তোমার মাঝে বসত করে কয়জনা IV: বিল গেটস

#তিন_ঘন্টায়_টিকা_আবিষ্কার

তৃতীয় পর্বের লিঙ্কঃ https://m.facebook.com/photo.php?fbid=10207177114462024&id=1707681415&set=a.1683717148597

মনে করুন, মাঝরাত্রে আপনার পেটে ভীষণ ব্যাথা, যন্ত্রণায় আছার-কাছার করছেন; আশেপাশে ডাক্তারও নেই। এমন সময় বাড়ির সামনের গ্যারেজ মালিক ত্রাতা হিসাবে উপস্থিত হলেন, না তিনি তার গাড়ি নিয়ে আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য আসেননি- তার গ্যারেজ ব্যবসার বুদ্ধিতে আবিষ্কৃত ওষুধ সে আপনাকে খাওয়াবে বলে এসেছে।

কি, গাঁজাখুরি বলে মনে হল তাইনা? হওয়ারই কথা, আমি গরীব ভেতো বাঙালী, তাই অজ পাড়াগাঁয়ে বাস- আমার বা আমাদের মতন লোকেদের কথা ফেলে দেওয়াটাই দস্তুর। কিন্তু ওই গ্যারেজওয়ালাটা যদি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষটি হন, আর আপনার আমার স্থানে একটা দেশ বা গোটা মহাদেশ বা ধরুন গোটা পৃথিবী রোগাক্রান্ত হয়?

আপনি আবার প্রমান ছাড়া মানবেননা, তথ্য-যুক্তি সবকিছু আচ্ছন্ন করে ফেললেও- পবিত্র যে বিশ্বাস সেখানে পৌছানো খুবই শক্ত, তাই তো আমাদের মাঝেই ভক্ত জন্মায়। ভ্যানতারা না বলে সোজা কাজের কথায় আসি-

ঘটনা পরম্পরাঃ করোনা ভাইরাস উৎপত্তি হল চীনে, মানুষ মরছে বেশি আমেরিকা ইউরোপে, বিজ্ঞানীরা দিশাহারা, ওষুধ কোম্পানি গুলো মাথার চুল ছিঁড়ছে- এমতাবস্থায় সর্বপ্রথম “করোনা-ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকা রয়েছ আমাদের কাছে” বলে দাবী কে করেছিল সেটা কি জানেন? আসলে সমবেত কন্ঠস্বরও পুঁজির কাছে অসহায়, সত্যকে ‘বিশ্বাসের’ বুদ্বুদে ঢেকে- প্রহেলিকাময় করে দিয়েছে।

কথা হচ্ছে বিশ্বের ধনীতম ব্যাক্তি, বিল গেটস এর বিষয়ে। তিনি বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তথা বিজ্ঞানী, চূড়ান্ত সফল ব্যবসাদার, সমাজসেবী ইত্যাদি। মুশকিল হল এই ‘ইত্যাদি’তেই, তিনি ডাক্তার নন, তার হাসপাতালের ব্যবসা নেই, তিনি জীববিদ্যার ছাত্রও ছিলেননা, তার ওষুধ কোম্পানীও নেই। তিনি কম্পিউটার তৈরি করেন, তার হরেক যন্ত্রাংশ বেচেন। এহেন তিনি সবকিছু ছেড়ে তিনি বেশ কয়েকবছর ভ্যাক্সিনের পিছনে আঠার রয়ে রয়েছেন। তাদের কি আছে? তাদের আছে টাকা, বিপুল পুঁজি- যা আমি আপনার কল্পনার অতীত; আর এই পুঁজি নিয়ে তারা ‘স্বামী-স্ত্রী’ সমবেতভাবে একটা দাতব্যসংস্থার মাধ্যমে ‘সমাজসেবা(!)’ করে চলেছেন।

করোনা ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পিছনেও তারা আড়াই হাজার কোটি টাকার উপর লগ্নি তথা দান করেছে, এটা প্রকাশিত- অপ্রকাশিত কত রয়েছে তা কে জানে! আপনি বলবেন, টুইটারের কর্নধার জ্যাক ডরসি, উইপ্রোর আজিম প্রেমজি, সোরের ফান্ডের জর্জ সোরেস, ফোর্টেক্সি মেটালসের এন্ড্রু ফরেস্ট, স্কল ফাউন্ডেশনের জেফ স্কল, আমাজনের জেফ  বোজেস, ডেলের মাইকেল ডেল সহ পৃথিবী প্রথমশ্রেনীর সকল ব্যবসাদারই তো করোনা গবেষণা খাতে টাকা দান করেছে, বিল গেটসের ক্ষেত্রে প্রশ্ন কেন? কারন বাকিরা কেউ ভ্যাকসিন বিলোয়না।

ভ্যাকসিন নিয়ে বিল গেটসের মোহ এক বিচিত্র পর্যায়ের, বহু ভ্যাক্সিনের প্যাটেন্ট নিয়ে বসে আছেন চিকিৎসা বিদ্যার মানুষ না হয়েও। না, তবে সরাসরি নিজেদের নামে কোনো পেটেন্ট এদের নেই, কিন্তু এমন পেটেন্ট যাদের রয়েছে সবই গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থে পুষ্ট। যেমন, ইংল্যান্ডের The Pirbright Institute নামের একটা বায়োলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার; এদের কাছে বেশ কিছু করোনা ভাইরাসের পেটেন্ট রয়েছে, যদিও The Pirbright Institute দাবী করেছে তাদের কাছে নোভেল করোনা ভাইরাসের স্টেইনের পেটেন্ট নেই। প্রসঙ্গত, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি যে করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করছে ও বানিজ্যিক ভাবে টিকা উৎপাদনের জন্য প্রায় প্রস্তুত- তাদের সবচেয়ে মুখ্য সদস্য এই The Pirbright Institute।

এই দাবী আমার নয়, “Humans Are Free” নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে- বিশাল এক আর্টিকেলে, তথ্য ও তত্ত্ব দিয়ে এই বিষয়টা লিখেছে যে- নোভেল করোনা ভাইরাস বিল গেটসের আর্থিক সহায়তায় এই The Pirbright Institute রয়াসনাগারে তৈরি করেছে। সন্দেহের কারন হল, The Pirbright Institute সামান্য একটা প্রেসবিজ্ঞপ্তি করে Humans Are Free এর এই দাবীকে শুধুই নাৎস করে দিয়েই সমাপ্তি দিয়েছে। কোনো মামলা মোকদ্দমা কিছুই করেনি বিগত ৩ মাস কালে, না The Pirbright Institute এর তরফে, না Bill and Melinda Gates Foundation এর তরফে।

বর্তমানে, আমেরিকা তো বটেই, দক্ষিণ কোরিয়া সব বিশ্বের বহু দেশে দুরদুরিয়ে ‘Human Trial’ চলছে যে DNA ভ্যাকসিনটি- তার নাম INO-4800, এটা ডেভলপ করেছে যে মার্কিন কোম্পানী তার নাম Inovio Pharmaceuticals, প্রসঙ্গত এরাই সর্বপ্রথম ফার্মা কোম্পানি, যারা মার্কিন FDA দ্বারা ছাড়পত্র পেয়েছিল মানবশরীরে প্রয়োগের ক্ষেত্রে- সেই মার্চের শেষ সপ্তাহে। অথচ পশুর শরীরে সাফল্যের সাথে উৎরে গিয়েছে এমন অনেক ফার্মা কোম্পানিই এই ছাড়পত্রের জন্য হত্যে দিয়ে পরে রয়েছে, শিকে ছেড়েনি। দৃশ্যত ইনোভিও অতি ক্ষুদ্র একটা ফার্মা কোম্পানি। এখানেই মূল পালা গানটা লুকিয়ে রয়েছে, এই ইনোভিওর ইনভেস্টর(১) হচ্ছে ‘Bill and Melinda Gates Foundation’।

FDA এর যুক্তি ছিল ‘Bill and Melinda Gates Foundation’ এর সাহায্য প্রাপ্ত সংস্থাগুলো ২০০৩ সাল থেকে শ্বাস সম্বন্ধীয় SARS বা MARS জাতীয় রোগের বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা করছে, তাই তাদের করোনা ভাইরাসের হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাকিদের কোন গ্রাউন্ডে ঝুলিয়ে রখেছে সে বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

এপ্রিলের ৩০ তারিখে তো এই ইনোভিও কোম্পানি- জার্মানির Richter-Helm BioLogics কোম্পানির সাথে মিলে বিপুল আকারে ভ্যাকসিনের বানিজ্যিক উৎপাদনের ঘোষণা করে দিয়েছে। অবশ্যই আনন্দে ফেটে পরার মতই ঘটানা, তাইনা!

তাহলে এই লিঙ্কে গিয়ে ইনোভিওর দাবিটা(২) দেখে আসুন। ১০ই জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে চীন প্রথম প্রকাশ করে SARS-CoV2/Covid-19 ভাইরাসের কথা, ইনোভিও বলছে তারা নাকি মাত্র ৩ ঘন্টার মধ্যে ঐ দিনই করোনার ভ্যাক্সিন ডিজাইন করে ফেলেছিল, যেটা অজানা এই নোভেল করোনার DNA এর সাথে হুববু মিলে গেছে কাকতালীয়ভাবে। পিসি সরকারের ম্যাজিক এই আবিষ্কারের কাছে দুগ্ধপোষ্য শিশু। শুধু তাই নয়, এই ইনোভিও কোম্পানি মার্কিন কংগ্রেস থেকে ৭০ কোটির অনুদানও লাভ করে রাতারাতি।

ইনোভিও ৩ ঘন্টায় ‘ভ্যাক্সিন’ রেডি দাবী করলে- ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ভীষণ ভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে সেই প্রচারনা মূলধারার সংবাদ পত্র থেকে কর্পুরের মত উবে যায়। কয়েকজন ত্যাদোর নাছোড়বান্দা ওই “৩ ঘন্টার মিরাকেল” দ্রুত ব্যবহার করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানায়– সেটা আগষ্টের আগে সম্ভব নয়। প্রশ্ন উঠা কি সঙ্গত নয় যে, বিনা টেস্টিং, বিনা জিন কোডিং, বহু কিছু ছাড়াই কিকরে মাত্র ৩ ঘন্টায় ভ্যাক্সিন তৈরি করতে পারে? মার্কিন সরকারই বা কেন শুধুই এদেরই অনুমতি দেয়? উত্তর দেবার কেউ নেই, তাই  প্রশ্নেরা বোবা হয়েই রয়ে যায়।

গোটা পৃথিবীর অর্থব্যবস্থা না ধসা পর্যন্ত, যতক্ষননা গোটা পৃথিবীতে কোনায় কোনায় না ছড়িয়ে পড়ছে রোগটি, কয়েক কোটি গরীব ও বুড়ো হাবড়া না মরছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটা বাজারে ছাড়া যাবেনা- এটাই তো মোদ্দা কথা দাঁড়ায়। সম্ভবত পুঁজিবাদের ল্যাবটারিতে তৈরি একটা পুঁজের নাম নোভেল করোনা ভাইরাস- এমনটা হওয়া কি খুব আশ্চর্যের?

প্রাকৃতিকভাবেই করোনা ছড়িয়েছে- এই পবিত্র বিশ্বাসে যারা স্থির রয়েছেন তাদের জন্য একবালতি করুনা রইল। সারা পৃথিবী রিসার্চ করে যা করতে পারছেনা, কেউ মাত্র ৩ ঘন্টাতেই সেটা করে দিয়েও নিশ্চুপ এই ‘মে,২০২০’ এর দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। খদ্দের বাড়ার অপেক্ষা করছে নাকি আরো অনেক বড় কোনো ষড়যন্ত্র রচিত রয়েছে এর পিছনে- কে জানে কি এর জবাব। ইনোভিওর ওয়েবসাইটে দেখে আসুন- ‘৩ ঘন্টার মিরাকেল’ জ্বলজ্বল করছে। ৩ ঘন্টায় অদৌ কীভাবে ভ্যাক্সিন তৈরি হতে পারে সেটা নিশ্চই যা জীববিদ্যার ছাত্র তারা বিশ্লেষণ করবে।

নাহ, এই দাবিও আমি করছিনা- প্রশ্ন তুলেছেন একজন মার্কিনি এটর্নি, নাম- রবার্ট ফ্রান্সিস কেনেডি জুনিয়র। ইনি কোনো এলি তেলি কেউ নন, সাবেন ফেডারাল এটর্নি জেনারেলের পুত্র ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডির ভাইপো। তার ভাষ্য মতে(৩), বিল গেটস গোটা পৃথিবীর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, গোটা পৃথিবীতে ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে তার ঘৃন্য ভূমিকা রয়েছে। দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে গেটস ফাউন্ডেশনের ভ্যাকসিনের প্রভাবে পোলিও, মার্স, ইয়োলো ফিভারের মত রোগ ছড়িয়ে পরেছে, যেগুলো একসময় নির্মুল হয়ে গেছিল। এছাড়া নিত্যনতুন ভাইরাসের প্রকোপ লেগেই আছে, যার কৃতিত্ব এই Bill and Melinda Gates Foundation এর; আর এই পরিকল্পনা এরা WHO কে সাথে করেই করছে, কারন হু এর অনুদানের অনেকটা অংশ গেটস ফাউন্ডেশন থেকে আসে।

আপনি গেটস ফাউন্ডেশনের(৪) সাইটে চলে যান, সেখানেই পাবেন MICROCHIPS BIOTECH(৫) এর উল্লেখ। এরা ভ্যাকসিনেশনের সময় লক্ষ লক্ষ রোগীর হাতের শিরায় একটা অতি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক চিপস ঢুকিয়ে দেয়, যার দ্বারা সেই মানুষগুলিকে এরা যন্ত্রের মত ২৪x৩৬৫ ঘন্টা পর্যবেক্ষনে রাখে চিকিৎসার নামে। Crypto mining system based sensors(৮) নামক প্রযুক্তির দ্বারা মানুষের শারীরবৃত্তীয় গতিবিধির সাথে সাথে সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক গতিবিধির উপরেও নজরদারি চালাচ্ছে। লিঙ্কের প্রবন্ধটা পড়ুন, বাকিটা নিজেই বুঝে যাবেন।

আসলে ব্যাক্তির ব্যাক্তিগত পরিসরের সকল কিছু গতিবিধিই এর দ্বারা মনিটর করা হচ্ছে। এদের একমাত্র লক্ষ্য মানব শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেমের উপরে জাহিরি করা। অস্কার বিজয়ী চিত্রপরিচালক নিকিতা মিখালকভ, Crypto mining system based sensors এর উপরে একটি পূর্ণদৈঘ্যের তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে গেটস ফাউন্ডেশনের ‘কুকর্ম’ কার্যকলাপ বিষয়ে খুলমখুল্লা যুক্তি ও তথ্য সামনে এনেছেন। প্রাক্তন বিখ্যাত টেনিস খেলোয়ার মারাট সাফিনের মত বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব নিকিতাকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু মূলধারার মিডিয়া চলে পুঁজিতে, আর এই পুঁজির তালিকায় বিলগেটসের উপরে আর কে আছে এই বিশ্বে? তাই সকলেই চুপ রয়েছে। এই MICROCHIPS BIOTECH এর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত কয়েকশো কোটি মানুষের শরীরে এই চিপ ইমপ্ল্যান্ট করে দেওয়া।

গোটা বিশ্বজুড়েই এই গেটস ফাউন্ডেশনের জাল বিছিয়েছে ২০১৪ সাল থেকে সমাজসেবার মোড়কে। ২০১৫ সালের শেষের দিকে, আমেরিকার সিয়াটেলে এক প্রযুক্তি সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে বিল গেটস নিজেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, “আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে আসন্ন মহামারী সম্পর্কে সতর্ক করেছি সকলকে, এটি আমাদের সভ্যতাটিকে দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেবে”। ইউটিউবে এটা আজও উপলব্ধ। বাকিটা নিজেই অনুমান করে নিন।

নিকিতা দেখিয়েছেন, গেটস তার কম্পিটারের ট্রোজান ভাইরাসের হ্যাক করার ক্ষমতা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবদেহের ভাইরাসে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল ২০০৪ সালে, একটি বক্তিতায় সেটাও বিল গেটস নিজেই সেটা জানিয়েছিল, যে ভিডিওটা পৃথিবীর সকল মাধ্যম থেকেই মুছে দেওয়া হয়েছে এর পর। নিকিতার মতে, আসন্ন করোনা ভাইরাসে টিকা আসলে বিশ্বদাসত্ব ব্যবস্থার, ইলেকট্রনিক্স বা তারচেয়েও কোনো উন্নত কোডিং সংস্করণ।

এ এক বেসরকারী বৃহত্তম ডেটাবেস যা দিয়ে বহুকিছুই করা সম্ভব- ভাল খারাপ উভয়ই। এদের কি উদ্দেশ্য, তা এরাই একমাত্র জানে। চিপ ইমপ্ল্যান্টের ভয়াবহতা বিষয়ে এই প্রতিবেদনটা পড়ে দেখতে পারেন, লিঙ্ক- (৬)। গেটস, এই ভ্যাকসিন সেক্টরে তার আগামীর ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্য সম্ভবত এখন লগ্নি করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে যা সুদে আসলে তুলে নেবে। এই করোনা প্যন্ডেমিকিই সেই ভবিষ্যৎ কিনা সময় জবাব দেবে।

ক্রিপ্টো কথাটার সাথেই চলে আসে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা। মানে ওই বিটকয়েন বা ঐ জাতীয় সাঙ্কেতিক মুদ্রা ব্যবস্থা। করোনা কি তাহলে আগামীর অর্থব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা? যেখানে ব্যাঙ্ক নেই, ক্রেডিট কার্ড নেই, একাউন্ট নাম্বার নেই, সবটাই একটাই পরিচয়- ওই Crypto mining system based sensors, সেখানেই ব্যাক্তির যাবতীয় তথ্য রয়েছে। এটা আমার ব্যাক্তিগত কল্পনা, সত্যটা আগামীর গর্ভে।

আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে সম্প্রতি এই গেটস ফাউন্ডেশন আমার ভারত সরকারের স্বাস্থ মন্ত্রকের অধীনে থাকা Public Health Foundation of India (PHFI) সংস্থার সাথে গাটছড়া বেঁধেছে। তার আগে অবশ্য তোষামোদ স্বরূপ, Bill and Melinda Gates Foundation আমাদের প্রধান সেবককে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন(৭)। এই গাঁটছড়া Immunisation Technical Support Unit (ITSU) নামের একটা কর্মসূচী চালাচ্ছে সেই ২০১৭ সাল থেকে।

গোটা বিশ্বজুড়ে করোনা আজ মহামারী, তাহলে কি এদের ‘করোনা প্যান্ডেমিক’ কাহিনী প্রিপ্ল্যানড! আলাদা আলাদা দেশের অর্থব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে একটা ছাতা ‘New World Order’ এর আওতায় সকলকে আনার জন্য কি এই নিখুঁত পরিকল্পনা? পুঁজিবাদ আর গুপ্ত সংগঠনগুলোর রমণ নতুন কিছু নয়, জায়োনিজমের অন্যতম লক্ষ পৃথিবীর জনসংখ্যা অর্ধেক করে দেওয়া। জায়োনিজম হল তারা- যারা ঘোষিত শয়তানের পূজারী। কে না জানে The number of beast বা শয়তানের নাম্বার হল- ৬৬৬; এটা নিউ টেস্টামেন্টে রয়েছে। আর ইনোভিওর ৩ ঘন্টায় তৈরি ভ্যাক্সিনের পেটেন্টের নামার কত? নিজেই নেটে সার্চ করে দেখে নিন। পাঠকের ভাবনা ও বিচারের উপরে বিশ্বাস রেখে, আগামীর জন্যই ‘সবটা’ মুলতুবি থাকুক নাহয়।

  1. https://www.businessinsider.in/science/news/a-potential-coronavirus-vaccine-funded-by-bill-gates-is-set-to-begin-testing-in-people-with-the-first-patient-expected-to-get-it-today/articleshow/75013340.cms

Tanmay Haque

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *