উম্পুনঃ খোজা সরকার

CyclonAmphan

saveBengal

উম্পুনে গোটা দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে স্টিম রোলার চলে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেই, খোদ কোলকাতাও চুড়ান্তভাবে আক্রান্ত। অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে গেলাম আমরা। প্রকৃতির রোষের কাছে আজও সভ্যতা অসহায়।

জাতীয় মিডিয়াগুলো চোখে নিরোধ লাগিয়ে বসে অন্য তর্জা করছে যারা মেটিয়াব্রুজের কোন দর্জির ছেলে খোলা ড্রেনে পায়খানা করলে বলে করোনা ছড়াচ্ছে, দাঙ্গার খবর গুলো দ্রুত কী সুন্দর চারদিকে ছড়িয়ে দিয়ে TRP কুড়ায়। আজ তাদের সামান্যতম কভারেজ নেই বাংলা নিয়ে। এরা নাকি আবার জাতীয় মিডিয়া! বাঙালি কি জাতির বাইরে?

কেন্দ্রীয় সরকারও হাতের কর গুনতে ব্যাস্ত, যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব। বাংলার প্রতি বিজেপি পরিচালিত সরকার এমনিতেই বাম হাতে কোনো মতে পূজোর ফুলটা ছুড়ে দেয়, এক্ষেত্রেও বৈমাত্রেয় মানসিকতা সেই একই।

এরা মানে মোদী-শাহ সত্যিই যে তৃতীয় কোনো শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয় তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে সাধারন মানুষের কাছে। খোজা সরকার যেন কোনো প্রভুর নির্দেশের প্রতীক্ষাতে রয়েছে। যেমন ঔপনিবেশিক কালে ব্রিটিশ প্রভুদের গোলাম হয়ে চলত এদেশের তাবড়-তাবড় রাজা মাহারাজারা।

এ কোন গণতন্ত্র? এ এক অদ্ভুত আঁধার। একদিকে মানুষ সর্বশ্রান্ত অন্যদিকে রাষ্ট্র মৌন বুদ্ধের মত কি আশ্চর্য নির্বিকার নিরুত্তাপ নির্লিপ্ত। এরাই ২ দিন পর কাঁদুনে মুখ নিয়ে সেই অদৃশ্য প্রভুর নির্দেশে মড়াকান্না কাঁদতে আসবে।

ছিঃ

করোনা ন্যাংটা করে দিয়েছিল সরকারকে, পরিযায়ী শ্রমিকেরা তাদের হিংস্রতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল, উম্পুন সাইক্লোন সরকারের নির্বীজতা দেখিয়ে দিল। এরা যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ভাড়াটে পোশাক পরা যাত্রাশিল্পী, যারা নাম ভুমিকায় অভিনয় করছে।

কুশিলব যে ই হোক-

দাবি উঠুক, অবিলম্বে “জাতীয় বিপর্যয়ের” আওতায় দ্রুত বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ দরকার, জনজীবনকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে। রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে মানুষের কাছে পৌছাক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কেন্দ্রের কাছে দরবার করুক রাজ্য প্রশাসন ও মানুষের ভোটে জেতা জনপ্রতিনিধিরা।

বিজেপিগসের ১৮টা নমুনার কাজ কি?
করোনার ক্রান্তিকালে তাদের একপিসকেও দেখেছেন মানুষের জন্য মানুষের পাশে দাঁড়াতে?
দাঙ্গা সংগঠিত করার বাইরে তারা কি করেছে?

এর সাথে আছে একটা কাঠিবাজ রাজ্যপাল, ঝালেঝোলে অম্বলে সবেতে থেকে শিরোনামে থাকাই যার মুখ্য উদ্দেশ্য। এনার পদের মুরোদটা এবার দেখার রয়েছে, ‘নূন্যতম’ কি করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরবতায় তিনি কিন্তু এখনও পর্যন্ত অপমানিত বোধ করেননি।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *