদিকে ট্রামের নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্য দেশগুলোই যে মানেনি তা নয়, আমেরিকার ৫০টা প্রদেশের ৩৮টা প্রদেশই সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনে- হুয়াওয়ের সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। মরিয়া মার্কিন প্রশাসন তখন- হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ এনে আমেরিকাতে হুয়াওকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেয়। ইন্টারনেট প্রোটোকল থেকে নকল পণ্য সরবরাহের দোহায় দিয়ে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে কোর্ট থেকে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করে।

২০১৫ সালেও আমেরিকা একবার এই চুরির অভিযোগ তুলেছিল চীনা কোম্পানী গুলোর বিরুদ্ধে, এবং আশ্চর্যজনক ভাবে চীনা রাষ্ট্রপ্রধান- সিনপিং এর তরফে বিবৃতি ছিল “আগামীতে আর চুরি করবেনা”, পক্ষান্তরে চুরি স্বীকারই করে নিয়েছিল। এরপর চীন খুলমখুল্লা আইন করে তাদের দেশজ প্রযুক্তি কোম্পানীগুলোকে নির্দেশ দেয় যে, তাদের ব্যবসা, খরিদ্দার সহ সকল ধরনের যাবতীয় তথ্য চীনের সরকারের কাছে তারা দিতে বাধ্য।

প্রসঙ্গত, হুয়াওয়ে যদিও চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়, তবুও তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে প্রতিটি কোম্পানিকে তারা সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিয়ে থাকে। বিগত দশকে এই হুয়াওকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, সাড়ে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছে ঋণ ও অনুদান বাবদ দিয়েছিল; পাশাপাশি ২০১৮ সালের আগে হুয়াওয়ে এর গোটা ব্যবসাটাই ছিল করমুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই হুয়াওয়ে- শুধু ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষেই কয়েকলক্ষ কোটি টাকা গবেষণা খাতে লগ্নি করতে পেরেছে।

যাই হোক, আমেরিকার নিষিদ্ধকরনের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ চীনও তাদের দেশে গুগুল, এ্যপল ও ফেসবুককে ব্যান করে দেয় রাতারাতি, এমনকি তাদের মোবাইল হ্যান্ডসেটে এন্ড্রেয়েড অপারেটিং সিস্টেম লাগানোও বন্ধ করে দেয়, সাথে সাথেই হুবহু এন্ড্রোয়েডের কার্বন কপি বাজারে নিয়ে চলে আসে। গুগুল থেকে শুরু করে মার্কিন কোম্পানিগুলি এর ফলে বিপুল পরিমাণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এছাড়া ভিসন ২০৩০- আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ইন্টারনেট অফ থিংস এর ক্ষেত্রেও একই কাহিনীতে আমেরিকা সম্পূর্ন ভাবে পর্যদুস্ত হয়ে পরে চীনের কাছে। হাস্যকর বিষয় হল- মার্কিনিদের পরম মিত্র ব্রিটেনও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে উড়িয়ে দিয়ে চীনের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক দৃঢ় করে চলেছে দিনদিন।

দ্বিতীয় ঘটনা

উচ্চাশার কোনো সীমা হয়না, ক্ষমতার লোভেরও সীমা নেই। উল্টো দিক থেকে ভাবলে স্বপ্ন না দেখলে কীভাবে এগোবে আগামীতে? তাদের মুল লক্ষ্য হল ব্যবসা, আর তাতে উন্নত পরিষেবা দিতে গেলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা জরুরী, আর এই প্রকল্পেই কাজ শুরু করেছে চীন।

BRI প্রকল্পের নাম শুনেছেন কি! যার পুরো নাম হচ্ছে “বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ”। এ এক মহাপ্রকল্প যাকে এই একবিংশ শতাব্দীর ‘রেশম পথ’ নামে অবিহিত করা হচ্ছে। আফ্রিকা, পূর্ব থেকে পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, ভারত মহাসাগর, পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সামুদ্রিক অঞ্চলকে সংযুক্ত করবে ৪০০০ কিমি ব্যাপী এই দানবীয়-যোগাযোগ প্রকল্প। এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ২০১৪ সালে যা তাদের প্রেসিডেন্ট সিনপিং এর মস্তিষ্কপ্রসুত, ৭০টি দেশকে এক সড়কে মেলানোর প্রচেষ্টা- যার দ্বারা পৃথিবীর ৬০% জনসংখ্যাকে ছুঁয়ে যাওয়া যাবে। এটা পৃথিবীর ৪৫% ‘গ্লোবাল গ্রোথ’ এলাকা জুড়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা করে পরিকাঠামো নির্মাণের দরুন সমগ্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে রেল, সড়ক ও নৌপথে।

নক্সা মোতাবেক, পশ্চিম চীন থেকে কাজাখস্তান হয়ে পশ্চিম রাশিয়ার দিকে একটা পথে চলে যাবে। যাতে চীনের জিনজিয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, কাজাখস্তান, রাশিয়া, বেলারুশ, পোল্যান্ড এবং জার্মানি হয়ে নেদারল্যাণ্ড যুক্ত হয়ে যাবে। দ্বিতীয় পথটি, চীন – মঙ্গোলিয়া – রাশিয়া করিডোর, যা উত্তর চীন থেকে রাশিয়ান পূর্বদিকের শহর গুলোকে ছুঁয়ে যাবে। তৃতীয়টি, চীন – আফগানিস্থান – ইরাণ- তুরস্ক- বুলগেরিয়া- সার্বিয়া- স্লোভেনিয়া- সুইজারল্যাণ্ড- ইতালি- ফ্রান্স হয়ে স্পেনে ঢুকে যাবে। এই তিনটে মূল করিডরের মাঝ অসংখ্য কানেক্টিং রোডেরও প্রস্তাবনা আছে বিভিন্ন দেশ দিয়ে। ইরান থেকে চতুর্থ পথটি সোজা ওমান- ইয়েমেন হয়ে আফ্রিকার মূল ভূখন্ডে যুক্ত হবে। এছাড়া বাংলাদেশ- থাইল্যান্ড, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া- ফিলিপিন্স সহ পূর্ব এশিয়ার সমকটি দেশই এই প্রকল্পের অধীনে যুক্ত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে চীন প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার লগ্নি করে ফেলেছে, মোট বাজেট ১০ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার। ইতিমধ্যেই চীনের এই বিপুল পুঁজির কাছে ১৩৮টি দেশ ও ৩০ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা মাজা নুইয়ে দিয়েছে; তারা একজোট করে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে চীনা ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানী গুলো একচেটিয়া এই কাজ শুরু করে দিয়েছে।

পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির মধ্যে বন্দর, রেলপথ, মহাসড়ক, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিমান ও টেলিযোগাযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর এইখানেই হচ্ছে আমেরিকার কাছে চ্যালেঞ্জ, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে পশ্চিমা সাম্প্রাজ্যবাদ- চীনের বাণিজ্যিক কূটনীতির কাছে এক্কেবারে ধরাশায়ী হবার আশঙ্কা রয়েছে। আমেরিকা প্রাসঙ্গিকতা হারাবে অনেকটাই, কারন ইতিমধ্যেই মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্থান সহ বিশ্বের অন্তত ৪৭ টা দেশের বিভিন্ন বন্দর ৯৯ বছরের লিজে অধিগ্রহণ শুরু করেছে চীন সরকার, যা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে বিশাল হুমকি। রাশিয়া ও চীন মিলে যৌথ তহবিল বানিয়েছে, এছাড়া লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও জামাইকাও এই প্রকল্পে সামিল হয়েছে। খোদ ব্রিটেন পর্যন্ত এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে ইংল্যান্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে চীনা ছাত্রদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে বরিস জনসন।

আমেরিকার রাশ হালকা হওয়া শুরু হয়েছে G7 গোষ্ঠীর দেশ হিসাবে সর্ব প্রথম ইতালির অন্তর্ভুক্তিকরন, গোটা ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন সহ CIA প্রকাশ্যে চীন-ইতালি বাণিজ্য চিক্তির বিরোধীতা করেছে, বিষয়টা এখানেই থেমে নেই- বর্তমানে সৌদি আরব সহ ইজরায়েলও এই প্রকল্পের অংশীদার হয়ে গেছে।

কোণঠাসা আমেরিকা এই প্রকল্প শুরুর পাঁচ বছর পর এসে প্রচার শুরু করছে, এটি মোটেও উন্নয়নের রোডম্যাপ নয়- এটা চীনা ঋণের ফাঁদ, যাতে ফেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে চীন। আরো প্রচার করছে যে এতে বায়োডাইভারসিটি নষ্ট হবার সম্ভাবনা বিপুল, ইত্যাদি। এখানেই না থেমে থেকে, আমেরিকা এদের পাল্টা প্রকল্প শুরু করেছে- “Free and Open Indo-Pacific strategy” (FOIP) নামে, যেখানে আমেরিকা ছাড়া- জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও আমাদের দেশ ভারতও রয়েছে। ভারতের জন্য চীনা মহা-প্রকল্পের সবচেয়ে বড় হুমকি হল পাকিস্তান-চীন করিডর, আর এটির জন্যই ভারত পরিষ্কার করে জবাব না দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে বেজিংকে।

সুতরাং, বিকল্পহীন প্রযুক্তি আর পরিকাঠামোর সুবিধা সহ বিপুল পুঁজি নিয়ে চীনের এই উত্থান আমেরিকার দাদাগিরিতে ইতি টেনে দিতে পারে। তাই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কোনো মজবুত প্রমান না থাকলেও, ঘটনাপ্রবাহের গতিপ্রকৃতি “করোনা-ভাইরাস- একটি মার্কিন-জায়োনিষ্ট ষড়যন্ত্র” তত্ত্বকে নাৎস ও করতে পারছেনা বিশেষজ্ঞরা। কারন এর আগে আমেরিকার প্রমাণিত সত্য দুনিয়ার সামনে আজ উন্মুক্ত।

তেতো সত্য তথা তৃতীয় ঘটনা

আমরা সকলেই জানি, আমেরিকার টুইন টাওয়ার হামলার (9/11) দায়ে জর্জ বুশ ইরাক আক্রমণ করে ও কয়েক হাজার মার্কিন সেনা সহ লাখ ছয়েক ইরাকীকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়ে দেশটিকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছিল। আশ্চর্যজনক ভাবে সেই সময় মার্কিন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি ‘Halliburton’ এর শেয়ারের দাম বেড়ে গেছিল প্রায় ৫০০ শতাংশ, ও তাদের মুনাফা বেড়েছিল ৬৮০ শতাংশ লিঙ্ক (৩) রইল। ‘হালিবার্টন’ এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিই আবার ইরাক পূনর্গঠনের বরাতও পেয়েছিল। বুঝতেই পারছেন, মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেলের একটা বৃহৎ অংশকে সরাসরি নিজেদের কুক্ষিগত করা হয়েছিল এই যুদ্ধের অজুহাতে।

এই ‘হালিবার্টন’ কোম্পানির সর্বেশ্বর কর্তার নাম জানেন? তিনি হলে ‘ডিক চেনী’। এনার অন্যতম বড় পরিচয় হচ্ছে- ইনি জর্জ বুশের আমলে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আজকের দিনে এসে আর কষ্ট করে অনুমান করতে হয়না ইরাক যুদ্ধের নেপথ্য কারন। এবং গোটা বিষয়টি পরিচালিত হয়েছিল- বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ধর্মীয় মৌলবাদী জাতি ‘ইহুদিদের’ দ্বারা। বুশের প্রশাসনে, বুশের বক্তিগত মুখ্য সহায়ক, হোয়াইট হাউসের চিপ অফ স্টাফ, ডিক চেনীর চিপ অফ স্টাপ, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডাইরেক্টর, ডিফেন্সের আন্ডার সেক্রেটারি ও তার ডেপুটি, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি, স্পিচ রাইটার, হোয়াইট হাউসের পলিটিক্যাল ডাইরেক্টর, সহ এক ঝাঁক ইহুদি। লিঙ্ক রইল(৪)। আমারিকান জনসংখ্যার শতকরা দেড় জন মাত্র একজন ইহুদী, কিন্তু মুল ক্ষমতার অলিন্দে? সিংহভাগ মূল ক্ষমতাতে তারা।

প্রসঙ্গত- ইহুদিদের ইরাকীদের প্রতি ঘৃণার কারন, ৫০০০ বছর পূর্বে কোনো এক ইরাকি শাসক তাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতা সম্পন্ন সিন্দুক ‘Ark of the Covenant’ লুন্ঠন করে নিয়ে গিয়েছিল, তার পর থেকে ইহুদিদের নাকি দুর্ভোগের শুরু, তাদের ধর্ম বিশ্বাস মোতাবেক। ওই ‘Ark of the Covenant’ কে খোঁজার জন্য ইরাকে তারা আমেরিকার ঘোমটার আড়ালে যুদ্ধ বাঁধিয়েছিল। ওই Ark of the Covenant খুঁজে পেলেই গোটা পৃথিবী ইহুদিদের শাসনে চলে আসবে এটাই তাদের ধর্ম বিশ্বাস। আপনি ভাবেনঃ হিন্দু-মুসমানেরাই সাম্প্রদায়িক জাতি।

সুতরাং, কে বলতে পারে, করোনা রহস্যের নেপথ্যে এমনই কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা। কারন খুব পরিষ্কার, প্রথমত সেই দেশকে সমূলে ধ্বংস করে দাও যাদের সাথে ব্যবসা যুদ্ধে পারা যাচ্ছেনা, আর সেই দেশগুলোকেও চরমতম সাজা দাও- যারা মার্কিন প্রভুদের আদেশ অমান্য করে হুয়াওয়ের সাথে বা চীনের BRI প্রজোক্টে যুক্ত হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এটা যে আমেরিকা করতেও পারে সেটা হোলিবার্টনের উদাহরনেই পরিষ্কার। খালি চোখে কারো সর্বনাশের আড়ালে ঘটে চলে পুঁজিবাদ, ব্যবসায়িক প্রতিপত্তি ও ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তারের নিকৃষ্ট খেলা।

আর সবচেয়ে হিংস্র ও নৃশংস তথ্যটা হল- ‘বায়ো-উইপন’ বা জৈব-অস্ত্র নিরোধ কনভেনশনে ১৮৩ টি দেশ পক্ষে স্বাক্ষর করেছিল, যে তারা এই সংক্রান্ত গবেষণা করবেনা। চাদ, জিবুতি, কমোরস, নামিবিয়া, ইরিত্রিয়া, কিরিবাতির মত অজানা কয়েকটি ‘শক্তিহীন’ দেশের সাথে আরো একটা দেশ এই বিরতি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেনি(6)

যে দেশটা প্রতিটি বিশ্বযুদ্ধে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছিল, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে নিজেদের ধর্মীয় জাতির জন্য পৃথক দেশের প্রতিশ্রুতি হাসিল করেছিল; আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সেই প্রস্তাবিত দেশটির মালিকানা পেয়েছিল ‘ইহুদিরা’। এখন এরা চায় পৃথিবীর ‘বাপ হতে’, যার জন্য প্রয়োজন আরেকটা বিশ্বযুদ্ধ। চীন ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিলনা কখনই, আগামীতেও থাকার সম্ভাবনা শূন্য, কারন ইহুদি মানেই ৫ হাজার বছর আগের ধর্ম বিশ্বাসকে বাস্তবায়ন, আর চীন ধর্ম ছাড়া বাকি সবেতেই থাকে। তাই ইহুদিরা, পরাক্রমী চীনের সাথে সরাসরি যুদ্ধংদেহী মনোভাব না দেখিয়ে ‘মোসাদ’কে দিয়ে গোপনে কোনো ঘৃন্য চাল চালতেই পারে; তাই করোনা-প্যান্ডেমিক মোটেই কোনো প্রাকৃতিক বিষয় নয়। এটা একটা সুপরিকল্পিত নৃসংসতা, বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকা তৈরি জন্য এই লকডাউনে ভেঙেপড়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এক্কেবারেই আদর্শ।

দেশটির নাম ইজরায়েল। এরাই জৈব-অস্ত্র বিরোধী কনভেনসনে বিপক্ষে ছিল। আমেরিকা আর চীন নামের দুই বেড়ালের ঝগড়ার মাঝে, ইজরায়েল নামক নেপোয় দই মেরে দিচ্ছে হয়ত। এই ইহুদিরাই মানে রথচাইল্ড ফ্যামিলি(৫)– ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়ন ও ইংল্যান্ড দুপক্ষকেই ঋণ দিয়েছিল অস্ত্র খরিদের জন্য, যেই জিতুক লাভ শুধুই ইহুদিদের, যারা আজ ইজরায়েল নামক দেশ গঠন করে বিশ্বপিতা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। নেটে ঘ্যেটে তথ্য দেখে ফ্যাক্ট চেক করার দায় আপনার, আমি শুধু সত্যানুসন্ধান করে সম্ভাবনার কথা উস্কে দিলাম।

আরো দু দশক পর হয়ত এই আশঙ্কার সত্য-সত্যতা প্রকাশ পাবে, ততদিন আমরা মরে বেঁচে থাকি।

  1. https://www.huawei.com/en/press-events/news/2019/3/huawei-2018-annual-report
  2. https://thehill.com/policy/cybersecurity/486014-lawmakers-look-for-5g-competitors-to-huawei
  3. https://www.irishtimes.com/business/iraq-war-turns-handsome-profit-for-halliburton-1.1147372
  4. https://www.jewishvirtuallibrary.org/jews-in-the-george-w-bush-administration
  5. https://www.businessinsider.com/the-rothschild-gang-shadow-conspiracy-or-rumor-2011-6?IR=T
  6. https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_parties_to_the_Biological_Weapons_Convention

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *