অস্তাচলে ওয়াজিদ

উত্তরপ্রদেশের শাহারনপুরের সাধারণ তবলচি সারাফত আলীর ছেলেরা যখন বলিউডে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিল বিষয়টা এত সহজ ছিলনা মোটেও।

৯০ এর দশকের এক্কেবারে শেষ লগ্নে সালমান খানের সিনেমা ‘প্যায়ার কিয়া তো ড্যারনা কিয়া’ তে মাত্র একটি গানে সুর দেওয়ার দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। মদিরার পাত্র হাতে নায়ক আরবাজ খানের ব্যাকগ্রাউন্ডে কুয়াশা মাখা কাশ্মীরের নিসর্গ, সামনে স্বল্পবসনা নায়িকা আর অদূরে সুফি গায়কদ্বয় ‘ইকবাল সাবরি ও আফজাল সাবরি’ গেয়ে উঠছে- “সুনো দিওয়ানি, তেরি জাওয়ানি বড়ি মস্ত মস্ত হ্যাঁয়”। মারাকাটারি হিট হয়ত এ গান হয়নি, কিন্তু এ গানের সুর আজও সমান জনপ্রিয়, যে সুর আজও যুবক মনে ঝড় তোলে কোনো সুন্দরীকে দেখলে।

এর পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি দুই ভাইকে। ৯৯ তে হিমেশ রেমশিয়ার সাথে ‘হ্যালো ব্রাদারে’র ৪টে গানে সুর দিয়ে সালমন ক্যাম্পে পুরোপুরি জাইগা দখলের পথে অনেকটা এগিয়ে যায়। এরপর ‘মা তুঝে সালাম’। ২০০২ সালের ‘চোরি চোরি’, ‘মুঝসে শাদি করোগী’, পরের ৫টা বছর সেভাবে সাফল্য হাতে আসেনি, কিন্তু ২০০৯ সালে রেকর্ড ভেঙে সফলতা দিল ‘পার্টনার’ সিনেমার সবকটি গান ও ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার টাইটেল সং’টা। ২০০৮ সালে ‘হ্যালো’, ‘গড তুসসি গ্রেট হো’ এভ্যারেজ বছর গেলেও ২০০৯ সালে আবার ম্যাসিভ হিট সিনেমার গানের এলব্যাম এলো- ‘ওয়ান্টেড’, পরের বছরে ‘দাবাং’, ২০১২তে ‘রাউডি রাঠোর’ এক থা টাইগারের ‘মাশাল্লাহ’। ২০১৪ তে ‘দাওয়াতে ইশক, ‘ম্যায় তেরা হিরো’, ‘হিরোপন্তি’ আর ‘জয় হো’। এই ২০১৮ সালেও ‘দাবাং ৩’ সিনেমাতে সফল সুর দিয়েছিল যারা- তারা হল ‘সাজিদ-ওয়াজিদ’ জুটি।

অনেক অল্প বয়সেই সফলতা হাতে এসেছিল, হয়ত চলে যেতে হবে বলেই। ঠিকিই পড়ছেন, সাজিদ ওয়াজিদ জুটির ‘ওয়াজিদ’- যিনি গায়ক হিসাবেও নিজেদের সুর করা বহু গানে গলা মিলিয়েছেন- করোনা তাকে নিয়ে চলে গেল না ফেরার দেশে, মাত্র ৪২ বছর বয়েসে। আনুষ্ঠানিক ভাবে অবশ্য হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যুই লেখা আছে।

যে গলা গেয়েছিল ‘লে লে লে লে মজা লে’ সেই আওয়াজকে চিরকালের জন্য থামিয়ে দিল করোনা মহামারী।

ওয়াজিদ আলী খানের জন্য অকপট পরিবারের তরফ থেকে গভীর শোকজ্ঞাপন করছি।  

1 comment on “অস্তাচলে ওয়াজিদ”

  1. নয়ন Reply

    এ এক অপূরণীয় ক্ষতি।
    আত্মার শান্তি কামনা করি।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *