সূর্য হল এই পৃথিবীর জীবনী শক্তির অন্যতম একক, সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উত্তাপ বা শক্তি আমরা সূর্য থেকেই পেয়ে থাকি। সুর্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের পৃথিবী আবর্তিত হয়, ঋতুর পরিবর্তন ঘটে। ঝকঝকে মেঘমুক্ত আকাশের দিকে ভন্যি দুপুরে যদি চেয়ে দেখলে, দেখা যাবে দিগন্ত বিস্তৃত নীলিমার মধ্যে চিরায়ত ভাবে সূর্য আমাদের সমান ভাবে- সমান তেজে সম্বৎসর আলো প্রদান করে চলে।

আমাদের মত যারা সাধারণ মানুষ তাদের কাছে এটা সত্য হলেও, যারা কিনা জ্যোর্তিবিজ্ঞানী তাদের কাছে এ কথাটা সত্য নয় মোটেও; বরং চন্দ্রকলার মত সুর্যেরও হরেক কলা রয়েছে। সুর্যের বাইরের যে উতপ্ত পৃষ্ঠতল- তাকে বলা হয় করোনা, এই বাইরের স্তর তথা সৌর শরীর করনাতে ‘করোনাল হোল’ নামে একধরনের ক্ষত সৃষ্টি হয়; যা নাসার বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন ‘সোলার ডায়নামিক্স অবজারভেটরি’ নামের উপগ্রহের পাঠানো তথ্য মোতাবেক।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুর্যের পৃষ্ঠতলের উজ্জ্বল অংশগুলি মূলত উচ্চচাপে জমে থাকা ঘন গ্যাসীয় মেঘ, যেখানে উতপ্ত বিস্ফোরণ অতি সাধারণ ঘটনা, সুর্যের কেন্দ্রস্থল থেকে নির্গত হয়ে আসে ফুটন্ত লাভা, যা ক্রমাগত তাপ বিকিরন করতে থাকে। এই বিকিরনের মাঝে রঞ্জন রশ্মি থেকে অতিবেগুনী রশ্মি সবই রয়েছে। এই অঞ্চলগুলো একসময় অন্য অংশের তুলনাতে ঠান্ডা হয়ে যায় সুর্যের আপন নিয়মে, ইনফ্রারেড ক্যামেরাতে ওই অঞ্চলও গুলোকে তখন কালো ক্ষতের মত দেখায়, একেই ‘করোনাল হোল’ বা সৌর কলঙ্ক বলে। এই সৌর কলঙ্কগুলো সুর্যের বাকি অংশের তুলনায় ভিন্ন বৈশিষ্টের হয়ে থাকে, উত্তাপের তারতম্যের কারনে সৌর ঝড়ের সৃষ্টি হয়। কিন্তু সৌর কলঙ্ক অঞ্চলে তড়িৎ চুম্বকীয় প্রভাব ভীষণ ভাবে কমে যায়, যার প্রভাবে একলপ্তে বিপুল পরিমাণ- বিভিন্ন মাত্রার তরঙ্গকণা মহাকাশের বুকে ছড়িয়ে পরে ওই অঞ্চল থেকে।

এখন পৃথিবী পানের সৌর পৃষ্ঠতলে এমন সৌর কলঙ্কের সৃষ্টি হলে সেগুলো থেকে নির্গত হওয়া তরঙ্গ কণাগুলো অনেকসময় তা পৃথিবীপানে ধাবিত হয়; এটাই জীব জগতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হুঁশিয়ারি স্বরূপ- যদি সেই সৌর তরঙ্গের পরিমাণ অত্যাধিক বেশি হয়। সম্প্রতিকালে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের সৌর গবেষকেরা দাবি করেছেন, ‘দিনে দিনে শেষ দশকে সূর্যের তেজ ও উজ্জ্বলতা কমতে শুরু করেছে’। এর ফলে সূর্যের ক্রিয়াকলাপও দিনে দিনে হ্রাস পেতে শুরু করেছে, যা সাধারণ মানুষের দৃশ্যমানতার মাঝে না থাকলেও বিজ্ঞানীরা ঠিক ফারাক নিরুপন করে ফেলেছেন।

একেই বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন সোলার মিনিমাম বা ‘নূন্যতম সৌরীয়’ দশা। এটি সৌর চক্রের একটি নিয়মিত দশা, যার উল্টো দশার নাম হচ্ছে ‘পরম সৌরীয় দশা’ বা সোলার ম্যাক্সিমা। জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু শীর্ষক আলোচনায় এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপুর্ন অংশ হিসাবে বিবেচিত হওয়া শুরু হতেই- এটি জনসমাজে যথেষ্ট কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে, এবং সেই সুত্র ধরেই এই প্রতিবেদন সঙ্কলন।

সৌর ন্যূনতম হ’ল ‘সূর্যের হিসাবে’ ১১ বছরের ‘সৌর চক্রের’ সর্বনিম্ন সৌর ক্রিয়াকলাপ। ১৯৭৬ সাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সুর্যের এই কার্যকলাপ নিয়ে গবেষণা করছেন, ও নানান জটিল গণনার মাধ্যম দিয়ে বিগত ৫০০০ বছরের একটা গানিতিক চিত্র তুলে ধরেছেন- সুর্য কখন কেমন ছিল। সেই মোতাবেক দেখা গেছে- পৃথিবীর হিসাবে ৪০০ বছর অন্তর অন্তর বড় ধরনের সৌর কলঙ্কের সৃষ্টি হয়। বর্তমান সৌরচক্রের আগেরটি শুরু হইয়েছিল ১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে, এটি ক্রমে তার সর্বচ্চ সীমায় পৌঁছে ছিল ২০০০-২০০১ সাল নাগাদ, আগেই উল্লেখ করেছি একে পরম সৌরীয় দশা বলায় হয়। এক্ষেত্রে পরম দশা ও নূন্যতম দশা দুই ক্ষেত্রেই তেমন বড় আকারের কিছু পরিবর্তন ঘটেনি সূর্যের পৃষ্ঠতলে।

বর্তমান দশাটি শুরু হয়েছে ২০০৯ সাল নাগাদ, বিজ্ঞানীরা যার নাম দিয়েছে সৌরচক্র-২৪। যার পরম দশা অতিক্রম করে এসে এই ২০২০ সালে নূন্যতম দশা শুরু হয়েছে, যা সর্বচ্চো সীমায় পৌঁছাবে ২০২৫ সাল নাগাদ। এটি কমপক্ষে ১৩ বছর যাবৎ স্থায়ী বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন। দুরবীক্ষন যন্ত্রের দ্বারা প্রাপ্ত চিত্র বিশ্লেষণ করে, এই ২৪ তম সৌরীয় দশাটিকেই ওই ৪০০ বছরের অন্তরের ‘মহা নিম্ন দশা’ হিসাবে অনুমান করছেন বিশ্বের সংখ্যাগুরু জ্যোর্তিবিজ্ঞানী।

‘নূন্যতম সৌরীয়’ দশার অর্থ এই নয় যে সূর্য তার শক্তি খোয়াচ্ছে, বরং এটা সূর্যের একটা আভ্যন্তরীণ বিন্যাস পদ্ধতি, আমাদের পৃথিবীর ঋতুর মতই যা পরিবর্তনশীল নিয়মিত অন্তরে। ২০২০ সালে যে সৌর কলঙ্ক গুলি দৃশ্যমান হয়েছে ও যার জন্য বিষয়টা চর্চায় এসেছে তার কারন এই কলঙ্কের চিত্রের আয়তনটা যথেষ্ট বড় মাপের। এক্ষেত্রে কোটি কোটি টন বিদ্যুতায়িত গ্যাসীয়-চৌম্বকীয় আণবিক তরঙ্গ তথা সৌরীয় কণা এক লহমায়, বেশ কিছু দিন ধরে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়বে। প্রসঙ্গত সুর্যের হিসাবে ওই বেশ কিছু দিন আমাদের পৃথিবীর হিসাবে বেশ কিছু বছরের সমষ্টি, আর এখানেই ভয়ের পোকা বাসা বেঁধেছে কিছু বিজ্ঞানীদের মনে।

নুন্যতম সৌর দশাতে শুধু যে সুর্যের বিকিরনের ভয়ই একমাত্র তা কিন্তু নয়, বরং সুর্যের রাশ সাময়িক হালকা হলে সেই ফাঁকে অন্যান্য ‘কসমিক রে’ বা মহাকাশীয় রশ্মিও পৃথিবীতে হানা দিতে পারে, যার চরিত্র সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা তেমন ওয়াকিবহাল নয়। এটা ঠিক কত বড় বিপদের কারন হতে পারে বা অদৌ এমন কিছু হবেনা- ‘গোটাটাই হয়ত কষ্ট কল্পনা’, তার কোনো নিশ্চয়তা কোন বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রই দিতে পারেনি।

আধুনিক সমকালীন বিশ্বে সৌর বিকিরনের কোনও প্রভাব ঘটেনি, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার তথ্য মতে- বিগত ২০০ বছরের ইতিহাসে এই ‘সৌর চক্র-২৪’ নূন্যতম দশা সবচেয়ে দুর্বল দশা।

সত্যিই যদি এই ‘নূন্যতম সৌরীয় দশা’র প্রভাবে ক্ষতিকর সৌর তরঙ্গ হোক বা অজানা কোনো মহাকাশীয় তরঙ্গ, স্বাভাবিকের চেয়ে যদি অধিক পরিমাণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানে, সেক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে- যেমন আসবে বাস্তুতন্ত্রে। যার সাথে সরাসরি যুক্ত বর্তমান সভ্যতার অর্থনৈতিক সুরক্ষা, খাদ্য উত্পাদন সুরক্ষা এবং অন্যান্য বিবিধ মাত্রার বিষয়, যা এক অদ্ভুত ব্যাতিক্রমী সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, নিশ্চই এটা আগামীর পৃথিবীর জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

‘করোনাল গর্ত’ থেকে প্রবাহিত অতিরিক্ত সৌর তরঙ্গ প্রবাহগুলি পৃথিবীর চৌম্বকীয় অঞ্চলে আঘাত করলে, পৃথিবীর আবহাওয়ার ভীষণ কুপ্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যার মধ্যে পৃথিবীর চৌম্বকীয় অস্থায়ী অস্থিরতা অর্থাৎ ট্যেকটনিক প্লেটের অনিয়ন্ত্রিত চলনের ফলে ভয়ানক ভূমিকম্প বা অগ্নুৎপাত হতে পারে ঘনঘন, যা সুনামির কারন হতে পারে। ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের দরুন ঋতুর বিন্যাস বদলে যেতে পারে সাময়িক, ক্ষতিকর মেরুপ্রভার দরুন মেরুপ্রদেশের বরফ গলে যেতে পারে, কিছু উষ্ণ অঞ্চলে আবার হিমযুগ ফিরে আসতে পারে ছোট সময়ের জন্য। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নেভিগেশন সিস্টেমে গণ্ডগোল হবার মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রেও ক্ষতির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেননা বিজ্ঞানীরা, যেমন টেলিযোগাযোগ বা জিপিএস সিস্টেমে চরম ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কেন করছেন?

আমাদের পৃথিবীর উপরের যে বায়ুমণ্ডল তা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির বিকিরণ দ্বারা উত্তপ্ত হয়ে যায়, যেখানে উপগ্রহেরা আবর্তন করে পৃথিবীর চতুর্দিকে। নিচের বায়ুমণ্ডলের কক্ষপথ তুলনামুলক ভারী, যার সাথে উপরের ওই বায়ুমণ্ডলের অবিরাম ঘর্ষন হয়ে চলে। এই ঘর্ষণের ফলে- সময়ের সাথে গতি হারানো উপগ্রহগুলিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে অভিকর্ষ বলের দরুন। সৌর ন্যূনতমের সময়, পৃথিবীর উপরের বায়ুমন্ডল প্রাকৃতিক ভাবে গরম হবার প্রক্রিয়াটি ব্যহত হয়, ফলত বায়ুমণ্ডল শীতল হয়ে যায় এবং যার দরুন উপগ্রহ গুলি তার স্বাভাবিক পরিবেশ হারিয়ে- মহাকাশীয় আবর্জনা হয়ে মহাশূন্যে হারিয়ে যেতে পারে সময়ের অনেক আগেই, কিম্বা অকাল পতন ঘটতে পারে।

‘সৌর ন্যূনতম’ সময়ে পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে গ্যালাকটিক মহাজাগতিক রশ্মির সংখ্যা বেড়ে যায়। গ্যালাকটিক মহাজাগতিক রশ্মি হ’ল উচ্চ শক্তির কণা যা সৌরজগতের দূরবর্তী দিকের সুপারনোভা বিস্ফোরণ এবং গ্যালাক্সির অন্যান্য তীব্র ঘটনাগুলির দ্বারা ত্বরান্বিত হয়। এটি মহাকাশচারী নভোশ্চরদের জন্য ভয়ানক ক্ষতির কারন হয়ে দেখা দিতে পারে, যার ফলে স্পেশস্টেশন সহ মহাকাশ গবেষণার যে পরিকাঠামো- সেটাই বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে বর্তমান সময়ের মতই সৌরকলঙ্ক তৈরি হয়েছিল সূর্যের পৃষ্ঠতলে, তখনও পৃথীবিতে ভয়ঙ্কর রকমের জলবায়ু সংক্রান্ত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছিল; যা প্রায় ৩০ বছর মত স্থায়ী হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০ সালেও এমনই হঠাৎ করেই আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল, বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে সেটাও এমন সৌরীয় নূন্যতম দশার কারনেই ঘটেছিল।

১৮১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট তম্বোরার আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার ফলে উদ্ভূত সুনামিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এই ১৮১৫ সালেই সংগঠিত হয়েছিল নেপোলিয়োন ও ব্রিটিশদের মাঝে ওয়াটারলুর যুদ্ধ। এই বছরের শেষে ইউরোপের ভুখন্ডে গ্রীষ্ম বা বসন্ত কোনও ঋতুই আসেনি শীত ছাড়া। মার্কিন এক গির্জার পাদ্রির লেখা ডায়রি থেকে জানা যায়, মধ্য ১৮১৫ সালে ভয়ানক তুষারপাত হয়েছিল, যার উদাহরন সমসাময়িক কালে ছিলনা। এমনকি সমস্ত জলাশয়ের জলকে জমাট বরফে পরিণত করে দিয়েছিল কয়েক বছরের জন্য।

সে সময় যে ফসলগুলি জমিতে বোনা হয়েছিল সেগুলো সবই হিমায়নের প্রভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, খুব স্বল্প সংখ্যক জমির ফসলই কাটা গিয়েছিল, ফলস্বরুপ খাদ্য ও শস্যের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায় ১৮১৫ সালের পারিপার্শ্বিক সময়কালে। আয়ারল্যান্ডের ইতিহাস মোতাবেক তাদের মুখ্য ফসল আলু মাটিতেই পচে যায় সমসাময়িক কালে, যার ফলে ব্যাপক হারে অনাহারে মৃত্যু হয়েছিল। ইংল্যান্ডে, ফ্রান্স এবং জার্মানি ইত্যাদি দেশেও পর্যাপ্ত গমের ফলন না হওয়ার দরুন রুটির ঘাটতি দেখা দেয়; খাদ্যের জন্য দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং লুটপাট ছিল অতি স্বাভাবিক ঘটনা। এশিয়ার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, উত্তর চীনে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। সে বছরই দক্ষিণ এশিয়ায়, মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে কলেরা মহামারী সৃষ্টি হয়েছিল যা আরও অনেকের প্রাণহানি ঘটিয়েছিল।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত কমিটির কিছু বিজ্ঞানীদের মতেও, বর্তমান সৌর ক্রিয়াকলাপটি পৃথিবীর জলবায়ুতে খুবই ছোট ভূমিকা পালন করবে, বরং এর চেয়ে মানব-উত্পাদিত গ্রিনহাউস গ্যাস অনেক বেশি ক্ষতিকর আগামীর জন্য। অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণের ফলে নির্গত গ্রিন হাউজ গ্যাসের প্রভাবে গত ১৫০ বছরে পৃথীবির গড় উষ্ণতা ২ ডিগ্রী বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, এটা সৌরীয় বিকিরনের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি ক্ষতিকর।

ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে নাসা একদল বিজ্ঞানী জানাচ্ছেন, এই নূন্যতম সৌরদশা মোটেই ততটা ভয়ঙ্কর নয় যতটা ১৭৯০-১৮৩০ পর্যন্ত চলা নূন্যতম সৌরীয় দশাতে ছিল। সে সময় নৃশংস শীত, ব্যাপকহারে ফসলের ক্ষতির দরুন হওয়া দুর্ভিক্ষ, তাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের মত ঘটনা ঘটেছিল, এবারে তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই এখনও পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী।

তাই, অহেতুক ভয় না পেয়ে বিজ্ঞানীদের উপরে ভরষা রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ, আর বিশ্বাসীদের জন্য তো ‘all-mighty’ রইলেনই- যিনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রক।

সুত্রঃ

https://www.spaceweatherlive.com/

https://science.nasa.gov/

https://www.sciencedirect.com/

https://electroverse.net/

1 comment on “নূন্যতম সৌর”

  1. শুভঙ্কর Reply

    খুব ভালো তথ্য সহ বিশ্লেষণ |

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *